হলে কোনো মাস্তানি চলবে না, প্রতিটি হলে অভিযান চালানো হবেঃ প্রধানমন্ত্রী

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ৯ অক্টোবর ২০১৯ সময়ঃ বিকেল ৫ঃ০৬
হলে কোনো মাস্তানি চলবে না, প্রতিটি হলে অভিযান চালানো হবেঃ প্রধানমন্ত্রী
হলে কোনো মাস্তানি চলবে না, প্রতিটি হলে অভিযান চালানো হবেঃ প্রধানমন্ত্রী

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

'১০ টাকা ১৫ টাকা ভাড়ায় হলে থাকবে আর সেখানে থেকে মাস্তানি করবে এটা হতে দেয়া হবে না। হলে কোনো মাস্তানি চলবে না। প্রতিটি হলে অভিযান চালানো হবে। যে দলেরই হোক সবাইকে ধরা হবে।' বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি হলে অভিযানের নির্দেশ দিয়ে বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের খরচে হলে বসে জমিদারি চলবে না। আমি কোনো দলটল দেখব না। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে আমি না। আমি নিজেও তো ছাত্র রাজনীতি করে উঠে এসেছি। বুয়েটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েট চাইলে সেটা করতে পারে আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করবো না।

তিনি বলেন, 'অপরাধীকে আমি অপরাধী হিসেবেই দেখি। যখন আবরার হত্যাকাণ্ড ঘটলো তখনই আমি পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেই এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিতে বলি। কিন্তু আমার প্রশ্ন, পুলিশ যখন ফুটেজ নিলো তখন তাদের আটকে দিলো। বলা হলো ফুটেজ প্রকাশ না করা হলে তাদের যেতে দেবে না। তখন আমার সন্দেহ হলো, তাহলে কি যারা ফুটেজ নিতে আটকে দিলো তাদের মধ্যে হত্যাকারীরাও ছিলো কিনা।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একটা বাচ্চা ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। তাকে এমনভাবে হত্যা করা হয়েছে দেখে মনে হয়েছে সেই ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর যেরকম হামলা চালানো হয়েছিলো ঠিক সেইরকম ভাবে এই হত্যাকাণ্ড। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কে কখন কোনো দলে ঢুকে যায় তা বলা মুসকিল।'

সংবাদ সম্মেলনে ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেওয়া নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফেনী নদী নিয়ে কথা বলার শুরুতেই তিনি প্রশ্ন করেন, বলেনতো ফেনী নদীর উত্পত্তিস্থল কোথায়, কেউ না বললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা খাগড়াছড়িতে উত্পত্তি। যা ফেনীর সোনাগাজী হয়ে সাগড়ে চলে গেছে। এটা সীমান্তবর্তী নদী। এতে দুই দেশেরই অধিকার থাকে। আমাদের প্রায় ৭টি নদী অছে সীমান্তবর্তী। ভারতের সাবরোমে বিশুদ্ধ পানির অনেক অভাব। ফেনী থেকে সামান্য পানি আমরা তাদেরকে দেবো। যে পানিটুকু দিচ্ছি সেটার পরিমান অত্যন্ত নগন্য। এটা নিয়ে এতো চিৎকার কিসের জন্য আমি জানিনা। 

তিনি বলেন, কেউ যদি পানি চায় আর আমরা যদি না দেই এটা কেমন কথা।

ভারতে যে এলপিজি গ্যাস রপ্তানি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলপিজি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। গ্যাস আমদানি করে বোতলজাত করে আমাদের নিজেদের দেশে সরবরাহ করবো এবং ভারতের ত্রিপুরায় রপ্তানি করা হবে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করা হবে না। এসময় তিনি প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিলেন বলে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে এটা কখনো হবে না। আমরা এলপিজি গ্যাস আমদানি করে নিজেরা ব্যবহারের পর কিছুটা ত্রিপুরাকে দেওয়া হবে। এসময় যারা ভারতকে গ্যাস দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদের সমালোচনা করেন তিনি। আর ত্রিপুরা যদি কিছু চায় তবে তা দিতে হবে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধে রাজ্যটির অবদান স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এফ এইচ পি

Share on: