স্টেডিয়ামগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়ার নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

বার্তাজগৎ২৪/কেএইচ
বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক: বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ন, ১১ মে ২০২২ | আপডেট: ১০:৩২ অপরাহ্ন, ২৭ মে ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশের জেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলো শুধু ক্রিকেটের জন্য নির্দিষ্ট না করে, সব খেলার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশ দেন। গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘খেলাধুলা এক ধরনের শরীরচর্চা। এতে শারীরিক, মানসিকভাবেও আমাদের ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট উন্নত হবে।’

শহরের শিশুরা ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঢাকা শহরে খেলাধুলার জায়গা কম। শিশুরা ফ্ল্যাটে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। ফ্ল্যাটে থেকে শিশুরা ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে। তাদের বাবা-মায়েদের উচিত ছেলেমেয়েরা যাতে হাত-পা ছুড়ে খেলতে পারে এমন ব্যবস্থা করা।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এখন তো শিশুরা সারাক্ষণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাডের মধ্যে পড়ে থাকে, এটা আসলে মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে সুস্থতার লক্ষণ না। সেজন্য আমি শিশুদের বাবা-মা ও অভিভাবকদের অনুরোধ করব কিছু সময়ের জন্য হলেও ছেলেমেয়েরা যাতে হাত-পা ছোড়ে খেলতে পারে আপনাদের সেই উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রামীণ খেলাগুলো আবারও চালু করার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, আমাদের এ খেলাগুলো আরও এগিয়ে যাক। আমরা এ বিষয়ে সহায়তা করছি। ডাংগুলি, কাবাডি থেকে শুরু করে আমাদের দেশীয় খেলাগুলো আন্তঃস্কুল প্রতিযোগাতায় আনতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকায় খেলার মাঠ থাকা একান্তভাবে প্রয়োজন। ইতিমধ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছে যেখানে খালি জায়গা পাচ্ছি, খেলার মাঠ করে দিচ্ছি।’

দেশের প্রতিটি উপজেলায় ছোটো পরিসরে খেলার মাঠ নির্মাণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সারাদেশে প্রত্যেক উপজেলায় খেলার মাঠ, সেই খেলার মাঠগুলো খুব বড় স্টেডিয়াম না, ছোটো করে, মিনি স্টেডিয়াম আমি নাম দিয়েছি। সেটার নির্মাণকাজ চলছে। এটা সময় নিচ্ছে, আমি মনে করি এটা আরও দ্রুত শেষ করা দরকার। এপর্যন্ত ১৮৬টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আরও ১৭১টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আমি মনে করি, এ বিষয়ে যথেষ্ট সময় নেওয়া হচ্ছে, যাতে আর সময় নেওয়া না হয় সেটা দেখতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বিশেষ এক আনন্দঘন দিন। এটি এক ঐতিহাতিক মুহূর্ত। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনবদ্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮৫ জন গুণী খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠককে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান করতে পেরে আমরা অভিভূত।’

অনুষ্ঠানে ২০১৩ সালের জন্য ১১ জন, ২০১৪ সালের জন্য ১০ জন, ২০১৫ সালের জন্য ১১ জন, ২০১৬ সালের জন্য ১৩ জন, ২০১৭ সালের জন্য ১১ জন, ২০১৮ সালের জন্য ১০ জন, ২০১৯ সালের জন্য ১১ জন এবং ২০২০ সালের জন্য ৮ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০২০ সালের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামালকে সংগঠক হিসেবে মরণোত্তর পুরস্কার প্রদান করা হয়। তার হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে যারা মরণোত্তর পুরস্কার পেয়েছেন তাদের পক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যরা পুরস্কার গ্রহণ করেন।

বার্তাজগৎ২৪/কেএইচ