পাবনায় সিরিয়াল কিলিং, হলিউডের থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়

বার্তা জগৎ২৪ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ১১ অক্টোবর ২০১৮ সময়ঃ রাত ২ঃ৩০
পাবনায় সিরিয়াল কিলিং, হলিউডের থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়
পাবনায় সিরিয়াল কিলিং, হলিউডের থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়

 

লাশটার মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো। হাত-পা, হাঁটু মুড়ে শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা। যেন মায়ের পেটের ভিতরে থাকা শিশু। মুখবন্ধ বস্তার মধ্য থেকে বেরিয়ে আসছিল বিকট গন্ধ। বস্তার মুখ খুলতেই গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। এক মাসের ব্যবধানে এভাবেই উদ্ধার হল দুটি লাশ। এই সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে পাবনা জেলায়। পাবনা জেলা পুলিশের তৎপরতায় উদঘাটিত হয় রোমাঞ্চকর কাহিনী যা হলিউডের থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়।

 

বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের জেলা পাবনার আটঘরিয়া থানার ছেলে মানিক (১৯) জুলাই মাসের ১৫ তারিখ এবং সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ তারিখ মারুফ নিখোঁজ হয়। দুজনের পেশাই ইজি বাইক চালক এবং দুজনের লাশও পাওয়া যায় একই অবস্থায়। মানিক নিখোঁজের পর তার লাশ পাওয়া গেলেও ঘটনা উদঘাটন সম্ভবপর হয় নি। কিন্তু একই অবস্থায় মারুফের লাশ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সদর সার্কেল অফিসারসহ পুরো জেলা পুলিশ একসাথে কাজ শুরু করে। ২৭ সেপ্টেম্বর আতাইকুলার চড়ডাঙ্গা গ্রামে একটি লাশ পাওয়া গেলে অতি দ্রুততার সাথে পুলিশ তা সনাক্ত করতে সামর্থ্য হয়। লাশটি ইজিবাইক চালক মারুফের। ঘটনা উদঘাটনে থানা পুলিশের সাথে একযোগে কাজ করে ডিবি পুলিশ। এই ঘটনা উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পুলিশের দুই এস আই আসিত ও অরবিন্দু। প্রথম ঘটনা ঘটার পরে এস আই অসিত নিখোঁজ ব্যক্তির ফোনকল বিশ্লেষণ করতে থাকেন। মাঝে ফোনটি বন্ধ পেলেও দ্বিতীয় ঘটনার কয়েকদিন আগ থেকে উক্ত ফোন খোলা পান। তবে ফোনে ব্যবহৃত হচ্ছিল নতুন নাম্বার। যা কিছুদিন বরিশালে ব্যবহৃত হওয়ার পর পাবনায় ব্যবহৃত হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য এএসপি গৌতম পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। নানা কৌশল অবলম্বন করে পুলিশ গ্রেফতার করে বেল্লাল নামের এক যুবককে। যুবকের মুখে চাপ দাঁড়ি। নামাজ পড়তে পড়তে কপালে কালো দাগ। নূরানি চেহারা। এমন যুবককে আটক করে কিছুটা ঘাবরিয়ে যায় পুলিশ। তবে এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর সব তথ্য। প্রফেশনাল কিলার এই যুবক। পড়েছে বরিশাল মাদ্রাসায়। কিশোর বয়সে খালাতো বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। ঢাকায় এসে মাদ্রাসায় পরিচিত হয় আতাইকুলার রহমানের সাথে। স্বল্প দিনে অল্প পরিশ্রমে বড়লোক হবার ফন্দি আঁটে তারা। তাদের এই চক্রে যোগ দেয় নকশাল শাহজাহান, মম্মিন এবং খালেক।

 

বড়লোক হওয়ার উপায় হিসাবে তারা বেঁছে নেয় নতুন ইজি বাইক ছিনতাই। সন্ধ্যার পর বেশি ভাড়ার প্রলোভন দেখিয়ে তারা ইজিবাইক ভাড়া করে। ইজিবাইকে করে নির্জন বাসার সামনে গিয়ে থামে। তারপর ভিতর থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার আনার কথা বলা হয়। ঘরের ভেতর ওঁত পেতে থাকে ঘাতক। চালক ঘরে ঢুকতেই পিছন থেকে জাপটে ধরা হয়। স্কচটেপ প্যাঁচানো হয় মুখে। এরপর গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয় এবং সুবিধাজনক সময়ে নির্জন জায়গায় ফেলা হয় বস্তাবন্দী লাশ। আর ইজিবাইক বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে তারা ভাগ করে নেয়। পুলিশের কাছে জবানবন্দীতে এবং আদালতের স্বীকারোক্তিতে এভাবেই বলে ঘাতকেরা। যা হলিউডের থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়।

 

বার্তাজগৎ২৪/এমএ