কাদের আউট, রাজ্জাক ইন

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ সময়ঃ ভোর ৫ঃ২৪
কাদের আউট, রাজ্জাক ইন
কাদের আউট, রাজ্জাক ইন

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর। সম্মেলনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনার শেষ নেই। বরাবরের মত সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা থাকবেন এটা নিশ্চিত কারণ আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে শেখ হাসিনার বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসছেন এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২০১৬ সালে। ২১ তম ঐ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তবে আসছে ২২ তম সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে এমনটাই নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেষ মুহুর্তে নিজের সাধারণ সম্পাদক পদ ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের। 

ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দিলে পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে আছেন কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে এমটাই জানা গেছে। আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম মেম্বার জানান, গত তিন বছরে ওবায়দুল কাদেরের সফলতার সাথে ব্যর্থতাও কম নয়। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে অনেক নেতার সাথেই তার দূরত্ব রয়েছে।দল তৃণমূল নেতাকর্মী ও জনগণ নির্ভর না করে উনি মিডিয়ার খোরাক হয়েছেন। তাছাড়া উনি অনেক অসুস্থ ডাক্তার উনাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে বলেছেন। ওনি চাইলেই আগের মত পরিশ্রম করতে পারবেন না।

আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তৃণমুল গোছাতে ব্যর্থতাসহ তৃণমূলের কোন্দল সৃষ্টি করেছেন। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বারবারই বলেন যে, আওয়ামী লীগের শক্তি তৃণমূলের নেতাকর্মী। আর ওবায়দুল কাদের সেই তৃণমূলেই কোন্দল সৃষ্টি করেছেন। দলের পরিশ্রমী ও ত্যাগী নেতাদের থেকে নিজের পছন্দের লোকদের প্রধান্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ফেনীর জয়নাল হাজারী টেলিভিশনের এক টকশোতে বলেছেন, ওবায়দুল কাদের নিজাম হাজারীর সার্কিট হাউজে বিশেষ সুবিধা নিয়ে থাকেন। 

শুধু ফেনী নয় তৃণমূলের অনেক ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাকর্মীরা কাদেরের ব্যক্তিগত পছন্দের লোকদের দ্বারা কোনঠাসা হয়ে আছে। এমনকি তৃণমূলের এক নেতার গায়ে হাত তোলার অভিযোগও রয়েছে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। 

আওয়ামী লীগের এক সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের বরাবরে মত এবারের সম্মেলনেও কিছু চমক থাকবে। সেটা হতে পারে সাধারণ সম্পাদক পদটি ঘিরে৷ এখন পর্যন্ত এ পদের জন্য সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য, দু'জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ পাঁচ-ছয়জনের নাম আলোচনায় আছে। সবকিছুর বিচার-বিবেচনায় যিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তারই সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে শেষ কথা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। দলীয় সভাপতির পছন্দের ব্যক্তিকেই সবাই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন।

গত কয়েকদিনে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় এবং ধানমণ্ডির দলের কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন নেতার সাথে কথা হয়। এসময় মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ ওবায়দুল কাদেরকে দুহাত উজার করে দিয়েছেন। যতবার দল ক্ষমতায় এসেছে প্রতিবারই তিনি মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তিনি আর কি চান? কিন্তু দলকে তিনি কি দিয়েছেন? সারাদেশের তৃণমূলের কথা বাদ দিলাম,  ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের থানা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ইতিহাস কারো অজানা নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মগ্রহণের শততম বছর পূর্ণ হবে। বছরটিকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। আর এ উপলক্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যপক উদ্যোগ গ্রহণ করবে আওয়ামী লীগ। তাছাড়া আগামী তিন বছরে আওয়ামী লীগের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের পরিকল্পনা তা সুসম্পন্ন করার জন্য সভাপতির আস্থাভাজন, ডায়নামিক ও নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন সাধারণ সম্পাদক প্রয়োজন। এসব বিবেচনায় ড. আব্দুর রাজ্জাকের বিকল্প নেই। 

উল্লেখ্য, ড. আব্দুর রাজ্জাকের নাম গত সম্মেলনের সময়ও আলোচনায় ছিল। ছাত্রজীবনে তিনি ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। দুই মেয়াদে মন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তিনি।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

আরো পড়ুন 

পদ্মা সেতু: কাল বসছে ১৮ তম স্প্যান

Share on: