ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ রানার অপরাধনামা

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
বার্তাজগৎ২৪ প্রতিবেদক : বার্তাজগৎ২৪ প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২২ | আপডেট: ৯:৩৫ অপরাহ্ন, ২৭ মে ২০২২
মাসুদ রানা

মাধববদী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ রানা অপূর্বের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ২০১৭ সালে মাসুদ রানাকে সভাপতি এবং দেলোয়ার হোসেন শাহীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১ বছরের জন্য মাধবদী থানা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগ। কমিটির ঘোষণার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠে মাসুদ-দেলোয়ার।

জানা যায়, মাসুদ রানার নেতৃত্বে মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করে এই মাসুদ রানা। মাধবদী থানার অন্তর্গত পাইকারচর ইউনিয়নের সাগরদী গ্রামের পারবিন আক্তার(৪০) নামের এক গৃহবধূ মাসুদ রানার জোরপূর্বক সালিশি রায়ে আত্মহত্যা করেন এই।

আরও পড়ুন : কুমিল্লা সিটির ভোট ১৫ জুন

সম্প্রতি যে বিষয়টা আলোচনায় উঠে এসেছে তা হল কমিটি বাণিজ্য। কমিটি বাণিজ্য নিয়ে তার বেশ কিছু কল রেকর্ড সাামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে শুনা যায় তিনি টাকার বিনিময়ে কমিটি দিয়ে দেবার আশ্বাস দিচ্ছেন। এই কমিটি বাণিজ্য সমালোচনার ঝড় উঠলে তিনি বেশ চাপে পরে যান।

পরপর্তীতে কমিটি বাচাঁতে হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে টাকা দিতে হবে বলে তিনি অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। যাদের কাছ থেকে টাকা নেয় মাসুদ- পাচদোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, মেহেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহবুবুল হাসান।

যদিও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বিনয়ী এবং কমিটিতে কোন ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন করে না এটাই সর্বমহলে প্রসংশিত। মাসুদ রানা আল নাহিয়ান খান জয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে মাধবদীর বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করার অভিযোগও রয়েছে।

জানা যায়, মাসুদ রানা বিবাহিত এবং ১ সন্তানের জনক। যা ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক। সেই সাথে সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনও বিবাহিত এবং বর্তমান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। দেলোয়ার হোসেন শাহীন কে নিজ এলাকায় টেটা যুদ্ধের কমান্ডো হিসেবে সবাই চিনে।

এর আগে মাসুদ রানা সাামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন যা সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। আরো জানা যায়, মাসুদ রানা নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের তিনি অশালিন ভাষায় গালাগাল করেন।

কমিটি বাণিজ্যের প্রেক্ষিতে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুল হাসান মিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক রিমন সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের শোকজ করা হয়। ৩ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়, কিন্তু উল্টো পথে হাটেন মাধবদী থানা ছাত্রলীগ। যে কমিটি বাণিজ্যের জন্য তাদের বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়েছিল অথচ কারণ দর্শানো না করে তারা কমিটি দিয়েছে একটি ইউনিয়নের। যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও সারা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক রিমন বলেন, আমাদের সাথে যোগাযোগ করে কমিটি দেয়নি তারা। আমরা শোকজ করেছি তারা আমাদের কাছে অফিসিয়ালি নোটিশের বক্তব্য উপস্থাপন করেনি। যা করেছে সব সংগঠনের নিয়মবহির্ভূত। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মানিত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ভাই এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্য দাদার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব। নিয়মবহির্ভূত কোন কর্মকাণ্ড আমরা মেনে নিব না।

এ বিষয়ে মাধবদী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক দুই জনের কারো সাথেই যোগাযোগ করা যায়নি।

[ আগামী পর্বে থাকছে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুল হাসান মিন্টু ভারপ্রাপ্ত থেকে ভারমুক্তের ঘটনাচক্র এবং চাদাঁবাজি সহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ ধারাবাহিক প্রতিবেদন ]

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ