নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ বাণিজ্য, টাকার ভাগ পেতেন অনেকে

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৮ অক্টোবর ২০১৯ সময়ঃ সন্ধ্যা ৬ঃ০৩
নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ বাণিজ্য, টাকার ভাগ পেতেন অনেকে
নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ বাণিজ্য, টাকার ভাগ পেতেন অনেকে

সুজন মহিনুল, নীলফামারী প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ মানুষদের চরমভাবে হয়রানী করা হচ্ছিল। ঘুষ ছাড়া পাসপোর্ট হয়না এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর এমনি ঘটনায় এক ভুক্তভোগীর মামলায় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী(নৈশপ্রহরী) এনামুল হক (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি গ্রেফতারের সময় উপস্থিত প্রশাসনের বেশকিছু কর্মকর্তা ও বিক্ষুদ্ধ জনতার সামনে বলেছেন, শুধু আমি নই স্যার অনেক কর্মকর্তার কাছেও এই টাকার ভাগ যায়! বৃহস্পতিবার(১৭ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে ওই কর্মচারীকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার(১৬ অক্টোবর) রাত আটটায় তাকে পাসপোর্ট অফিস হতে গ্রেফতার করা হয়।

মামলা সুত্র মতে, জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কুন্দল এলাকার নজির হোসেন তার পরিবারের দুজনের পাসপোর্ট করার জন্য এসে দুই দিন থেকে হয়রানীর শিকার হচ্ছিলেন। নিয়ম মাফিক ব্যাংকে টাকা জমা ও সঠিক নিয়মে ফরম পূরণ করে জমা দেয়ার সময় তাকে নানাভাবে ভুল বের করে ফরম নিচ্ছিলেন না ওই কর্মচারী। এক পর্যায়ে নজির হোসেনের কাছে দুটি পাসপোর্ট করে দেয়ার নামে আড়াই হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ টাকা না দিলে তার পাসপোর্ট ফরম জমা নেয়া হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন কর্মচারী এনামুল হক। মামলায় পাসপোর্ট অফিসের পরিচ্ছন্ন কর্মী রোমিও কুমারকেও আসামী করা হয়ছে।

এরপর ঘটনার দিন (বুধবার) বিকেলে টাকা প্রদান দৃশ্যের ভিডিওসহ বিষয়টি পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালককেও অবগত করেন। ঘটনাটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার বিষয়টি জানা-জানি হলে কর্মচারী এনামুলের শাস্তি দাবি করেন বিক্ষুদ্ধরা। এরপর ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মাহবুব হোসেন উপস্থিত হয়ে বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সত্যতা পাওয়ায় তার (এনামুলের) কাছেই ঘটনার সত্যতা জানতে চান। উত্তরে কর্মচারী এনামুল হক টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শুধু আমি নই স্যার অনেক কর্মকর্তার কাছেও এই টাকার ভাগ যায়।স্যারেরা যদি সৎ হত তবে আমিও টাকা নিতে পারতাম না।

তবে উপ-সহকারী পরিচালক শহীদ উল্লাহ বলেন, আমার নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আদায় হতো বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। আরো কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নীলফামারীর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম বলেন, রাতে এ ঘটনায় নজির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করলে নীলফামারী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী এনামুলকে গ্রেফতার করা হয়।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

 

Share on: