সাকিব সনেট -প্রথম সিনেমা 'নোলক' দিয়ে বাজিমাৎ

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৪ জুলাই ২০১৯ সময়ঃ বিকেল ৪ঃ৩২
সাকিব সনেট -প্রথম সিনেমা 'নোলক' দিয়ে বাজিমাৎ
সাকিব সনেট -প্রথম সিনেমা 'নোলক' দিয়ে বাজিমাৎ

 

আফজালুর ফেরদৌস রুমনঃ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন একটি মন্দা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হল বন্ধ হয়ে যাওয়া, সিনেমা নির্মাণ কমে যাচ্ছে, চলচ্চিত্র অঙ্গণে দলাদলি, দর্শকদের মুখ ফিরিয়ে নেয়া ইত্যাদি নান বিষয় নিয়ে জর্জরিত আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। এই অবস্থায় অনেক নামিদামী প্রযোজক পরিচালকেরাই এখন সিনেমা নির্মাণ থেকে সরে এসেছেন। সেখানে একজন আত্নবিশ্বাসী তরুণ চলচ্চিত্র মাধ্যমকে ভালোবেসে সুস্থধারার মানসম্মত সিনেমা দর্শকদের উপহার দেবার জন্য নিজের ব্যবসার পাশাপাশি নিজেকে যুক্ত করেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গণে। তার প্রথম সিনেমা দিয়েই তিনি নাম লিখিয়েছেন সফল বাণিজ্যিক নির্মাতা হিসেবে। বলা হচ্ছে এই সময়ের আলোচিত প্রযোজক এবং পরিচালক সাকিব সনেটের কথা। 

গত ঈদে সারাদেশে মু্ক্তি পেয়েছে সাকিব সনেট প্রযোজিত ও পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘নোলক’। এই সিনেমাতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুপারস্টার শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা ববি। এছাড়া আরো অভিনয় করেছেন মৌসুমী, ওমর সানি, নিমা রহমান, তারিক আনাম খান, রেবেকা, রজতাভ দত্ত, শহীদুল আলম সাচ্চু সহ আরো কিছু দক্ষ এবং জনপ্রিয় শিল্পী। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত তিনটি সিনেমার মধ্যে 'পাসওয়ার্ড' এবং 'নোলক' এককথায় পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করেছে। ব্যবসার মানদণ্ডে 'পাসওয়ার্ড' এগিয়ে থাকলেও 'নোলক' বক্সঅফিসে হিট তকমা পেয়ে গেছে এরইমধ্যে। সিনেমার শ্যুটিং থেকে শুরু করে এই সফলতা প্রাপ্তি পুরো জার্নিতে প্রযোজক এবং পরিচালক সাকিব সনেটের ভূমিকা স্মরণ করে রাখার মতো। একেতো নিজের প্রথম সিনেমা তার উপর ঈদের মতো বড় উৎসবে মুক্তি এবং সবচেয়ে আলোচিত বা সমালোচিত ব্যাপার সিনেমার মূল অভিনেতা এই সিনেমার প্রচারণায় কোন ভূমিকা রাখেননি। বলা যায় নায়িকা ববি আর নির্মাতা সাকিব সনেটের প্রচারণা কৌশল, সিনেমাটি সকল শ্রেণীর দর্শকদের কাছে পৌছে দেয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমের উপর ভর করে বক্স অফিসে সফলতা লাভ করেছে। তবে সিনেমার মেকিং, ক্যামেরার কাজ, সাউন্ড, গান, কোরিওগ্রাফি, অভিনয়, বিশাল সেট, বিগ বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমার সকল উপাদান মজুত থাকায় উপভোগ করেছেন সিনেমাপ্রেমীরা। 

সাংস্কৃতিক জগতে সাকিব সনেটের শুরুটা থিয়েটারের মাধ্যমে। দীর্ঘ সাত বছর দেশের অন্যতম আলোচিত এবং জনপ্রিয় নাট্য সংগঠন ‘ঢাকা পদাতিক’-এর সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। অভিনয় করেছেন সাথে সাথে নির্দেশনার কাজও শিখেছেন থিয়েটারে। মঞ্চ থেকে পরবর্তীতে ছোট পর্দা এবং বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থায় বিভিন্ন বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে বড় পর্দায় নিজের দক্ষতা দিয়ে মানসম্মত কিছু করার জন্য। একটা সময় কাস্টিং ডিরেক্টর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইভেন্ট বা বিজ্ঞাপনচিত্রে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন নিজেকে দক্ষ করে তোলার জন্য। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের, চলচ্চিত্র পরিচালনার স্বপ্নটা আস্তে আস্তে বাস্তবে রুপ নেয়। তবে প্রথম চলচ্চিত্রের পরিচালনার ঝক্কি কাধে নিতে চাননি তিনি। শুধুমাত্র প্রযোজক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু বাজে পরিস্থিতি তাকে পরিচালকের দায়িত্ব কাধে নিতে বাধ্য করে। 

শ্যুটিং এর সময় থেকেই 'নোলক' নিয়ে রাশেদ রাহা বিতর্ক, মুক্তির আগেই ১.৫ কোটি টাকার মতো লোকসান সামলে, নানা আইনি জটিলতা, সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্য রি-শ্যুট করা, মানসিক নানা চাপ এসব পেরিয়ে অন্তরালে থাকা কিছুটা প্রচার বিমুখ তরুণ নির্মাতা সাকিব সনেট অবশেষে নিজের কথা তুলে ধরার জন্য এবং 'নোলক' সিনেমার প্রচারের জন্য মিট দ্যা ব্লগার ইভেন্টে সবার সামনে আসেন। সেখানে প্রযোজক সাকিব সনেট হাস্যমুখে অকপটে নানা বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সিনেমার শুরু থেকেই প্রযোজক হিসেবেই থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শ্যুটিং শুরুর ২/৩ দিনের মধ্যেই নানা রকম অসংগতি এবং বিভ্রান্তির কারণে শ্যুটিং চলাকালীন সময়ে পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব নিতে হয় তাকে। শাকিব খান, ববি, মৌসুমী সহ অন্য শিল্পীদের অসন্তোষ এবং দাবির মুখেও তিনি মানবিক নানা দিক চিন্তা করে রাশেদ রাহাকে পরিচালকের স্থান থেকে সরাতে চাননি। কিন্তু দিন দিন নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, অযথা নানা খরচ, কিছু অসামাজিক কার্যালাপ অবশেষে তাকে অফিসিয়াল ভাবে পরিচালকের আসনে বসার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। তবে সেই ইভেন্টেও যে রাশেস রাহা প্রযোজক সাকিব সনেটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আসছেন তার বিরুদ্ধেও তেমন কোন বিরুপ মন্তব্য করেননি তিনি। একটি প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন - সকল প্রমাণ থাকার পরেও আমি চাইনি 'নোলক' নিয়ে কোন নেগেটিভ কিছু দর্শকদের সামনে আসুক। তাই আমি চুপ ছিলাম কিন্তু একটা সময় চুপ থাকাটাই অনেকে দুর্বলতা ভেবে নিয়েছিলেন তাই কিছু অপ্রিয় সত্য বলতেই হয়েছে। এই সিনেমার গল্পকার হিসেবেও ফেরারী ফরহাদের নাম যে ব্যক্তি মুছে দিতে চেয়েছিল তার সম্পর্কে জনসম্মুখে নতুন করে আর কি বলার থাকতে পারে!! এছাড়া সেটের সবার মতামত বা বিভিন্ন ইস্যুতে অনেজ স্ক্রিনশট নিজের কাছে থাকা স্বত্তেও তিনি কারো ক্যারিয়ার প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাননি। এত লোকসানের পরও ‘নোলক’ ব্যবসাসফল সিনেমা হতে পারবে বলে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন সাকিব সনেট। পরবর্তীতে দেখা যায় তার সেই আশাবাদ বিফলে যায়নি। 'নোলক'  সফল সিনেমা হিসেবেই আজ সবার সামনে। 

সাকিব সনেট বলেছিলেন 'নিজের সিনেমা বলে বলছি না, এখন পর্যন্ত যারাই ‘নোলক’ দেখেছেন, সবাই একটি মন্তব্যই করেছেন দীর্ঘদিন পর সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক একটি দেশীয় সিনেমা দেখতে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশীয় ইন্ডাস্ট্রির এই কঠিন সময়ে চলচ্চিত্র মাধ্যমের সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানান তিনি। ঈদে মুক্তি পাওয়া তার প্রথম প্রযোজিত এবং পরিচালিত নোলক সিনেমা সমালোচক থেকে সাধারণ দর্শক সবার মন জয় করেছে বলে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছসিত তিনি। তবে এই সাফল্যের জন্য তিনি পুরো কৃতিত্ব দিতে চান দর্শকদের ভালোবাসাকে। যারা বিশ্বাস রেখেছেন এবং সিনেমা হল পর্যন্ত এসেছেন 'নোলক' দেখার জন্য। ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাদের সবার প্রতি যারা 'নোলক' সিনেমার পাশে ছিলেন। দেশে সফল হবার পরে এবার আন্তর্জাতিক বাজারে 'নোলক' নিয়ে যাবার জন্য চেস্টা করে যাচ্ছেন তিনি।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ

 

Share on: