যুবলীগের চাদার টাকায় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সময়ঃ সকাল ১০ঃ০০
যুবলীগের চাদার টাকায় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা
যুবলীগের চাদার টাকায় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা (ঢাকা মহানগর যুবলীগের একটি অংশের সভাপতি) বিরুদ্ধে চাদার টাকায় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে মিলাদ পড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। গতকাল (১৪ সেপ্টেম্বর) শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমটাই বলেছেন বলে নিশ্চিত করেছে গণভবন কেন্দ্রীক সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, যুবলীগ প্রসঙ্গে আলোচনার শুরু করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক। বৈঠকের এজেন্ডায় উল্লেখ থাকা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দল সাড়ম্বরে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করতে চায়।

কিন্তু শেখ হাসিনা ঘটা করে জন্মদিন পালনে অনীহা দেখালে নানক উদাহরণ হিসেবে যুবলীগের শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।

পরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এ কথা উল্লেখ করে বলেন, শনিবার যুবলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা করেছে। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজির টাকা বৈধ করতে মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। নিজের জন্য এমন মিলাদ মাহফিল তিনি চান না। এরপর যুবলীগ নিয়ে তার কাছে আসা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ওই নেতা ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে গেছে। আরেকজন (মহানগর দক্ষিণের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক) এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এখন টানা তিন বার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন, দলের ভেতর-বাহিরের সব খবরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাখেন। যুবলীগের ওই নেতার বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি তখন ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এবার কতোটা কঠোর, শোভন-রাব্বানীর শাস্তি থেকে বুঝতে পারছেন। যুবলীগের ওই নেতার বিরুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রী কঠোর হতে পারেন যেকোন সময়। কারণ তিনি প্রচণ্ড বিরক্ত না হলে ওই নেতার কথা ওয়ার্কিং কমিটির সভায় তুলতেন না। 

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের এক বছর পর ২০১৩ সালের মে মাসের শেষের দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে সভাপতি ও ওয়াহিদুল আলম আরিফকে সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তরে মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে সভাপতি ও মো. ইসমাইল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনও আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। 

বার্তাজগৎ২৪/এম এ/এফ এইচ পি

Share on: