আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের চক্রান্তে বেঈমানরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো: আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৩ অগাস্ট ২০২০ সময়ঃ রাত ৮ঃ৩৬
আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের চক্রান্তে বেঈমানরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো: আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি
আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের চক্রান্তে বেঈমানরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো: আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি

 

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক: 

আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের চক্রান্তে বেঈমানরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। 

তারা বলছেন, "মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিলো তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন আর পাকিস্তানকে সহায়তা করেছিলো মার্কিন পরাশক্তি। বাংলাদেশের বিজয়ের মাধ্যমে তাদের পরাজয় হয়েছিলো। পরাজিত সেই শক্তি কখনোই বাংলাদেশের বিজয় মেনে নিতে পারেন নাই। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র করেছিলো। তাদের চক্রান্তে এ দেশের বেঈমান মীর জাফররা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো।"

আজ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির উদ্যোগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত '১৫ই আগষ্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন দলের শীর্ষ নেতারা। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চলনায় ভার্চুয়ালি এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, "স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সাড়ে তিনবছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলো। ওই সময়ে গ্লোবাল রাজনীতির যদি দেখা যায়, তখন বিশ্ব রাজনীতিতে দুটি ধারা ছিলো। একটি ধারা ছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে, আরেকটি ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়েনের নেতৃত্বে। আমাদের পার্শবর্তি রাষ্ট্র ভারত সেই সময় সোভিয়েত ব্লকে, পক্ষান্তরে পাকিস্তান ছিলো  মার্কিন রাষ্ট্রের পক্ষে। যার ফলে গ্লোবাল পলেটিক্স চলে আসে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার পরে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করে মার্কিন ও তাদের মিত্ররা। পক্ষান্তরে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের সহায়তা করেছে। তাদের সহায়তায় নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।

তিনি বলেন, "আমাদের স্বাধীনতার মধ্যে দিয়ে একদিকে একাটি জাতির সৃষ্টি হলো একটি দেশ হলো। আরেকদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটা জয়-পরাজয় হলো। যারা আমাদের পক্ষে ছিলো তারা বিজয়ী হলেন, আর বিপক্ষের শক্তি পরাজিত হলো। এই পরাজয় আন্তর্জাতিক মহল মেনে নিতে পারেন নাই। যার কারণে শুরু থেকে পাকিস্তান ও তাদের পশ্চিমা পরাশক্তি প্রভু তারা আমাদের বিজয়কে মেনে নিতে পারেন নাই। তাই তাদের চক্রান্তই ছিলো বঙ্গবন্ধুর সরকারকে কিভাবে উৎখাত করা যায়। কিভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা যায়। ১৯৭২ সালে সরকার গঠনের পরে তারা নানান ভাবে চেষ্টা করেছিলো সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য। নানান ধরণের সন্ত্রাসী, উস্কানি কর্মকাণ্ড, হাটবাজারে আগুন দেয়া, পাটের গুদামে আগুন দেয়াসহ নানান অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড পট রচনা করেছিলো বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত করা জন্য। আর তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সফল হয়েছিলেন। তারা বঙ্গবন্ধুর সরকারকে শুধু উৎখাতই নয়, তার মতো একজন মহামানবকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো।"

হানিফ বলেন, "বাংলাদেশের কিছু ষড়যন্ত্রকারী যদি আন্তর্জাতিক শক্তিকে সহায়তা না করতেন বা তারা যদি মূখ্য ভূমিকা না রাখতেন তাহলে বাহিরের কোন শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারতো না। বঙ্গবন্ধু বাঙালিদের প্রচণ্ড বিশ্বাস করতেন। তিনি ভাবতে পারেন নাই কোন বাঙালি কোনদিন তাকে হত্যা করতে পারে বা তার বিরুদ্ধে যেতে পারেন। দূভার্গ্য আমাদের আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীরা সফল হয়েছিলেন, আমাদের দেশের বেঈমান মীর জাফরদের মাধ্যমে।"

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, "স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ভারত জুজু ভীতি দেখিয়ে একটি রাজনীতি শুরু হয়। এ সংকটটা ছিল প্রকট এবং বিরাট। এর নেপথ্যের নায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ষড়যন্ত্রটা পাকাপোক্ত করেন। সেসময় মুক্তিযুদ্ধের শক্তির ভিতরেও ছিল একটি বিভেদ। জাতির পিতাকে হত্যায় সেটা কেউ কাজে লাগানো হয়েছে।১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। এটা পাকিস্তান বানানোর একটি ষড়যন্ত্র। সেই থেকে দীর্ঘ ২১ বছর এ ষড়যন্ত্র চলেছে।"

"বঙ্গবন্ধু হত্যার কলঙ্ক থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ক্ষমতায় আসার পরেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করলেও তার পিছনের শক্তি করা তারা কিন্তু এখনও একেবারে আড়ালেই রয়ে গেলো। কারা আমাদের খাদ্য সংকট সৃষ্টি করেছিলো, সেই আন্তর্জাতিক শক্তির মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। সেদিন মার্কিন সাম্রজ্যবাদ যে সমগ্র হত্যাকাণ্ডের নীলনকশাটি বাস্তবায়ন করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার যে দম্ভ কে ছেন সেগুলো মানুষের কাছে বারবার নিয়ে আসতে হবে, মানুষকে জানাতে এবং বুঝাতে হবে। তাহলে মানুষ শত্রু ও মিত্রকে চিহিৃত করতে পারবে।"

নানক বলেন, "এবারের শোকদিবসে আমরা শপথ নিবো। আমরা সংগঠিত হবো। শক্তি সঞ্চয় করবো। সতর্ক হবো। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকবো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না সেদিন কিন্তু নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছিলো, নেতৃত্বে ছিলো কাপুরুষতা, ভীরুতা, দৌদুল্যমানতা এবং আপোষকামীতা। সেগুলো আমরা দেখেছি। তাই আজকের প্রেক্ষাপটে সেই ভীরুতা, কাপুরুষতা, আপোষকামীতার কোন সুযোগ নেই। শত্রুকে শত্রু হিসাবেই চিহিৃত করতে হবে, মিত্রকে মিত্র হিসাবেই চিহিৃত করতে হবে। বিএনপি, জমাতা ও আইএসআই শক্তি তাদের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অত্যন্ত সচল ও সচেষ্ট আছে।"

আরও আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসরিন আহমেদ, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, লেখক ও সাংবাদিক আবেদ খান, ভাষাতাত্ত্বিক  শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার  প্রমুখ।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

Share on: