ভারত-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি সামরিক হুশিয়ারি

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১০ অগাস্ট ২০১৯ সময়ঃ ভোর ৬ঃ০৭
ভারত-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি সামরিক হুশিয়ারি
ভারত-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি সামরিক হুশিয়ারি

 

বার্তা জগৎ২৪ ডেস্কঃ

বর্তমান সময়ে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানভিত্তিক হামলার আশঙ্কায় রয়েছে ভারত। অবশ্য ভারতও বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতে কোনো হামলা চালানো হলে এর উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন দেশটির এক সেনা কর্মকর্তা।

এদিকে ছেড়ে কথা বলছে না পাকিস্তানও। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ভারত আগ্রাসন চালালে এর কঠোর জবাব দেয়া হবে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুর এক্ষেত্রে ভিন্ন। তার মতে সংকটের সমাধানে কূটনৈতিক পথে এগোনোই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। 

এই পরিস্থিতিতে উভয় রাষ্ট্রকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমেই কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান চায়।

এদিকে সোমবার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা বাতিলের আগের রাত থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে মোদি সরকার। গত কয়েকদিন ধরে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে অবস্থা কিছুটা শিথিল এবং কিছু এলাকায় আংশিক ফোন ও ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়।

এদিকে সদ্যঘোষিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের কারগিল, দ্রাস ও সাঙ্কো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন কারগিলের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির জেরে নৌপথে সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌসেনার এক আধিকারিক শুক্রবার বলেন, ‘আমাদের ওপর এই মুহূর্তে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।’

জানা গেছে, উপকূলে নজরদারির জন্য রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে মৎস্যজীবীদের নৌকায় ‘বন্ধু না শত্রু’ চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া চালুর জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে নৌসেনা।

এদিন দিল্লিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য ভারতীয় সেনার চিনার কর্পসের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাওয়ালজীত সিং বলেন, অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না।

গোয়েন্দারা জানিয়েছে, ভারতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তানভিত্তিক ‘জইশ-ই-মুহম্মদ’।

এরপরই কাওয়ালজীত বলেন, কাশ্মীর উপত্যকায় কেউ এলে এবং শান্তিতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে তাকে নির্মূল করে দেব আমরা।

এই হুঁশিয়ারির পরপরই পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্সের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর টুইট করে কাওয়ালজীতের বক্তব্যকে মিথ্যা বলে অভিযোগ করেছেন।

তিনি লেখেন, দখলকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ভয়াবহ ও নৃশংসতা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই এসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। আরেক টুইটে তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনোরকম ‘মিস অ্যাডভেঞ্চার’ চালালে ২৭ ফেব্রুয়ারির চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে পাকিস্তান।

তবে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েক দশকের পুরনো সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনই সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি।

তিনি বলেন, আমরা সামরিক বিকল্পের কথা ভাবছি না। কিন্তু আমরা কি ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া দেখানোর অধিকার রাখি। পাকিস্তান রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আইনি বিকল্পের কথা ভাবছে।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কাশ্মীর ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত ও পাকিস্তানকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখাতে বলেছেন। জম্মু-কাশ্মীরের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে, এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এই ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে শিমলা চুক্তি সমুন্নত রাখতে বলেছেন।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ