আজ হ্যারি-মেগানের বিয়ে, উন্মাদনা ছড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী

প্রকাশিতঃ ২৩ মে ২০১৮ সময়ঃ দুপুর ১২ঃ৫৯
আজ হ্যারি-মেগানের বিয়ে, উন্মাদনা ছড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী
আজ হ্যারি-মেগানের বিয়ে, উন্মাদনা ছড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী

বহু অপেক্ষার পালা শেষে আজ শনিবার (স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা) বিয়ের পিড়িতে বসতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের নাতি প্রিন্স হ্যারি ও মার্কিন টিভি সিরিয়াল ‘স্যুইটস’ এর অভিনেত্রী মেগান মার্কেল।

রাজ পরিবারের সদস্যের এই বিয়েকে কেন্দ্র করে উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা যুক্তরাজ্য। শুধু যুক্তরাজ্যই নয়, তাদের বিয়ের এই উন্মাদনার জোয়ার ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। বিশ্ব মিডিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে আজ এই বিয়ে। ৩৩ বছর বয়সী প্রিন্স হ্যারির চেয়ে তিন বছরের বড় মেগান মার্কেল।

ব্রিটেনের রাজপরিবারের যেসব বিয়ে হয়েছে এ পর্যন্ত তার সব গুলোই যে যথার্থ বা পারফেক্ট দম্পতি ছিল এমনটা বলা যায় না।নানা কারণে বেশ কয়েকটি বিয়ে ইতিহাসে ব্যতিক্রমী বিয়ে হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। রাজপরিবারের বিয়ের যে লম্বা তালিকা রয়েছে তার সর্বশেষ নাম যোগ হতে যাচ্ছে প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেলের।

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের বিয়ের জন্য বিশ্ব জুড়ে অপেক্ষায় আছেন লাখো মানুষ। টেলিভিশনে সরাসরি এ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপভোগ করবেন অনেকে। অনেকে আবার দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক শহর উইন্ডসরে, যেখানে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কারণ ব্রিটেনের রাজকীয় বিয়ে দেখার সুযোগ রোজ রোজ আসে না।

শনিবার দুপুরে উইন্ডসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে বিয়ে করবেন প্রিন্স চার্লসের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি। আর এ বিয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজ পরিবারে প্রবেশ করবেন মার্কিন মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক অভিনেত্রী র্যা চেল মেগান মার্কেল।

এর আগে যুক্তরাজ্যের সময় অনুযায়ী বেলা ১টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) এ হবু দম্পতি ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে চক্কর দেবেন গোটা উইন্ডসর।

আর তাদের অভ্যর্থনা ও শুভকামনা জানাতে সকাল হওয়ার আগেই ভিড় জমা শুরু হয়েছে উইন্ডসরের রাস্তায়গুলোতে। অনেকে আবার বিয়ের দৃশ্য নিজ চোখে উপভোগ করতে উইন্ডসর চ্যাপেলের কাছাকাছি সবচেয়ে সেরা পজিশনটা দখল করে বসে গেছেন একদিন আগে থেকেই।শুধু উন্ডসর না, গোটা যুক্তরাজ্যে চলছে উৎসবের আমেজ।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো জানায়, মেগানের বাবা থমাস অসুস্থতার কারণে এ বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তাই মেগানকে নিয়ে হেঁটে বিয়ের মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন প্রিন্স চার্লস। বিয়ে পড়াবেন আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের আমন্ত্রণে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রায় ৬০০ অতিথি। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক অবদানের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন আরও ১২০০ জন। খুশির দিনটাতে এ যুগলকে একনজর দেখা আশায় কমপক্ষে এক লাখ মানুষের সমাগমে ভরে উঠবে উইন্ডসরের রাস্তা-ঘাট।

রাজকীয় বিয়ে উপভোগ করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উইন্ডসরে আসা ৬২ বছর বয়সী নিকি প্রুনার জানান, কেট আর উইলিয়ামের বিয়ের সময়ও তারা এসেছিলেন এবং এবারও এসেছেন। নিকির স্বামী ম্যাট প্রুনারও এসেছেন তার সঙ্গে।

ম্যাট ও নিকির মতো ছুটে এসেছেন আরও অনেকে। উৎসবের মধ্যে দিয়ে কেটেছে সারা রাত। কারো হাতে যুক্তরাজ্যের পতাকা, কারও হাতে বিয়ারের মগ। আনন্দ, উল্লাস ও হইচইয়ে মেতে উঠেছে উইন্ডসরসহ গোটা যুক্তরাজ্য।

২০১৬ সালের জুলাই থেকে চুটিয়ে প্রেম করছেন ৩৩ বছর বয়সী হ্যারি ও ৩৬ বছর বয়সী মেগান।

প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়ানার ছোট ছেলে হ্যারির পুরো নাম হেনরি চার্লস আলবার্ট ড্যাভিড। রয়্যাল মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা করা হ্যারি ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ক্যাপ্টেন। ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের পঞ্চম উত্তরসূরি তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলসে জন্ম নেয়া মেগানের মা সমাজকর্মী ও যোগব্যায়াম পরামর্শক ডরিয়া র্যা গল্যান্ড ও বাবা আলোক নির্দেশক টমাস মার্কেল। মেগান পড়াশোনা করেছেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে। যুক্তরাজ্যের জনগণের কাছে অনেকটা অপরিচিত হলেও হলিউডে আছে মেগানের বেশ জনপ্রিয়তা।