ছাত্রদলের ডাকসাইটের নেতা হঠাৎ যুবলীগে তৎপর

বার্তাজগৎ২৪ ডেষ্ক: বার্তাজগৎ২৪ ডেষ্ক:
প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২২ | আপডেট: ১:৪৫ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২২

নাম সেলিম সাজ্জাদ, পেশায় ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দারুণ সখ্য। দলীয় কোনো পদ-পদবি না থাকলেও এলাকার লোকজন তাকে চেনেন যুবলীগ নেতা হিসাবে।

অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেলিম সাজ্জাদ ময়মনসিংহ মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। তার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়।

তার আপন বড় ভাই লিটন আহমেদ রানা। ময়মনসিংহ মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড আহবায়ক কমিটির সদস্য। তার আরেক ভাই রিপন। যাকে সবাই মাল্টি রিপন নামে চিনে। এই রিপনও ছাত্রদলের সাবেক সক্রিয় কর্মী ছিল। এখন ভোল্ট পাল্টে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে। তার আরেক ভাই আবার ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। ইয়াসিন আরাফাত খোকন আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক। খোকনের শ্বশুড় আবার বিএনপির রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
ময়মনসিংহ মহানগরের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।



সম্প্রতি ময়মনসিংহ মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মীসমাবেশ শেষ হবার নতুন নেতৃত্বে আসতে প্রার্থীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ চলছে। সেখানে হ্যাভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির ডাক সাইডের নেতা সেলিম সাজ্জাদ। জানা যায়, তিনি জোয়ারি বোর্ড পরিচালনা করেন।

তার ভাই রিপনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা সহ জমি দখল, টেন্ডার বাজি, মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। সবকিছু তিনি নিয়ন্ত্রন করছে যুবলীগের দলীয় পরিচয়ে।

এ বিষয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, এমন অসংখ্য নাম আছে,যারা সুখের দিনে আওয়ামী লীগে এসে ক্ষমতাসীন থেকে অনেক সুবিধা নিচ্ছে। ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। দলের আদর্শ বিক্রি করে প্রতারণা, জালিয়াতি ও দূর্নীতির মাধ্যমে অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছে বা বিত্তবৈভব রক্ষা করেছেন। কিন্তু এরা কেউই দলের ত্যাগী নেতাকর্মী না। দলের জন্য তাদের শ্রম, ঘাম, সংগ্রাম কোনটাই নেই। এরপরও এরা আওয়ামী লীগে এসেছেন এবং এদের পৃষ্টপোষক করছেন আওয়ামী লীগেরই নেতাকর্মীরা। অথচ ত্যাগী কর্মীরা আজ অবহেলিত।

এ বিষয়ে মহানগর যুবলীগের আহবায়ক শাহীনুর রহমান জানান, আমরা কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশে কর্মীসমাবেশ করেছি এবং সিভি আহবায়ন করেছি। সেখানে অনেকে সিভি জমা দিয়েছে। আমরা এমন কাউকে নেতৃত্বে আনবো না যারা বিএনপি পরিবার থেকে নব্য আওয়ামী লীগার হয়েছে। আমাদের কে কেন্দ্রীয় যুবলীগ থেকে নির্দেশে নতুন নেতৃত্ব তুলে আনবো। সেখানে কোন টেন্ডার বাজ, অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ীদে নেতৃত্বে জায়গা হবে না। তিনি আরো বলেন, যুবলীগ করতে হলে নিরেট আওয়ামী পরিবারের হতে হবে, মাদকমুক্ত থাকতে হবে।

এ বিষয়ে সেলিম সাজ্জাদ কে একাধিক বার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।