নোয়াখালীকে বিভাগের দাবিতে ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২১ | আপডেট: ১০:১৬ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২১

নোয়াখালীকে বিভাগের দাবিতে ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

সাইফুর রহমান রাসেল: মেঘনা উপকূলবর্তী তৎসংলগ্ন  অপার সম্ভাবনাময় নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ফেনী জেলার সমন্বয়ে নোয়াখালীকে দশম প্রশাসনিক বিভাগ ঘোষণা এখন শুধু সময়ের দাবিই নয়, এটা আমাদের অধিকার বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন বৃহত্তর নোয়াখালীর সকল ভাষাভাষীর মানুষ।।

সম্প্রতি ‘‘কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষনা করা হয়েছে” ভুয়া খবরের নিন্দা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নোয়াখালীকে অনতিবিলম্বে বিভাগ ঘোষনা করার জোর দাবি জানান নোয়াখালীবাসী।

অপরদিকে, বিভাগ দাবির ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ দুই দশক যাবৎ বৃহত্তর নোয়াখালীর সকল শ্রেণীপেশার মানুষ, বিভিন্ন  পেশাজীবী সংগঠন, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সকল রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি,গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের জনগণ নোয়াখালীকে দশম প্রশাসনিক বিভাগ ঘোষনার দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শাহবাগের প্রজম্ম চত্বরে, পাড়ার গলি থেকে রাজপথে, এমনকি বৃহত্তর নোয়াখালীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে শুরু করে, প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি উপজেলায়, প্রত্যেকটি ইউনিয়নে, গ্রামে,গঞ্জে, হাটে, ঘাটে, মাঠে, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায়, মসজিদ,মন্দির,গির্জাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের প্রাণের দাবির স্বপক্ষে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।

জেলাবাসীর মতে নোয়াখালী বিভাগ দাবির যৌক্তিকতা :

সবুজে শ্যামলে ঘেরা অপরুপ সৌন্দর্যের চোখ জুড়ানো,মন মাতানো নিঝুম দ্বীপের জেলা নোয়াখালী। এর ভৌগোলিক অবস্থান, ৩টি জেলার আয়তন, জনসংখ্যা, মেঘনার বুকচিরে প্রতি বছর জেগে উঠা বিশাল ভূখন্ড, যা বাংলাদেশের বুকে আরেকটি ছোট্র বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে। এছাড়াও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অপার হাতছানি সর্বোপরি ধনে,মনে,জনে,ইতিহাস,ঐতিহ্যে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিপূর্ণ একটি জেলা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নোয়াখালী।

উল্লেখ্য,নোয়াখালীর বর্তমান আয়তন ৪২০২ বর্গকিলোমিটার এবং ২০১১সালের সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী নোয়াখালীর জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ২৫১ জন। এর মধ্যে হাতিয়া উপজেলার আয়তন ২১শ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে হাতিয়া উপজেলার বর্তমান আয়তন ৪৯০০ বর্গকিলোমিটার। সে হিসেবে নোয়াখালী জেলার আয়তন হবে হাজার বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ হাতিয়া উপজেলার আয়তন দুইটি জেলার আয়তনের সমান। সব মিলিয়ে ৩টি জেলার আয়তন হাজার ৩৮৩ বর্গকিলোমিটার।

এরমধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলার আয়তন ১হাজার ৩৬৭.৫৯ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা ১৭ লাখ ২৯ হাজার ১৮৮ জন এবং ফেনী জেলার আয়তন ৯শ ২৮.৩৪ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৩৮ জন উল্লেখ করা হলেও বিভিন্ন তথ্যমতে বর্তমানে ৩টি জেলার জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি।

নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ফেনী জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটছে।হয়েছে ফোরলেন সড়ক। নোয়াখালীর জেলা সদরের দক্ষিণে অপার সম্ভাবনাময় বিশাল এলাকা এখন আলোচনার বিষয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত অঞ্চলটিতে কৃষি, শিল্প, মৎস্য পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। জেলা শহরের দক্ষিণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সূবর্ণচরে আছে গ্যাস ফিল্ড, করা হয়েছে অর্থনৈতিক জোন। এছাড়াও আইটি পার্ক,কৃষি বিশ্ববিদ্যালন,বিমান বন্দর স্থাপনের সিদ্ধান্তসমূহ পরিকল্পনাধীন। জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মাঝারি ও বৃহৎ আকারের প্রায় ১০০টিরও বেশী মৎস্য খামার ।

এছাড়াও মেঘনার তীরবর্তী অঞ্চলটিতে রয়েছে একাধিক নৌ-বন্দর স্থাপনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা । নোয়াখালীতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্বাস্থ্য সহকারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বৃহদাকারের একটি পাটকল, ৩টি বৃহৎ বিস্কুট ফ্যাক্টরী, ওষুধ ও সফট ড্রিংকস শিল্প প্রতিষ্ঠান, ২টি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা ছাড়াও চৌমুহনী ও সোনাপুরে অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীতে বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্য নগরী চৌমুহনী বাজারের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন শত কোটি টাকার লেনদেন হয় ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটিতে।

অপরদিকে বন্দর নগরী চট্রগ্রামের সাথে দেশের অবশিষ্ট অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের সেতুবন্ধন মুল মাধ্যম জেলা ফেনী ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা হচ্ছে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়ী অঞ্চল। সোনাগাজীতে রয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, মুহুরী প্রজেক্ট, বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প, সোনাপুর-জোরালগঞ্জ সড়ক সংযোগস্থল। এছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিমানবন্দর নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সোনাগাজীর দক্ষিণে বিশাল চর জেগে উঠায় জেলাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

তেমনিভাবে ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুর জেলার মজু চৌধুরীর ঘাট এবং রায়পুর উপজেলার মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৫টি জেলার যোগাযোগ বজায় রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা ধান, পাট, সুপারী, নারিকেল মৎস্য সম্পদের জন্য বিখ্যাত। বৃহত্তর নোয়াখালীর অনেক কৃতী সন্তান শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তেমনিভাবে এতদ্বঞ্চলের ১৫ লক্ষাধিক অধিবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছে।

জাতীয় রাজনীতিতেও বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর গুরুত্ব অপরিসীম। এযাবৎ বিভিন্ন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে এখানকার অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদগণ। জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বৃহত্তর নোয়াখালীর অনেক গুণীজনের অবদান দেশবাসী কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। শিক্ষা, সাংস্কৃতি, শিল্প, ঐতিহ্য সব দিকে এগিয়ে আছে বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী এই দিক থেকে শতভাগ যৌক্তিকতা রয়েছে নোয়াখালীকে দশম প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের।

নোয়াখালী বিভাগ হলে কি হবে:

নোয়াখালী বিভাগ হলে কি হবে এমন প্রশ্ন এখন অনেকেরই.?

এমন প্রশ্নের জবাবে নোয়াখালীর বিজ্ঞজনেরা বলেন, নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা করা হলে ৩টি জেলার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে। এতে করে এতদ্বঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। নোয়াখালী বিভাগ হলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরন হবে, ফলে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, নতুন নতুন কলকারখানা সৃষ্টি হবে,ফলে বেকারত্ব দূর হবে, শিক্ষা ও কৃষিতে আধুনিকায়ন হবে,ফলে নিরক্ষরতা হ্রাস পাবে, আধুনিক যন্ত্রপাতির কারনে কৃষকের ঘাম ঝরানো ৮ঘন্টার কাজ ১ঘন্টায় করা সম্ভব হবে, এতে সময় ও অর্থ দুই কম লাগবে, জমিতে বেশি ফলন হবে, কৃষক তার নায্যপ্রাপ্তি পাবে। উপকৃত হবে প্রান্তিক কৃষকও। এছাড়াও বিভাগ হলে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়বে এতে খুন,গুম,মাদক ও ধর্ষণের মত মহামারী অনেকটাই হ্রাস পাবে। শুধু প্রথম শ্রেনীই নয় বিভাগ হলে নিম্ন শ্রেনী থেকে শুরু করে একজন কামার,কুমার,তাতী,জেলে সমান ভাবে এর সুফল ভোগ করবে।

অপরদিকে বর্তমান সরকার দেশে নতুন একাধিক বিভাগ ঘোষণার প্রেক্ষিতে দাবি আরো বেগবান হচ্ছে। নিরাপদ নোয়াখালী চাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান রাসেল বলেন, নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর অধিবাসী একাট্রা। অপার সম্ভাবনাময় বৃহত্তর নোয়াখালীর সার্বিক উন্নয়নে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা এখন শুধু সময়ের দাবিই নয় অধিকারও। বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধ। তাই বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার জন্য আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই।

দিন যতই যাচ্ছে নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার যৌক্তিকতা আরো বেগবান হচ্ছে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার দেশে একাধিক বিভাগ ঘোষণা করেন এবং আরো একাধিক বিভাগ ঘোষণার সিদ্বান্ত নিয়েছেন। তাই এখন নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবি বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রায় ১কোটি ভাষাভাষী মানুষের।


নোয়াখালী বিভাগ চাই গানটি দেখুন। বিভাগ সম্পর্কিত আপডেট পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।