সাংস্কৃতিক লড়াই হেরে গেলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরাজয় নিশ্চিত

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক : বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক :
প্রকাশিত: ২:১২ পূর্বাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২২ | আপডেট: ২:১২ পূর্বাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২২
হাসান মোরশেদ

বাউল শিল্পী মমতাজ বেগমকে যখন টিভি অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি’তে এনে স্টার বানানো হয়, মমতাজ এর বহু আগে থেকেই সুপার স্টার ছিলেন বাংলার প্রান্তিক মানুষের কাছে। তাঁর গানের ক্যাসেট বিক্রী হতো হাজারে হাজারে। কিন্তু টিভি অনুষ্ঠানে এনে তাঁকে ’জাতে’ তোলা হলো। জাতে উঠে তিনি ধীরে ধীরে মাননীয় সংসদ সদস্য হলেন, কোক স্টুডিও ইত্যাদির আইকন হলেন।

একই কাণ্ড হয়েছিলো শাহ আব্দুল করিমকে ঘিরে। হুমায়ুন আহমদকে তাঁকে নিয়ে টিভি অনুষ্ঠান করার পর নাগরিক সমাজ হুমড়ি খেয়ে পরলেন। অথচ এই লোক যে সেই ’৫০ এর দশক থেকে হাওর অঞ্চল মাতিয়ে রেখেছেন সেই খবর নাগরিকদের কাছে আগে পৌঁছায়নি।

শিল্পী মমতাজ সংসদ সদস্য হয়েছেন, মিডিয়ার আলোতে এসেছেন- এটা তাঁর জন্য প্রাপ্তি। বাংলাদেশের জন্য তাঁকে হারানো। এক মমতাজ যদি সেই আগের মমতাজের মতো মাঠে প্রান্তরে গ্রামীন আসরে গান গেয়ে বেড়াতেন, আজেবাজে ওয়াজে দর্শক শ্রোতার ভীড় কম হতো।

মমতাজকে সংসদ সদস্য না বানিয়ে উচিত ছিলো তিনি যেনো নির্বিঘ্নে তাঁর মতো গাইতে পারেন সেটা নিশ্চিত করা। নিশ্চিত করা শরীয়ত বয়াতি, রীতা দেওয়ান, শামসুল হক চিশতীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ধরে রাখা। এতো প্রতিকুল পরিস্থিতিতেও শুধু সুনামগঞ্জ জেলাতেই বেঁচে আছেন সহস্রাধিক বাউলা গানের শিল্পী। কেবল দারিদ্র নয়, তাঁদের লড়তে হচ্ছে নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিন্যাসেরও বিরুদ্ধে।

শিল্প সংস্কৃতির নামে নামে অমুক একাডেমি, তমুক ফেডারেশন এসবের পেছনে কোটি কোটি টাকা নষ্ট না করে এসব মানুষদের বাঁচিয়ে রাখা হোক, তাঁদেরকে ভরসা দেয়া হোক, তাঁদের উত্তরাধিকার তৈরী করা হোক। সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আসল যোদ্ধা এরা, সাংস্কৃতিক লড়াই হেরে গেলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরাজয় নিশ্চিত।

হাসান মোরশেদ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক। 

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ