জনগণ কেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে ?

বার্তাজগৎ২৪ ডেষ্ক: বার্তাজগৎ২৪ ডেষ্ক:
প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ন, ২০ মার্চ ২০২২ | আপডেট: ৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, ২৮ মে ২০২২

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

*** জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের রাজনীতিতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সর্বজনীনতার ভিত্তিতে এদেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা পায়।

*** বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফাঁসির কাষ্ঠে যেতেও কুণ্ঠা বোধ করেন নি।

*** বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। ফলশ্রুতিতে আমরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র পেয়েছি।

*** স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে জাতির পিতার নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সংবিধানগুলোর একটি) প্রণয়ন করা হয়। এতো অল্প সময়ে সংবিধান প্রণয়ন পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত।

*** বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। এই ইতিহাসের একটি দায় ছিল। সেটা হলো যুদ্ধাপরাধের বিচার। বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধীদের বিচারের লক্ষ্যে ‘দ্যা বাংলাদেশ কোলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার, ১৯৭২ জারি হয়। যেটা দালাল আইন নামে পরিচিত। কিন্তু জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর এই দালাল আইন বাতিল করা হয়। অতঃপর জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করেন এবং তা চলমান রয়েছে।

***১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৫ সালের ৬ জুন অনুমোদিত এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রবিহীন মানুষেরা তাদের নাগরিকত্ব পায়।

***১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে বাংলাদেশের জলসীমা নির্ধারণ ও তাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোন’ আইন প্রণয়ন করা হয়। অথচ তার পরে ১৯৮২ সালে ‘ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্যা ল অব দ্যা সি’-এর আবির্ভাব হয়। তার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে মায়ানমার ও ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুবিশাল সমুদ্র সীমানা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

*** ১৯৭১ সালে সদ্য জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান প্রায় ৭০গুণ ধনী দেশ ছিল। আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানের থেকে প্রায় ৪৫ গুণ বেশি ধনী। তখন বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৮বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৪১১ বিলিয়ন ডলার। ১৯৭২ সালে এদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৯৩ মার্কিন ডলার। আর এখন মাথাপিছু আয় ২৫৯১ মার্কিন ডলার।

*** বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের মূল কারণ হলো- রাষ্ট্র পরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভিত্তিক নীতি গ্রহণ ও ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় থাকা। এতে সরকারের গৃহীত সব অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতির ধারাবাহিকতা ও গণমুখিতা নিশ্চিত হয়েছে।

*** রূপকল্প-২০২১’র আলোকে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তর ঘটেছে। ফলে নব নব দিগন্তে সম্ভাবনার হাতছানি জনগণের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।

*** সরকারের গৃহীত বিশেষ বিশেষ উদ্যোগ দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন সাধন করেছে। তন্মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প, আমার বাড়ি আমার খামার প্রভৃতি  দেশের দারিদ্র্য নিরসনে ভূমিকা রেখেছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় কয়েক গুণ সম্প্রসারণ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী কোন না কোন কর্মসূচির আওতায় আনা এবং  কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ কর্মসূচি চালু করা হয়।

*** দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎসেবার আওতায় আনা হয়েছে।

*** ভৌত অবকাঠামো ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে মেগা প্রকল্পগুলো সাফল্যের সাথে বাস্তবায়ন করা। সামনের দিনে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ সব মেগা প্রকল্পের সুফল এবং ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল দেশের অর্থনীতিতে আরও গতি সঞ্চার করবে।

*** দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বয়স ৩০ বছরের নিচে।  ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ও তারুণ্যের উদ্ভাবনী শক্তি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করবে। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে রেখে ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে সরকার।

এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বারোপ করে ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্ষাতের উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা, কর্মসৃজনমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন, কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ইত্যাদির কারণেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া।