“কোর্ট মার্শাল শুধু থিয়েটার নয় থিয়েটারের থেকে বেশি কিছু”

মোঃ ফজলুল হক পাভেল, জাককানইবি প্রতিনিধি:

প্রকাশিতঃ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ সময়ঃ দুপুর ১২ঃ২৫
“কোর্ট মার্শাল শুধু থিয়েটার নয় থিয়েটারের থেকে বেশি কিছু”
“কোর্ট মার্শাল শুধু থিয়েটার নয় থিয়েটারের থেকে বেশি কিছু”

 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধের জায়গা থেকে নতুন প্রজন্ম অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধ হওয়া উচিত শ্রদ্ধা ও গর্বের আশ্রয়স্থল। একজন রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে একজন শিল্পপতি পর্যন্ত যাওয়ার যে পথটা আছে সেই পথের প্রতিটি ধাপে ধাপে মোড়ে মোড়ে যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আছে তা জাগানো দরকার। তার প্রকাশ ও বিকাশ দরকার। সেজন্য চাই নীতিনৈতিকতা ও স্বদেশী সংস্কৃতি চেতনার বিকাশ।

এনভায়রনমেন্টাল থিয়েটার “কোর্ট মার্শাল” তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ ভাবনায় ইতিবাচক পদক্ষেপ রেখে চেতনা তৈরি করবে বলে “কোর্ট মার্শাল” টিম বিশ্বাস করে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত একটি সুসজ্জিত ও সুগঠিত বাহিনীর মতো ৬০ জন সেনা সদস্য দৃপ্ত শপথকে বুকে ধারণ করে প্রতি নিয়ত নিজেদের প্রস্তুত করে তার ফলাফল দিয়েছে গত ১৬ই ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়া কোর্ট মার্শাল নাটক। এনভায়রনমেন্টাল থিয়েটার “কোর্ট মার্শাল” এর সেট, লাইট, কস্টিউম, প্রপস্, মিউজিক ও মেক-আপ এর মাধ্যমে পুরো মঞ্চটিকে মনে হয়েছে মিনি ক্যান্টনমেন্ট। দর্শকরা হয়ে উঠেছিলো এই নাটকের অংশ। 

/

কোর্ট মার্শাল নাটকের নির্দেশক মাজাহারুল হোসেন তোকদার এ নিয়ে তার চিন্তাভাবনা ভাগ করছেন পাঠকদের সাথে।

"কোর্ট মার্শাল শুধু থিয়েটার নয় থিয়েটারের থেকে বেশি কিছু। মাত্র ১৩ দিনে ৪০,০০০ স্কয়ার ফিট একটি জায়গাকে মঞ্চায়ন উপযোগী করা, স্ক্রিপ্ট সম্পাদন, পুনঃলিখন, ১২০ জন মানুষের চরিত্র নির্মাণ ও পোশাক তৈরি, ডাবিং, কম্পোজ, প্রপস্, কম্পোজিশন তৈরি করা বিষয়গুলো বলা যত সহজ করা ততই কঠিন। কি কি পারিনি যদি তার ফিরিস্তি তুলে ধরি তবে মনে হবে “কোর্ট মার্শাল” কিছুই হয় নি। প্ল্যানের মধ্যে ছিল, নাটক শুরুর দশ মিনিট দর্শকদের সাথে মিশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে সেনা সদস্যরা। কমান্ডো অপারেশনে হেলিকপ্টার, ফায়ার ওয়ার্ক, থ্রিডি ম্যাপিং ও ট্যাংক দেখাবো। পারিনি। প্ল্যান ছিল ক্যান্টনমেন্টটা ফুলের টব দিয়ে সাজানো। আমরা পারিনি। 

বার্থ ডে পার্টিতে কেক, ফানুস ওড়ানো, মোটরবাইক এলইডি লাইট দিয়ে সাজানো। আমরা পারিনি। আকবরের হাতের বন্দুকটায় আগুন ও ধোয়ার ইফেক্ট দেখানো। আমরা পারিনি। সকল সদস্যদের হাতে একটা বিস্কিট ও এক কাপ চা তুলে দিতে পারিনি আমরা। তবে যা পেরেছি, কাজকে এগিয়ে নিতে কয়েক ঘণ্টায় আমাদের যা আছে তাই দিয়ে একটা তাবু তৈরি করেছি। ৪০,০০০ স্কয়ার ফিট জায়গাকে শারীরিক শ্রমের মধ্য দিয়ে “কোর্ট মার্শাল” মঞ্চায়ন উপযোগী করেছি, কিছু মানুষ দৈনিক ২১ ঘণ্টার উপর নিরলসভাবে নিবেদিত চিত্তে কাজ শেষ করেছি। 

সর্বোচ্চ মিতব্যায়ীভাবে প্রোডাকশনের ব্যয়ভারকে কমিয়েছি। দুই মুট করে চাল, একটা করে ডিম ও দশ টাকা দিয়ে এক বেলা কলা পাতায় সবাই মিলে খেয়েছি। অবশ্য তার পরে নানা ঘটনা ও দুর্ঘটনা ঘটেছে, থাক সে কথা নাই বা বলি। বিজয়ের ৪৭ বছরে ৪৭ ফিটের এক এক পতাকা বানানো থেকে নামানো নিয়ে কত কাণ্ডইনা ঘটে গেছে। ১৪ তারিখ রাতে আমাদের হাতে এসে পৌঁছলো পতাকা। কিন্তু একি পতাকার অনুপাত ঠিক নেই, এমনকি লাল বৃত্তটাও ছোট।

ঐ রাতেই পুনর্বার সেলাইয়ের জন্য পতাকা পাঠানো হলো। পতাকা ঠিক হয়ে ১৫ ডিসেম্বর রাতে এলো, কিন্তু যখন এলো তখন টাঙ্গানোর কেউ নেই। ও হ্যাঁ আরেকটি কথা অবশ্যই জানানো প্রয়োজন। এই ৪৭ ফিট পতাকাসহ আরো ছোট ছোট ৭০টি পতাকা কেনার টাকা আমরা সংগ্রহ করেছি সোশাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে। ১৬ ডিসেম্বর সকালে প্রডাকশন ম্যানেজার দায়িত্ব নিলেন পতাকা টাঙ্গানোর, এরপর একবার নামানোর ট্রায়ালও দেখা হলো, কিন্তু শো’এর সময় জাতীয় সঙ্গীতের যন্ত্রসঙ্গীত শুরু হয়েছে কিন্তু পতাকা নামেনি। প্রোডাকশন ম্যানেজার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই পতাকা নামালেন। যেনো এক গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠা ক্ষণ। এভাবেই শেষ হলো আয়োজন।

দীর্ঘালাপে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই কোর্ট মার্শাল টিম সারা বাংলাদেশ ভ্রমণ করে বাংলার মানুষের জাতীয় মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরেকবার নাড়া দেবে। 

 

 

 

বার্তাজগৎ২৪/ কে এইচ

Share on: