ছাত্রলীগের পরিচয়ে ছাত্র সংসদ দখল

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ২৩ জানুয়ারী ২০২০ সময়ঃ রাত ৯ঃ৪০
ছাত্রলীগের পরিচয়ে ছাত্র সংসদ দখল
ছাত্রলীগের পরিচয়ে ছাত্র সংসদ দখল

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্কঃ 

২০০০ সালে বরিশাল আইন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। গত উনিশ বছরে নির্বাচন না হওয়ায় কলেজ ভবনের দোতলার পূর্ব পাশে ছাত্র সংসদ কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকত। গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, ছাত্র সংসদের জন্য নির্ধারিত কার্যালয়টিতে নার্গিস সুলতানা চায়না কয়েকজন অনুসারী নিয়ে অবস্থান করছেন। চায়না বসে আছেন ছাত্র সংসদ সহসভাপতির (ভিপি) নির্ধারিত চেয়ারটিতে। পাশের চেয়ারগুলোতে তার অনুসারীরা।

জানা গেছে, সম্প্রতি দখলে নেওয়ার পর কলেজের টাকায় কক্ষটি সংস্কারও করা হয়েছে। চায়না এ কলেজে বারবার ভর্তি হয়ে অনেক বছর ধরে ছাত্রত্ব ধরে রাখছেন। ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদের নাম ব্যবহার করে কলেজে সব ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ দুটি সংগঠনের একটিরও কমিটি নেই বরিশাল ল' কলেজে। কলেজের পূর্ব পাশে চায়নার বাসা।

বরিশাল আইন কলেজের (ল' কলেজ) ছাত্র সংসদ কার্যালয় দখল করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কথিত ছাত্রলীগ কর্মী নার্গিস সুলতানা চায়না। কিছুদিন আগে কার্যালয়টি দখল করে তিনি অনুসারীদের নিয়ে বসেন। চায়নার দাবি, ভবিষ্যতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে তারাই জিতবেন, তাই কলেজ কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ নামক সংগঠনকে ছাত্র সংসদ কক্ষ ব্যবহার করতে অনুমতি দিয়েছে। তবে এরই মধ্যে এক ছাত্রকে ওই কক্ষে ডেকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নার্গিস সুলতানা চায়না এ বিষয়ে বলেন, 'আমরা ছাত্র সংসদ দখলে নিইনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ কার্যালয়টি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এখানে বসে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করি। এতে অপরাধের কিছু নেই।' নির্বাচিত সংসদ ছাড়া কার্যালয়ে বসা বৈধ কিনা- এমন প্রশ্নে চায়না বলেন, 'নির্বাচন হলে আমরাই নির্বাচিত হব, এটা নিশ্চিত ভেবেই কার্যালয় দখলে রেখেছি।'

কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অলিউল ইসলাম শোভন বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ক্লাসে অবস্থানকালে 'চায়না আপা ডাকছেন' বলে তাকে ছাত্র সংসদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে চায়না ও তার সহযোগীরা। শোভন বলেন, কলেজে প্রথম বর্ষের পিকনিক আয়োজন নিয়ে আলোচনা করায় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে চায়না বলেন, পিকনিকের বিষয়ে অলিউল একটু ভুল করেছিল। এ জন্য তাকে বোঝাতে ডাকা হয়েছিল। এর বেশি কিছু ঘটেনি।

বরিশাল ল' কলেজের উপাধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্র সংসদ কার্যালয় কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সেখানে এক শিক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য। এ সুযোগে হয়তো কেউ অবস্থান নিতে পারে। সেখানে শিক্ষার্থী অলিউলকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি তার জানা নেই।

কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অলিউল ইসলাম শোভন বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ক্লাসে অবস্থানকালে 'চায়না আপা ডাকছেন' বলে তাকে ছাত্র সংসদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে চায়না ও তার সহযোগীরা। শোভন বলেন, কলেজে প্রথম বর্ষের পিকনিক আয়োজন নিয়ে আলোচনা করায় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে চায়না বলেন, পিকনিকের বিষয়ে অলিউল একটু ভুল করেছিল। এ জন্য তাকে বোঝাতে ডাকা হয়েছিল। এর বেশি কিছু ঘটেনি।

কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, কলেজ ছাত্র সংসদের একটি কার্যালয় রয়েছে, তবে সেটা পরিত্যক্ত। সেখানে কেউ দখল নিয়েছে- এমনটি তার জানা নেই। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তাজগৎ২৪/ টা/এ/পি 

Share on: