সমন্বয়হীনতা চলতে থাকলে লকডাউন-শাটডাউনে সফলতা আসবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২১ | আপডেট: ৯:৩৯ অপরাহ্ন, ২৭ মে ২০২২

দেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির অবনতি ঘটছে দ্রুত। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। আগের চেয়ে অনেক বেশি শনাক্ত হচ্ছে নতুন রোগী। প্রতিবেশী ভারতে সম্প্রতি করোনা যে পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, তেমনি কিছু এ দেশে হলে সামলানো যাবে কি-না তা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টরাই সন্দিহান।

এ অবস্থায় আগাম সতর্কতা হিসেবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লকডাউন বা শাটডাউন নামে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যবস্থাপনার দিকেও মনোযোগ দেয়ার কথা বলে আসছেন তারা। ইতোমধ্যে সরকারের তরফ থেকে ঘোষিত সীমিত পরিসরে লকডাউন চলছে। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে কঠোর লকডাউন, যা বাস্তবায়নে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী-বিজিবিও।

কিন্তু অতীতের লকডাউন বা বিধিনিষেধের অভিজ্ঞতায় বিশ্লেষকরা এসব সীমিত বা কঠোর লকডাউনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়েও সন্দিহান। তারা বলছেন, অতীতে সরকারের তরফ থেকে লকডাউনের মতো পদক্ষেপ ঘোষিত হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় দেখা যায়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে লকডাউন বা শাটডাউন, যা-ই ঘোষণা করা হোক, কোনো সুফল দেবে না।

করোনা ও লকডাউনে জীবন ও জীবিকার মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে এবিএম মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউনের মতো কঠোর কর্মসূচি নিতেই হবে। কারণ আমাদের আশপাশের দেশগুলো খানিক রিলাক্সে থাকলেও তারা এখন কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াও লকডাউনে যাচ্ছে। আমাদের তো অন্য কোনো উপায় নেই। এতে করে যে ক্ষতি হবে তা মেনে নিতেই হবে। কিন্তু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যে সমন্বয় দরকার, তাতে ব্যাপক ঘাটতি আছে।’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘করোনা মহামারির আমরা দেড় বছর পার করলাম। এটি কম সময় নয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, তা অনুমান করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট যখন বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন বোঝাই যাচ্ছিল আমাদেরও এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অথচ আমরা সেই রকম প্রস্তুতি নিতে পারিনি।’