শাওমি লঞ্চ করলো ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ সিরিজের তিন ফোন

সিরাজুস সালেকীন সিরাজুস সালেকীন
প্রকাশিত: ১:৫০ পূর্বাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২২ | আপডেট: ১:৫০ পূর্বাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২২
(no caption)
গেমিং ফোনের বাজারে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে আসুসের রগ ফোন, যেড টি ই এর নুবিয়া রেড ম্যাজিক, শাওমির ব্ল্যাকশার্ক ও লেনোভোর লিজিয়ন ফোন। এরই মাঝে শাওমির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকশার্ক ঘোষণা দিল তাদের নতুন গেমিং ফোনের। বুধবার (৩০ মার্চ) তারা লঞ্চ করেছে ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ সিরিজের তিনটি নতুন ফোন। ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ, ফাইভ আরএস এবং ফাইভ প্রো। এর আগে ২০২১ সালের মার্চে বাজারে আসে ব্ল্যাকশার্ক ফোর সিরিজের দুটো ফোন, ব্ল্যাকশার্ক ফোর ও ফোর প্রো এবং অক্টোবরে বাজারে আসে ব্ল্যাকশার্ক ফোর এস প্রো। এই সিরিজের তিনটি ফোনই প্রযুক্তি বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে তারা নতুন ফোন বাজারে নিয়ে আসলো।

ব্ল্যাকশার্ক তাদের ফাইভ সিরিজের ফোনে সর্বাধুনিক প্রসেসর ব্যবহার করেছে। সেই সাথে দেওয়া হয়েছে দুর্দান্ত সব গেমিং ফিচার। ব্ল্যাক শার্কের দাবি এবার তারা অন্য সব কোম্পানির গেমিং ফোনকে টেক্কা দিবে। তবে বরাবরের মতই এবারও তারা পিছিয়ে থাকছে ব্যাটারির কর্মক্ষমতায়। অবশ্য অন্যান্য গেমিং ফোনের তুলনায় ব্ল্যাক শার্কের ফোনের মূল্য সবসময়ই কম হয় সেক্ষেত্রে হয়তো ব্ল্যাকশার্ক তাদের এই সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার দাবি করতেই পারে। তবে গেমারদের কাছে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির প্রাধান্য অনেক বেশি।

ব্ল্যাকশার্ক জানিয়েছে চীনের বাজারে আগামী ২ এপ্রিল থেকে ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ ও ফাইভ প্রো কিনতে পাওয়া যাবে। এবং ফাইভ আরএস এর জন্য অনলাইনে প্রি বুকিং করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে কবে থেকে ফোনগুলো পাওয়া যাবে তা জানায়নি ব্ল্যাকশার্ক। তবে ধারণা করা হচ্ছে এপ্রিলের শেষ দিকে ফোনগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে সহজলভ্য হবে।

ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ প্রো স্মার্টফোনটিতে প্রসেসর হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগনের সর্বশেষ সংস্করণ ও সর্বাধুনিক চার মিলিমিটার প্ল্যাটফরমের 'এইট জেন ওয়ান' চিপসেট। আট কোরের এই প্রসেসরটি ৩ গিগাহার্জ পর্যন্ত স্পিড আপ করতে সক্ষম। সহায়ক হিসাবে থাকছে ৮, ১২ ও ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম। গ্রাফিক্স কার্ড হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাড্রিনো ৭৩০। আরও থাকছে ২৫৬ ও ৫১২ গিগাবাইট স্টোরেজ সুবিধা। ফোনটি চলবে অ্যান্ড্রোয়েড টুয়েলভ অপারেটিং সিস্টেমে আর ইউজার ইন্টারফেস বা ইউআই থাকছে জয় ইউআই ১৩। এই ফোনটি পাওয়া যাবে ৮/২৫৬; ১২/২৫৬ ও ১৬/৫১২ তিনটি ভ্যারিয়েন্টে।

অপরদিকে ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ স্মার্টফোনটিতে প্রসেসর হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগনের অন্যতম শক্তিশালী ও সাত মিলিমিটার প্ল্যাটফরমের '৮৭০' চিপসেট, যা ৩.২ গিগাহার্জ পর্যন্ত স্পিড আপ করতে সক্ষম। সহায়ক হিসাবে থাকছে ৮ ও ১২ গিগাবাইট র‍্যাম। গ্রাফিক্স কার্ড হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাড্রিনো ৬৫০। আরও থাকছে ১২৮ ও ২৫৬ গিগাবাইট স্টোরেজ সুবিধা। ফোনটির অপারেটিং সিস্টেম আর ইউজার ইন্টারফেস একই থাকছে। এই ফোনটি পাওয়া যাবে ৮/১২৮; ১২/১২৮ ও ১২/২৫৬ তিনটি ভ্যারিয়েন্টে।

এদিকে ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ আরএস মডেলটির থাকছে দুটি ভ্যারিয়েন্ট। এর একটিতে প্রসেসর হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগনের পাঁচ মিলিমিটার প্ল্যাটফরমের '৮৮৮' চিপসেট, যা ২.৮৪ গিগাহার্জ পর্যন্ত স্পিড আপ করতে সক্ষম। যার সহায়ক হিসাবে থাকছে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম ও ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজ সুবিধা। অপরটিতে প্রসেসর হিসাবে থাকছে একই প্ল্যাটফরমের '৮৮৮ প্লাস' চিপসেট, যা ৩ গিগাহার্জ পর্যন্ত স্পিড আপ করতে সক্ষম। সহায়ক হিসাবে থাকছে ১২ গিগাবাইট র‍্যাম ও ২৫৬ গিগাবাইট স্টোরেজ সুবিধা। দুটি ভ্যারিয়েন্টেই গ্রাফিক্স কার্ড হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাড্রিনো ৬৬০। এই মডেলেও অপারেটিং সিস্টেম একই থাকছে তবে ইউজার ইন্টারফেস থাকছে জয় ইউআই ১২.৮।

ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ সিরিজের তিনটি ফোনে একই ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ডিসপ্লে হিসাবে দেওয়া হয়েছে ১ বিলিয়ন কালার সাপোর্টেড ৬.৭ ইঞ্চির ওএলইডি/অ্যামোলেড মনিটর যা ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেটে অপারেট করা যাবে। এছাড়াও থাকছে এইচডিআর টেন প্লাস। ডিসপ্লের রেজুলেশন ১০৮০বাই২৪০০ (ফুল এইচডি)। ডিসপ্লের সুরক্ষায় স্ক্রিন হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাসের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক সংস্করণ গরিলা গ্লাস ভিক্টাস।

তিনটি ফোনেই পিছনের ক্যামেরা প্যানেলে ৩টি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ প্রো-তে প্রাইমারি ক্যামেরা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ১.৮ অ্যাপারচারের ১০৮ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ২৫ মিলিমিটার ওয়াইড। সেকেন্ডারি ক্যামেরা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ২.৪ অ্যাপারচারের ১৩ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ১৫ মিলিমিটার ও ১২০ ডিগ্রি আল্ট্রাওয়াইড। তৃতীয় ক্যামেরা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ২.৪ অ্যাপারচারের ৫ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ৫২ মিলিমিটার টেলিফটো। আর সেলফি ক্যামেরা হিসাবে থাকছে ২.৪ অ্যাপারচারের ১৬ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ২১ মিলিমিটার ওয়াইড।

অপরদিকে ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ স্মার্টফোনটির প্রাইমারি ক্যামেরা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ১.৮ অ্যাপারচারের ৬৪ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ২৫ মিলিমিটার ওয়াইড। সেকেন্ডারি ক্যামেরা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ২.৪ অ্যাপারচারের ১৩ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ১৫ মিলিমিটার ও ১২০ ডিগ্রি আল্ট্রাওয়াইড। তৃতীয় ক্যামেরা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ২.৪ অ্যাপারচারের ২ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ম্যাক্রো। এর সেলফি ক্যামেরা সেটাপ একই থাকছে।

এদিকে ফাইভ আরএস স্মার্টফোনটিরও প্রাইমারি ক্যামেরা হিসাবে থাকছে ৬৪ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর। সেকেন্ডারি ক্যামেরা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ২.৪ অ্যাপারচারের ৮ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ১৫ মিলিমিটার ও ১২০ ডিগ্রি আল্ট্রাওয়াইড। তৃতীয় ক্যামেরা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ২.৪ অ্যাপারচারের ৫ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ৫২ মিলিমিটার টেলিফটো। আর সেলফি ক্যামেরা হিসাবে থাকছে ২.৪ অ্যাপারচারের ২০ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সর যার লেন্স ২১ মিলিমিটার ওয়াইড।

তিনটি ফোনেই সাউন্ড সিস্টেম হিসাবে থাকছে স্টেরিও স্পিকার তবে ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ ফাইভ প্রো-তে থাকছেনা কোনো হেডফোন জ্যাক। আলাদা মেমোরি কার্ড স্লটও থাকছে না কোনো ফোনেই। তিনটি ফোনই অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের। ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ প্রো ও ফাইভ আরএস এর ওজন ২২০ গ্রাম এবং ফাইভ এর ওজন ২১৮ গ্রাম।

ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ ফাইভ প্রো-কে সচল রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৬৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম পলি ব্যাটারি এবং ফাইভ আরএস স্মার্টফোনটি সচল রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম পলি ব্যাটারি। তিনটি ফোনই ১২০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্টেড। তিনটি ফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাশের পাওয়ার বাটনে ইনভার্ট করা। এর পাশাপাশি তিনটি ফোনেই গেমিং এর জন্য ম্যাগনেটিক গেমিং কনসোল বাটন তো থাকছেই।

ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ প্রো পাওয়া যাবে সাদা ও কালো দুটো রঙে; ফাইভ পাওয়া যাবে সাদা, কালো ও ধূসর তিনটি রঙে এবং ফাইভ আরএস পাওয়া যাবে কালো ও হলুদ দুটো রঙে।

ব্ল্যাকশার্ক ফাইভ প্রো-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬০ ইউএস ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৭ টাকা; ফাইভ-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২৫ ইউএস ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৭ হাজার টাকা; ফাইভ আরএস-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২০ ইউএস ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা

এপ্রিলে ফোনগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে চলে আসলেও এই ফোন বাংলাদেশে কখনোই অফিশিয়ালি আসবে না।