নাজনীন নামের এক শিশুর সাথে সাপের বন্ধুত্ব

দিদার,চট্টগ্রাম

প্রকাশিতঃ ৪ নভেম্বর ২০১৮ সময়ঃ রাত ৩ঃ০০
নাজনীন নামের এক শিশুর সাথে সাপের বন্ধুত্ব
নাজনীন নামের এক শিশুর সাথে সাপের বন্ধুত্ব

 

বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় প্রাণীদের সাথে নিয়মিত বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে। কিন্তু তাই বলে মানুষের সাথে বিষাক্ত সাপের একটি শিশুরও বন্ধুত্ব হতে পারে তা নিশ্চয় কারো কল্পনায় থাকার কথা নয়। কিন্তু সে রূপকথার গল্পকে সত্যি প্রমাণিত করে বিরল এক রেকর্ড তৈরি করেছে নাজনীন নামের ভারতীয় এক শিশু। যেখানে সাপের কথা শুনলে আমরা ভয়ে কেঁপে উঠি। সেখানে সেই বিষধর সাপের সাথে প্রতিনিয়ত বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করে সময় কাটাতে দেখা গেছে এই শিশুটিকে।

 

এমন বিরল দৃশ্যটি দেখা মিলেছে ভারতের উত্তর প্রদেশ হতে ১৫ কিলোমিটার দূরে ঘাটমপুর নামক এলাকায়।সেখানে এক বস্তিতে বসবাস করেন নাজনীন নামের একটি মেয়ে শিশু, তার বয়স হবে ১১। যে বয়সে শিশুরা বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই বয়সে শিশুটি ২৪ ঘণ্টা বিষধর সাপের সঙ্গে বসবাস করে খেলা করছে।

 

শিশু নাজনীনের কাছ থেকে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞেস করলে তার প্রতিক্রিয়ায় সে সাংবাদিকদের কে জানায়,"এই সাপগুলো হচ্ছে আমার খুবই প্রিয় বন্ধু।আমি তাদের সঙ্গে ঘুমাই, তাদের সঙ্গে সময় কাটাই। এমনকি আমি তাদের সাথে একসঙ্গে দুধ পান করি।"

 

সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, নাজনীনের বয়স যখন ২ বছর, তখনই আশপাশের মানুষ তাকে নাগকন্যা হিসাবে ডাকতো। কারণ নাজনীন খাবার-দাবার, খেলা ধুলা করা এমনকি ঘুমানো পর্যন্ত সাপের সঙ্গে করতো। ভিডিওতে দেখা যায় নাজনিন ঘুমিয়ে থাকলে সাপ গুলো সব তার চারপাশে প্রিয়জনের মত তাকে জড়িয়ে রাখে। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এই নাগ কন্যাকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে তার বাড়িতে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেন, নাজনীন সবসময় সাপের সঙ্গে কথা বলার মত আচরণ করে, তাদেরকে গান শোনায় এমনকি তাদের সঙ্গে খেলা করার জন্য স্কুলে পর্যন্ত যায় না। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে নাজনীন ঘুম কিংবা জাগা যেমনি থাকুক না কেন সাপগুলো কখনো তাকে ছেড়ে কোথাও যায় না।

 

নাজনীনের বাবা বলেছেন, জন্মের পরে নাজনীন যখন বুঝতে পারে তখন থেকেই সাপই হচ্ছে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। অন্য শিশুরা যেখানে শিশুদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করে সেখানে নাজনীন ছিল ভিন্ন। সে মানব সমাজের শিশুদেরকে ছেড়ে বিষাক্ত সাপ দেরকে বন্ধুত্বের আসনে বসায়। অন্য কোনো কিছুর প্রতি তার কোনো আকর্ষণ ছিল না। সে সারাক্ষণ সাপের সঙ্গে খেলা করত। একজন শিশু যেহেতু সেজন্য আমরা সব সময় ভয়ে থাকতাম, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি তাকে সাপ থেকে পৃথক করার জন্য কিন্তু কখনো তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সাপের সঙ্গে থাকতে তার কোনো ভয় তো দূরের কথা বরং সে আনন্দের সঙ্গে তাদের সাথে সময় অতিবাহিত করে। তাই নাজনীনকে এলাকার সকলে মিলে সাপের কন্যা, সাপের দেবী কিংবা নাগ কন্যা বলে সম্মোধন করে।

 

পৃথিবীতে কিছু কিছু ঘটনা শুনতে অবাক লাগলেও কিংবা অবিশ্বাস্য মনে হলেও তা সত্য হয়ে বিরল রেকর্ডের সৃষ্টি করে, ভারতীয় শিশু নাজনীনের সাপের সাথে বন্ধুত্ব কিংবা গভীর সম্পর্ক ঠিক তেমনই একটি বিরল ঘটনা যা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী সবার নজর কেড়েছে। বন্ধুত্ব এখন শুধুমাত্র মানুষ কিংবা গৃহপালিত পশু পাখির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং হিংস্র প্রাণী কিংবা বিষাক্ত সাপের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।

 

বার্তাজগৎ২৪/এমএ