'বিশ্বসুন্দরী' নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র অভিযান শুরু করলেন চয়নিকা চৌধুরী

দিদার,বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ১৯ জুন ২০১৯ সময়ঃ দুপুর ২ঃ৩৩
'বিশ্বসুন্দরী' নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র অভিযান শুরু করলেন চয়নিকা চৌধুরী
'বিশ্বসুন্দরী' নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র অভিযান শুরু করলেন চয়নিকা চৌধুরী

 

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সোনালী দিন হারিয়ে গেছে,ধীরে ধীরে অধিকাংশ চলচ্চিত্র নির্মাতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চলচ্চিত্র থেকে। এবারে চলচ্চিত্রের সেই সোনালী যুগ কে ফিরিয়ে আনতে চলচ্চিত্র নির্মাণকে একটি অভিযানের সাথে তুলনা করে নিজের প্রথম চলচ্চিত্র 'বিশ্বসুন্দরী' নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী।

এর আগে চয়নিকা চৌধুরী একজন সফল নির্মাতা হিসেবে চার শতাধিক খণ্ড নাটক ও ১৮ টি ধারাবাহিক নাটকের পরিচালনা করেছেন।

এই গুণী নির্মাতার প্রথম ছবি ‘বিশ্বসুন্দরী’, যার শুটিং শুরো হয়েছে গত মঙ্গলবার থেকে। দীর্ঘদিন ধরে এ ছবির গল্প, শুটিং পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিলেন এ নির্মাতা।তিনি সংবাদমাধ্যমে জানালেন, মঙ্গলবার (১৮ জুন) ফরিদপুরে এই চলচ্চিত্রটির প্রথম পর্যায়ের চিত্রধারণের কাজ শুরু করেছেন।

চয়নিকা চৌধুরী বলেন, শুটিং পূর্ববর্তী কাজে সন্তুষ্ট না হয়ে আমরা কেউই এই স্বপ্নের প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চাইনি। দীর্ঘদিন ধরে বেশ যত্নের সাথে পরিকল্পনা করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমি আশাবাদী সবাই মিলে দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবার মত একটি চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারবো।

পরিচালক জানান,প্রথম পর্যায়ের শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি, ফজলুর রহমান বাবু ও মনিরা মিঠুসহ আরো অনেক গুণী ও মেধাবী শিল্পীরা। পরবর্তীতে আরো যোগ দেবেন সুবর্ণা মুস্তাফা, সিয়াম আহমেদ, আনন্দ খালেদসহ অন্যান্য অভিনয় শিল্পীরা।

এই চলচ্চিত্রের শিল্পী তালিকায় থাকছে আরো বেশ কিছু চমক। মঙ্গলবার ক্যামেরা ওপেন করার আগে ক্ল্যাপস্টিক দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ছবির মহরত অনুষ্ঠিত হয়।আবেগাপ্লুত নবাগত চলচ্চিত্র পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী আরো বলেন, ১৮ আগস্ট ২০০১ সালে নাট্যপরিচালক হিসেবে দর্শক প্রথম আমাকে চিনেছিলেন। ১৮ বছর পর সেই ১৮ তারিখেই চলচ্চিত্রের ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। ১৮ আগস্ট ২০০১, সেই দিনটিও ছিল মঙ্গলবার। এবারের এই দিনটিও মঙ্গলবার যে দিনটিতে আমি আমার প্রথম চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু করেছি। এক কথায় পুরো বিষয়টিই ছিল কাকতালীয়। প্রকৃতিই হয়তো এমনটি চেয়েছিল। আশা করছি ‘বিশ্বসুন্দরী’ চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার সহযোগিতায় দর্শকদের মনে রাখার মত একটি চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারবো।

সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত ‘বিশ্বসুন্দরী’ চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রুম্মান রশীদ খান। এ ছবির মাধ্যমে প্রায় আড়াই বছর পর চলচ্চিত্রের ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি।

 

 

পরীমণি, সিয়াম, চয়নিকা

 

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বপ্নজাল’-এ অভিনয় করার পর থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ভালো মানের চলচ্চিত্র, মন ছুঁয়ে যাবার মত চিত্রনাট্য ও চরিত্র না পেলে আর কখনোই চলচ্চিত্রে কাজ করবো না। ‘বিশ্বসুন্দরী’ চলচ্চিত্রের ‘শোভা’ চরিত্রটি শুধু আমি নই, যে কোনো অভিনেত্রীর জন্যই বিশেষ কিছু। আশা করি এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে দর্শক আমার থেকে নতুন কিছু পেতে যাচ্ছে।

চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমানে বাংলাদেশে জাজ মাল্টিমিডিয়া ছাড়া আর তেমন কেউ বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে আসছেনা।গুণী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং অমিতাভ রেজা যে কয়েকটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তা বাণিজ্যিক সিনেমার জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়।নতুন কোনো নির্মাতা চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে আসলেও বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে পারছে না তাই ধীরে ধীরে বাংলা চলচ্চিত্র হারিয়ে ফেলছে তার সেই সোনালী অতীত। ছোট পর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সোনালী গৌরব কিছুটা হলেও ফিরে পায় কিনা তা দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ 

 

Share on: