চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ঝুঁকিগুলো কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে?

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ৭ নভেম্বর ২০১৯ সময়ঃ বিকেল ৩ঃ৪০
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ঝুঁকিগুলো কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে?
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ঝুঁকিগুলো কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে?

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

সরকার ব্যবস্থার ভবিষ্যত কী? বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল ফিউচার কাউন্সিলের বার্ষিক বৈঠকে বিশ্বজুড়ে শত শত বিশেষজ্ঞ সংযুক্ত আরব আমিরাতে সমবেত হতে যাচ্ছে। যার লক্ষ্য একটি টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যত গঠন এবং এর মধ্যে সরকার কীভাবে খাপ খাওয়াতে পারে তা চিহ্নিতকরণ । আজকের সরকার ব্যবস্থা ২০ শতকের প্রযুক্তি নিয়ে ১৯ শতকের প্রতিষ্ঠান, যা মোকাবেলা করছে ২১ শতকের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জগুলো, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বায়োটেকনোলজি থেকে শুরু করে ভুয়া সংবাদ পর্যন্ত অন্তর্ভূক্ত। নাগরিকরা দ্রুত পরিষেবা চায় এবং তাদের সরকারগুলি ভোক্তা প্রযুক্তির ব্যবহারের দ্বারা দক্ষতার সাথে তা সম্পাদন করুক এই প্রত্যাশা করে। এবং এগুলি সবই এসেছে চরম জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তনের নিম্নগতি এবং অসমতার হুমকির মধ্যে।

তাহলে সঠিক উত্তরটি কি? সরকারি কর্মচারীদের আরও কর্মতৎপর হওয়ার সময় এসেছে। চৌকশ শাসন ব্যবস্থা অভিযোজিত, মানবকেন্দ্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই নীতি নির্ধারণী, যা কর্মপন্থা বিকাশের স্বীকৃতি দেয় এবং তা আর সরকারগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং ক্রমবর্ধমান বহু-অংশীদারীত্বের প্রচেষ্টার অংশ। এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, সরকারী কর্মচারীরা এই প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে। সরকারগুলো তাদের কর্মচারীদের নতুন নৈপুণ্য শেখানো ব্যতীত নতুন এ অভিমুখে অগ্রসর হতে পারে না।

অনেক সরকার ইতোমধ্যে  চিত্তাকর্ষক ফলসহ চটুল কর্মপদ্ধতির পরীক্ষা করছে। উদাহরণস্বরূপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারী কর্মচারীদের "সংকট মোডে" কাজ করতে উৎসাহের দ্বারা এবং বিভিন্ন বিভাগ ও বেসরকারী খাতের অংশীদারদের একত্রিত করে  নীতিগত সমস্যা সমাধানের জন্য ১০০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে অভাবনীয় সাফল্য লাভ করছে । পুলিশ, স্থানীয় সরকার, বিদ্যালয় এবং মিডিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি বড় দল ট্র্যাফিক মৃত্যু কমাতে দেশের সবচেয়ে মারাত্মক পাঁচটি হাইওয়েতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিল। তাদের সমাধানটিতে ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচারণা, রাস্তাগুলোর পুনঃনকশা, হাইওয়ে রাডার, দ্রুততর প্রথম প্রতিক্রিয়া কৌশল এবং হেলিপ্যাড অবতরণ  জন্য নির্বাচিত স্থানগুলোর সমন্বিতরূপ। পরিণামে তারা  মৃত্যুর পরিমাণ ৬৩ শতাংশ হ্রাস করে এবং ২৬ জনের জীবন বাঁচায়। “আমরা এই সমস্যাটি সমাধান করার চেষ্টা করেছি - কমিটি তৈরি করে, নীতিমালা এবং আইন প্রণয়ন করে। তবে একমাত্র বিষয় যা কাজ করেছিল তা হল সমস্ত ভিন্ন প্রতিনিধিদের একত্রিত করা এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া। তারপরে তাদের পরীক্ষণের ব্যবস্থা করা।” – বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কৌশল ও উদ্ভাবনের জন্য মহাপরিচালকের সহকারী হুদা আল হাশমি ।

তাহলে সরকারী কর্মচারীদের কী নৈপুণ্য দরকার? অ্যাপলিটিক্যাল (সরকারের জন্য একটি বৈশ্বিক পিয়ার-টু-পিয়ার লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, যা ১৭০ টিরও বেশি দেশে সরকারী কর্মচারীদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়)নৈপুণ্য ও বৈশিষ্ট্যগুলি চিহ্নিত করেছে যা ভবিষ্যত মোকাবেলায় এবং কর্মতৎপর সরকারী কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয়।এগুলোর মধ্যে নিম্নলিখিতগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: (১) অভিযোজ্য হওয়া, যাতে উচ্চ-চাপ এবং অনিশ্চিত পরিবেশে, সরকারী কর্মচারীরা বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্যে নির্বিঘ্নে কৌশল অবলম্বন করতে পারে; (২) পরীক্ষামূলক হওয়া, যদি অনুশীলনকারীরা  সীমানার বাইরে চিন্তাভাবনায়, নতুন পদ্ধতি বের করার চেষ্টায় এবং সীমানা পুনঃনির্ধারণে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তবেই ধারনাগুলো কেবল পদ্ধতিগতভাবে উন্নত হতে পারে। "আমরা সর্বদা এটি এইভাবে করেছি" যখন নতুন চ্যালেঞ্জগুলো কোনও অজুহাত হতে পারে না। কৌতূহলী হওয়াও জরুরী- যাতে সরকারী কর্মচারীরা ক্রমাগত পরিষেবা এবং পণ্যগুলোর উন্নতির জন্য নতুন উপায় অনুসন্ধান করে; সক্রিয় হওয়া- যাতে সরকারী কর্মচারীরা কর্মমুখী হয়, ফলাফলের দিকে মনোনিবেশ করে এবং বিস্তৃত সরকারী দৃষ্টিভঙ্গিকে কংক্রিট নীতি ও কর্মসূচিতে রূপান্তরের জন্য নজর রাখে; এবং প্রবর্তনামূলক হওয়া- যাতে জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় সরকারী কর্মচারীরা জটিল নীতিটিকে বাধ্যতামূলক বিবরণীতে পরিণত করতে পারে। সহযোগী হওয়াও মূল বিষয়। গ্লোবাল পলিসি কমিউনিটি সম্মত হয় যে অন্যের মতের প্রতি সহিষ্ণু হওয়া এবং গ্রুপ সমস্যা সমাধানের সুবিধার্থে কাজ করা হল কাজের ধর্ম। সরকারী কর্মচারীদের উপাত্ত জ্ঞানও থাকতে হবে। ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে উপাত্ত কোনও অনুচিন্তন হতে পারে না। সরকারী কর্মচারীদের উপাত্ত সংগ্রহ, দৃশ্যায়ন এবং বিশ্লেষণ নৈপুণ্যে দক্ষতার মাধ্যমে উপাত্ত বিশ্লেষণ সম্পর্কিত সম্ভাবনাটি বাড়ানো দরকার। এবং সবশেষে, তারা অবশ্যই চিন্তাশীল হবে। একটি দক্ষতা, একটি মনোভাব এবং একটি অভ্যাস, চিন্তাশীল হওয়া দক্ষতা বিকাশে, ক্রিয়াকলাপ উন্নতিতে এবং ফলাফল থেকে উৎস মূল।

অ্যাপলিটিকাল সম্প্রতি এই দক্ষতার জন্য ১৫ টি দেশের ১,২৫০ জন নীতিনির্ধারকের উপর সমীক্ষা করেছে। কর্মতৎপর প্রশাসনের জন্য তিনটি মূল দক্ষতা - প্রবর্তনা, পরীক্ষণ এবং অভিযোজন-এ সর্বনিম্ন স্কোর ছিল। উল্টোদিকে, সরকারী কর্মচারীরা ইতোমধ্যে কৌতূহল এবং সক্রিয়তার উপরে উচ্চ মানে রয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ মিলিয়ন সরকারী কর্মচারীদের মধ্যে আজকের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য কর্মতৎপরতা এবং ভবিষ্যত-ভিত্তিক দক্ষতার অভাব রয়েছে এবং বেশিরভাগ সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনিয়োগ করছে না। উদাহরণস্বরূপ, বেসরকারী খাত তার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য যা ব্যয় করে যুক্তরাজ্য সরকার তার ৬০শতাংশ ব্যয় করে। জানুয়ারিতে অ্যাপলিটিকাল ম্যানেজার ও উচ্চপদস্থ ১০০০ জন সরকারী কর্মচারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছিল- কী জিনিস তাদের শেখার জন্য  অনুপ্রেরণা দেয় এবং উৎসাহিত করে। ৮০ শতাংশের বেশি বলেছেন তারা তাদের চাকরিতে আরও ভাল হতে শিখেছে। তবুও প্রায় অর্ধেক- মোট ৪২ শতাংশ সরকারী কর্মচারী বলেছিলেন যে তাদের কোন শিক্ষণ ছিল না বা খুব সহায়ক সংস্থান ছিল না এবং অনেকেই সরকারী সংস্থান দ্বারা অসন্তুষ্ট ছিলেন। সরকারী কর্মচারীরা সাধারণ জনগণের মতো আরও প্রযুক্তি-সক্ষম শিক্ষার ক্ষেত্রে উচ্চ আগ্রহ দেখায় এবং তারা এটি নিয়মিত ব্যবহার করতে চান। তাদের অনলাইন, অতিক্ষুদ্র এবং অবিচ্ছিন্ন শিক্ষণের প্রয়োজন যা সহজেই সুবোধ্য, সময়োপযোগী এবং মজাদার। আমাদের সরকারগুলোকে আধুনিক চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করা নাগরিক এবং গ্রহের জন্য একটি শক্ত গুণক। এখন সরকারী কর্মচারীদের জন্য বিনিয়োগ করার সময় এসেছে যাতে তারা একবিংশ শতাব্দীর চৌকস প্রশাসনকে কার্যকর করতে পারে।

 

(মূল লেখকঃ লিসা উইটার, কো-ফাউন্ডার ও এক্সিকিউটিভ চেয়ার অব অ্যাপলিটিকাল, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি স্বাধীন ও অলাভজনক সংস্থা)

অনুবাদকঃ সায়েম খান

লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী

 

Share on: