শ্যামনগরে 'স্কুল অব হিউম্যানিটি' নামে মানবতার স্কুলের যাত্রা শুরু

শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফঃ

প্রকাশিতঃ ১২ অক্টোবর ২০১৯ সময়ঃ বিকেল ৫ঃ২৫
শ্যামনগরে 'স্কুল অব হিউম্যানিটি' নামে মানবতার স্কুলের যাত্রা শুরু
শ্যামনগরে 'স্কুল অব হিউম্যানিটি' নামে মানবতার স্কুলের যাত্রা শুরু

শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফঃ

দারিদ্রতাকে জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে নিজেকে মানবিক প্রভাষক হিসেবে গড়ে তোলা সেই ইদ্রিস আলী এবার প্রতিষ্ঠা করলেন মানবতার স্কুল। তার হাত ধরেই শুক্রবার বিকালে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবর্তী শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি গ্রামে 'স্কুল অব হিউম্যানিটি ' নামে স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়েছে। এই অঞ্চলের ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে তাদের জীবনের ইতিবাচক পরির্বতন করাই এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।

স্কুলটিতে গতানুগতিকভাবে নয় বরং একটু ভিন্নভাবে পাঠদান করা হবে বলে জানিয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ইদ্রিস আলী।

তিনি বলেন, আমরা গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে শিশুদের পাঠদান করাতে চাই। যাতে করে তারা স্কুলের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। মূলত আমরা প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের তাদের বয়স উপযোগী শিক্ষামূলক আকর্ষণীয় ভিডিও দেখাবো। ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাসে মনোযোগী ও পরবর্তীতে স্কুলের প্রতি টান সৃষ্টি করানো হবে। গান, কৌতুক ও অভিনয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরীর চেষ্টা থাকবে। ভিডিও কার্টুন দেখানোর পাশাপাশি ছবিযুক্ত ছোটগল্পের বই পড়তে উৎসাহিত করানো হবে। প্রতিদিন ক্লাস শেষে ১০ মিনিটের একটি খেলা বা অন্য কোনো জ্ঞানমূলক প্রতিযোগিতা করে সেখানে পুরস্কার দেবার ব্যবস্থা এবং ক্লাস শেষে আকর্ষণীয় খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে।

'স্কুল অব হিউম্যানিটি' তে কারা পড়া-লেখার সুযোগ পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে মানবিক প্রভাষক খ্যাত ইদ্রিস আলী বলেন, স্কুলের যাবার বয়স হলেও যেসকল শিশু অর্থাভাবে স্কুলে যেতে পারছেনা তাদেরকে মৌলিক শিক্ষা দেওয়া আমাদের লক্ষ্য। এর পাশাপাশি যেসমস্ত শিশুরা স্কুলে না গিয়ে শিশুশ্রম দিচ্ছে তাদেরকেও আমরা স্কুলে আনার চেষ্টা করবো। আবার যারা স্কুলে গেলেও পড়াশোনা 'কঠিন বিষয়' মনে করে লেখা-পড়া বাদ দিয়েছে তারাও এই স্কুলের পড়ার সুযোগ পাবে। এক কথায় ‍সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাই হবে আমাদের শিক্ষার্থী।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও জীবনধারণের উপযোগী অন্যান্য সাধারণ জ্ঞানের মৌলিক শিক্ষার মাধ্যমে স্বশিক্ষিত মানুষ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চায় 'স্কুল অব হিউম্যানিটি'।  ক্লাসের ফাকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সুন্দরবনের উপকারী দিক ও তা রক্ষা বিষয়ক প্রয়োজনীয় সাধারণ জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এতদ সম্পর্কিত বিষয়ে সচেতন করে তুলতে চাই।

স্কুলটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাতাখালি ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার প্রভাষক জি.এম সাইফুল ইসলাম ইয়াসিন, গাবুরা জি.এল.এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিনুর রহমান লিংকন, ১৭৯ নং চর চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রমুখ। তত্বাবধায়ন করেন মোস্তফা আল আমীন।

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এফ এইচ পি

Share on: