একটি ব্রিজেই খুশি তারা!

দিদার,বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ২০ এপ্রিল ২০১৯ সময়ঃ বিকেল ৪ঃ০২
একটি ব্রিজেই খুশি তারা!
একটি ব্রিজেই খুশি তারা!

 

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধি:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উন্নয়নের ছোঁয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে একসময়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও উন্নয়নের ছোঁয়া মুক্ত গ্রামও রুপান্তরিত হচ্ছে শহরে। সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে প্রতিটি অঞ্চলের রূপরেখা বদলে গেলেও কিছু কিছু গ্রাম এখনো থেকে যাচ্ছে অবহেলিত।

তেমনই একটি অবহেলিত গ্রাম আড়ুয়াকান্দি। গ্রামটি বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যতম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সংসদীয় এলাকা গোপালগঞ্জ সংসদীয় আসন-২ এর অন্তর্গত কাশিয়ানি উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের ১৩ থেকে ১৪ হাজার জনবসতির গ্রাম। দেশের প্রতিটি অঞ্চল ধীরে ধীরে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেলেও গ্রামটি খুবই অবহেলিতো অবস্থায় পড়ে আছে। বিশেষ করে আড়ুয়াকান্দি খালের উপরে কোন ধরনের ব্রিজ না থাকায় খালের পূর্ব পাড়ের লোকজনকে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে দিনযাপন করতে হচ্ছে। কেবলমাত্র আড়ুয়াকান্দির লোকজন নয় বরং আড়ুয়াকান্দি খালের উপর তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাগড়াবাড়িয়া, মাইজকান্দি, মাহমুদপুর গ্রামের লোকজনও নিয়মিত যাতায়াত করে।

শুধুমাত্র খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে তাদের সমস্যা দূর হবে তা নয়, বরং খালের পূর্ব পাড়ের লোকদের জন্য একটি ভালো রাস্তারও প্রয়োজন।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে খালের এক পাশে রয়েছে একটি অনেক পুরনো বটগাছ যা সকলে এক নামে চিনে। বট গাছ থেকে সোজা দক্ষিণে একটি ভাঙচোরা পথ দেখা যায়, এটিই  আড়ুয়াকান্দি বাজারে যাওয়ার এক মাত্র পথ যা বর্ষাকালে সম্পূর্ণভাবে ডুবে যায়। সামান্য বৃষ্টি হলেও কাদা হয়ে থাকে সংকীর্ণ ও সরু রাস্তাটি।

স্থানীয়দের সহায়তায় এই আড়ুয়াকান্দি খালের উপর তৈরি করা হয়েছে বাঁশের একটি সাঁকো যার মাধ্যমে স্থানীয়রা খালটি পারাপার হয়। সেই একটি কিংবা দুইটি বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, স্থানীয়রা ছাড়া নতুন কোন লোক হলে যেকোনো মুহূর্তে খালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একপ্রকার প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাঁকো পারাপার করে জীবন কাটাচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে নারী বৃদ্ধ সকলেই।

খালের পশ্চিম পাড়ে রাস্তার পাশে রয়েছে একটি কবরস্থান, আর পূর্ব পাড়ে রয়েছে একটি করে প্রাইমারি স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসা। খালের পশ্চিম পাড়ের বাচ্চাদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পাড় হয়ে স্কুলে আসতে হয়। যা অভিভাবকদের জন্য নিয়মিত চিন্তার অন্যতম কারণ। 

অপরদিকে খালের উভয় পাড়ের লোকজনের মাঠের ফসল ও মালপত্র নিয়ে বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপারের অসুবিধা তো আছেই। 

 

 

স্থানীয়রা জানিয়েছে, খালের পূর্ব পাড়ে কোন লোক মারা গেলে এই মৃত লাশ নিয়ে, কষ্ট করে নদী পার হয়ে কবরস্থানে যেতে হয় তাদেরকে। একটি শোকাহত পরিবারকে লাশ দাফন করতে গিয়ে যে পরিমাণ কষ্ট পেতে হয় তা দেখতে খুবই বেদনাদায়ক।

বর্তমানে সারা দেশে সরকার যে সকল উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে তার তুলনায় আড়ুয়াকান্দি খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ খুবই সামান্য ব্যাপার। তাই খালের পূর্ব পাড়ের লোকদের সমস্যর কথা বিবেচনা করে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলে, ছোট ছোট শিশুরা যেমন নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে তেমনি স্থানীয়দের চলাচলের সমস্যাও দূর হবে। 

ফেসবুক ব্যবহারকারী স্থানীয় এক যুবক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে এই সমস্যাটি নিয়ে তারা ফেসবুকে একটি পোষ্টের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন গ্রামে অবস্থিত সবচেয়ে বড় বটগাছ টির উত্তরে রয়েছে একটি সাঁকো, সাঁকোর উত্তর পাশ দিয়ে একটি রাস্তা পূর্বে মাজকান্দি গ্রাম দিয়ে আড়ুয়াকান্দি গ্রামে গিয়ে পৌঁছেছে, যদি এই খালের উপর ব্রিজটি নির্মাণ করা হয় তাহলে শুধুমাত্র আড়ুয়াকান্দি গ্রামের লোকজন নয় বরং মাজকান্দি গ্রামের লোকজনও নানাভাবে উপকৃত হবে। বিশাল একটি ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে খালের উভয় পাশের সমস্ত মানুষ।

তাই তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন আড়ুয়াকান্দি খালের উপরে একটি ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি রাস্তাটি পুনরায় নির্মাণ করার জন্য। তাহলে আড়ুয়াকান্দি গ্রামের লোকদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি আদায়ের পাশাপাশি ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে সর্বস্তরের জনসাধারণ।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ