জেনে নিন একিলিসের গোড়ালি কেন একিলিসের মৃত্যুর কারণ ছিল?

বার্তা জগৎ২৪ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ১১ অক্টোবর ২০১৮ সময়ঃ রাত ৩ঃ৩০
জেনে নিন একিলিসের গোড়ালি কেন একিলিসের মৃত্যুর কারণ ছিল?
জেনে নিন একিলিসের গোড়ালি কেন একিলিসের মৃত্যুর কারণ ছিল?

 

একিলিসের জীবন ছিল ক্ষণস্থায়ী। গ্রীক পুরাণ অনুযায়ী হেক্টরের মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত একিলিসের মৃত্যু। ধরণীতে একিলিসের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিল প্যাট্রোক্লাস। ট্রয়ের যুদ্ধে ট্রোজানদের কাছে গ্রীক যোদ্ধারা যখন কোণঠাসা তখন প্যাট্রোক্লাস একিলিসকে গ্রীকদের পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানালে অভিমানী একিলিস তাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করে। কিন্তু প্যাট্রোক্লাস একিলিসের অনুমতি সাপেক্ষে তার বর্ম পরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। প্রথমে কিছুক্ষণ তিনি একিলিসের ন্যায় শোর্যে বীর্যে যুদ্ধ করতেছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে হেক্টর পেট্রোক্লাসকে হত্যা করে। এ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দুঃখ ছুঁয়ে ফেলল একিলিসের মনকে এবং তা এতোই তীব্র ছিল যে, তার চারপাশে যারা ছিল তারা তার জীবন নিয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়ল। নিচে সমুদ্র গুহায় বসবাসরতা তার মা তার দঃখ জানালেন এবং উঠে এলেন প্রবোধ দিতে। ‘আমি আর মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই না,’ একিলিস তার মাকে বললেন, ‘যদি আমি প্যাট্রোক্লাসের মৃত্যুর বদৌলতে হেক্টরকে মৃত্যুর স্বাদ দিতে না পারি’। তখন থেটিস তাকে কাঁদতে কাঁদতে মনে করিয়ে দিলেন যে, হেক্টরের পর পরই তারও মৃত্যু হবে। ‘কাজেই আমার মৃত্যুবরণ করা উচিত’ একিলিস উত্তর দিলেন, ‘আমি সেই জন যে তার বন্ধুকে তার চরম প্রয়োজনে সাহায্য করতে পারিনি। আমি যাকে ভালোবাসতাম তার হত্যাকারীকে অবশ্যই হত্যা করবো। অতঃপর মৃত্যু যখনি আসুক না কেন আমি তা বরণ করবো’।

 


পরের দিনের যুদ্ধে একিলিস অংশগ্রহণ করলেন। প্রিয়তম বন্ধুর মৃত্যুতে পানাহার ব্যতিরেকেই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। আস্তে আস্তে ট্রোজানরা পিছু হাঁটতে বাধ্য হয়। এরই মধ্যে ট্রয়ের বিখ্যাত ‘স্কীয়ান ফটক’ সমূহ বিস্তৃত হয়ে খুলে গেল, তখন ট্রোজানরা চূড়ান্তভাবে পলায়নপর এবং জড়ো হচ্ছিল নগরীতে। কেবল হেক্টর দাঁড়িয়ে থাকলেন প্রাচীরের সামনে। ফটকের কাছ থেকে তার বৃদ্ধ পিতা, প্রয়াম এবং তার মাতা, হেক্যুবা তাকে চিৎকার করে ডাকছিলেন যেন তিনি ভিতরে এসে নিজেকে রক্ষা করেন। কিন্তু হেক্টর তাতে কর্ণপাত করলেন না। তিনি পরাজয় না মেনে বা নতি স্বীকার না করে একিলিসের সাথে যুদ্ধে নামলেন। হেক্টর প্যাট্রোক্লাসের (একিলিসের বন্ধু) কাছ থেকে নেওয়া বর্ম পরেই একিলিসের সাথে যুদ্ধ করছিলেন। নিজের বর্মটি একিলিস ভালোভাবেই জানতেন। বর্মের গলার নিকটে একটা ছিদ্র দিয়ে তিনি তার বর্শা ঢুকিয়ে দিলেন। হেক্টর মুমূর্ষ অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। শেষ নিঃশ্বাসের সাথে তিনি প্রার্থনা করেছিলেন, ‘আমার পিতা-মাতার কাছে আমার মৃতদেহ ফিরিয়ে দিও’। উত্তরে একিলিস বলে, ‘আমার কাছে প্রার্থনা কর না, কুকুর। তুমি আমার উপর যে অন্যায় করেছ সেই জন্য যদি আমি পারতাম তবে তোমার কাঁচা মাংসই ভক্ষণ করতাম’।

 

কিন্তু পরবর্তীতে হেক্টরের পিতা প্রয়াম একিলিসের কাছে ছেলের মৃতদেহ ভিক্ষা চাইলে একিলিস সেটা ফেরত দেয় এবং এটা বলে দেয় যে, যে কদিন ধরে হেক্টরের শেষকৃত্যানুষ্ঠান হবে ততদিন যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। হেক্টরের মৃত্যুর সাথে সাথে, একিলিস বুঝতে পারলেন, তার মায়ের কথা মতো, তার নিজের মৃত্যুও অনতিদূরে। এই কারণে তার যুদ্ধ শেষ হওয়ার পূর্বে তিনি আরো মহান কৃতিত্বপূর্ণ কাজ করলেন। এক গৌরবময় লড়াইয়ে একিলিস হত্যা করলেন মেমননকে, যা ছিল তার শেষ লড়াই। অতঃপর তিনি নিজে পড়ে গেলেন স্কীয়ান ফটকের পার্শ্বে। তিনি ট্রোজানদের তাড়া করে নিয়ে এসেছিলেন ট্রয়ের প্রাচীর পর্যন্ত। সেখানে তার দিকে প্যারিস একটি তীর নিক্ষেপ করলেন এবং অ্যাপোলো এটিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেন যেন তা পায়ের এমন এক অংশে আঘাত করে যাতে তিনি আহত হয়ে পড়েন, তা ছিল তার গোড়ালি। যখন তিনি জন্মেছিলেন তখন তার মা, থেটিস (গ্রীক পুরাণের দেবী) তাকে আহত হওয়া থেকে রক্ষার জন্য স্টিক্স নদীর জলে ডুবিয়ে আঘাতের অসাধ্য সাধন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি খেয়াল করেননি যে, তিনি তার গোড়ালির যে অংশ ধরে পানিতে ডুবিয়েছিলেন, তা শুষ্ক ও আঘাত সাধ্য রয়ে যায়। ফলে গোড়ালিতে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করে একিলিস।

 

বার্তাজগৎ২৪/এমএ