'৪০ লাখে সাধারণ সম্পাদক হয়েছি, ৬ মাসেই দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসবে'

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সময়ঃ দুপুর ১ঃ৪০
'৪০ লাখে সাধারণ সম্পাদক হয়েছি, ৬ মাসেই দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসবে'
'৪০ লাখে সাধারণ সম্পাদক হয়েছি, ৬ মাসেই দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসবে'

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হতে ৪০ লাখের বেশি টাকা ব্যয় করেছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি নিজেই এমন তথ্য উল্লেখ করে একই সঙ্গে বলেছেন, ব্যয় হওয়া টাকাটা ছয় মাসের মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসবে।

সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনে ইবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাকিব আরো অনেক বিষয়েই কথা বলেছেন। এ সম্পর্কিত সাত মিনিট ২৭ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। গত ঈদুল আজহার আগে এই কথোপকথন হয় বলে জানা যায়। তবে ফোনের অন্য প্রান্তের ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অডিও ক্লিপ থেকে জানা যায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাহমুদুল হাসান নামের এক ছাত্রলীগকর্মীকে নেতা বানিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়। তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলে। টেলিফোনের অন্য প্রান্ত থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ও ভিসির সঙ্গে মাহমুদুলের ভালো সম্পর্ক।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক আইডি থেকে ৪ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের অডিওটি ফাঁস হয়। তবে বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর থেকে আইডিগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।  

কথা বলার এক পর্যায়ে রাকিব অজ্ঞাত ব্যাক্তির কাছে ইবি ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটি ভাঙা, নতুন কমিটি গড়া ও প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার খরচ বাবদ বিশাল অংকের টাকা খরচ (অডিওতে ৪০ এর কথা উল্লেখ আছে) হয়েছে বলে স্বীকার করেন। পাশাপাশি ছয়মাসের মধ্যে এ টাকা দ্বিগুণ করে নেওয়ার বিষয়টিও বলেন।

এ প্রান্ত থেকে রাকিব জানান, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মাধ্যমে তিনি মাহমুদুলকে নেতা বানাতে পারবেন। রাব্বানী তাঁকে আঞ্চলিক দায়িত্ব দিয়েছেন। ফোনালাপে রাকিব বলেন, ‘ঢাকা যায়ে খাটতে হয়। ঢাকা যেয়ে খাটতে বলতে কি, বহুত কাঠখড়ি আছে। তবে এখন আমার যে হিসাব-নিকাশ, রাব্বানী ভাইয়ের সাথে আমার যে সম্পর্ক, এই আঞ্চলিক...এ বিষয়টা আমি যদি ভাইরে বলি ভাই আমার কথা শুনবে। ভাই অলরেডি আমাকে বলেছেও আঞ্চলিক বিষয়গুলো দেখার জন্য।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে মাহমুদুলকে নেতা বানাতে খরচ কেমন হতে পারে এমন বিষয় উঠে আসে।

অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি : তোমার (রাকিব) ইয়ে সম্পর্কে তুমি যেভাবে বলছিলে আর কি, বিভিন্নভাবে কমিটি ভাঙা, গড়া, প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার খরচটরচ দিয়ে তোমার তো একটা বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে গেছে।

রাকিব : হুমম, হিউজ, হিউজ...।

অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি : সেই ফিগার তো আমি জানি, তা প্রায় মনে হয় চল্লিশের কাছে হবে!

রাকিব : হুমম। না ভাই, শোনেন, কোনো ছেলেরে ইয়ে করতে গেলে...এখন আমার যা খরচ হইছে এটা কোনো ব্যাপার না। ওইটা ছয় মাস গেলে সব ডাবল হয়ে যাবে, সমস্যা নাই। ওরে ফোন দিতে কন, আমি গিয়ে দেখা করে আসবোনি।

অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি : শোভন বা রাব্বানী দুইটা লাইনই তো তুমি কনফার্ম করতে পারবা?

রাকিব: হ্যাঁ, হ্যাঁ, কনফার্ম করতে হবে।

অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি : না, সেটা না, বলছি যে শোভন বা রাব্বানী দুইটা লাইনই তো তুমি কনফার্ম করতে পারবা?

রাকিব : হ্যাঁ, হ্যাঁ, পারব; দুইটাই পারব।

অডিও ক্লিপ থেকে আরো জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আগের কমিটি ভাঙতেও কাজ করেন রাকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার জন্যই কমিটি ভাঙা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের মাধ্যমে কমিটি ভাঙা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এ অডিও প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ সম্পাদক হয়ে এ কাজ করায় ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে তন্ময় সাহা টনি নামে এক শাখা ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, ‘একজন ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মী হয়ে এ বিষয়টি আমার কাছে গুরুতর মনে হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি যাচাই বাছাইয়ের জন্য আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

তবে অডিও ক্লিপটি নিজের নয় দাবি করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘অডিও ক্লিপটি আমার নয়। আমাকে বিভ্রান্ত করতে কেউ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এফ এইচ পি

Share on: