আর যেন উত্তরবঙ্গের মানুষকে মঙ্গা শব্দটা উচ্চারণ করতে না হয়ঃ শেখ হাসিনা

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৬ অক্টোবর ২০১৯ সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ৩৭
আর যেন উত্তরবঙ্গের মানুষকে মঙ্গা শব্দটা উচ্চারণ করতে না হয়ঃ শেখ হাসিনা
আর যেন উত্তরবঙ্গের মানুষকে মঙ্গা শব্দটা উচ্চারণ করতে না হয়ঃ শেখ হাসিনা

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে আর্থিক ও সামাজিক উন্নতি হোক, আর যেন কখনোই মঙ্গা শব্দটা কুড়িগ্রামসহ উত্তরবঙ্গের মানুষকে উচ্চারণ করতে না হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, রেলের মাধ্যমে অল্প খরচে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। তাই রেলকে বন্ধ নয় এটিকে লাভজনক করতেই নানা পদক্ষেপ নিছছে সরকার। রেল যেমন একেবারে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল এবং লাভজনক ছিল না বলে যারা এটাকে বন্ধ করতে চেয়েছিল আমরা তাদের দেখাতে চাই, একে লাভজনক করা যেতে পারে, উন্নত করা যেতে পারে।

আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা-কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটের আন্তঃনগর ট্রেন চালুকরণ এবং রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনিরহাট এক্সপ্রেসের র‌্যাক প্রতিস্থাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

দেশের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, রেলে সাধারণ মানুষই সব থেকে বেশি চলাচল করে। এর আগে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা একে একে রেলকে সম্পূর্ণ রূপে শুধু ধ্বংস করা না, সেটা বন্ধ করে দেওয়ারই পরিকল্পনা নিয়েছিল।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে যেহেতু লাভবান না সেহেতু চলবে না-এই ধরনের একটা নীতি নিয়েছিল এবং তারা সেই মোতাবেক কিছু পদক্ষেপও নেয়। আমি মনে করি যে, এটা আমাদের দেশের জন্য একটা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত ছিল। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পদক্ষেপে যমুনা নদীর উপর রেলযোগাযোগ তৈরিতে উত্তরবঙ্গের সাথে রাজধানীর একটা ভাল যোগাযোগের সুব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, উত্তরবঙ্গে যেসব রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল, সেগুলো চালু করেছি। কারণ রেল যোগাযোগ সহজ হলে দেশের পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাত করার সুযোগ পেলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবে বলেও মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রামকে সব সময় আমরা গুরুত্ব দেই। কারণ কুড়িগ্রাম, রংপুর বা ওই অঞ্চলটাই ছিল দুর্ভিক্ষ পীড়িত এলাকা। শুধু কুড়িগ্রাম বলে না। আমি মনে করি, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট থেকে শুরু করে একেবারে নীলফামারী, গাইবান্ধাসহ যেসব এলাকা সবচেয়ে বেশি দুর্ভিক্ষ পীড়িত ছিল, সেখানে আমি নিজে ঘুরে ঘুরে দেখেছি। সেইসব অঞ্চলেই স্বাভাবিকভাবে উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সারা বাংলাদেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসব। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলও। কুড়িগ্রাম যেমন রেল দেখেনি, টাঙ্গাইল কখনও রেল দেখেনি, বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেল দেওয়ার পর তারা রেল দেখল। যমুনা নদীতে আবার নতুন করে রেল লাইন তৈরির ব্যবস্থা নিয়েছি। পাশাপাশি একেবারে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাচ্ছি। এখান থেকে মংলা পোর্ট পর্যন্ত এবং পদ্মাসেতুর সাথে রেল যোগাযোগ আমরা করে দিয়েছি। তাতে মুন্সিগঞ্জ হয়ে একেবারে বরিশালের সেই পায়রা বন্দর পর্যন্ত চলে যাবে। প্রায় বরগুনার কাছাকাছি চলে যাচ্ছি রেল নিয়ে। 

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেল সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নেতা ও এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। 

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ 

 

 

Share on: