শনিবার, ৮ মে ২০২১ , ২৫ বৈশাখ ১৪২৮

মাটিরাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্ধকৃত ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম

ইব্রাহিম হোসেন, মাটিরাঙ্গা
প্রকাশিত :বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১, ০৩:১৫

  • খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিনামূল্যে এসব ঘর দেয়ার কথা থাকলেও ঘর প্রতি ২,০০০

    খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিনামূল্যে এসব ঘর দেয়ার কথা থাকলেও ঘর প্রতি ২,০০০০ (বিশ হাজার) টাকা আদায় করছেন ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন লিটন।


    পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে না পারায় গরিব আসহায় খেটে খাওয়া দিন মজুর গোমতী ইউনিয়নের শান্তিপুর ০১ নং ওয়ার্ডের মজুমদার পাড়ার বাসিন্দা আবু তাহেরের নামে সরকারি বরাদ্দ হওয়া ঘরটি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি ইসমাইল হোসেনকে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আবু তাহের।

     

    বার্তা জগৎ ২৪ এ আরো পড়ুন -

     

    ১.শুক্রবার সাড়ে ৭ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

    ২.আফগানিস্তানে দীর্ঘ যুদ্ধের বন্ধের ঘোষণা জো বাইডেনের

     

    আবু তাহের বলেন, "আমি অত্যন্ত গরিব, দিন মজুরি করে দিনে ২০০/২৫০ টাকা আয় করে আমার বৃদ্ধ পিতা মাতা নিয়ে কোন রকম দিন যাপন করছি। থাকার মতো একটি ঘর নেই আমার। এলাকার মেম্বারের কাছে একটি ঘরের জন্য আবেদন করলে আমার নামে একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ আসে। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব আমার কাছে থেকে ( ৫০,০০০) পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে না পারায় আমার নামে বরাদ্দকৃত ঘরটি পার্শ্ববর্তী বিত্তবান ইসমাইল হোসেনকে দেওয়া হয়। আমি এ বিষয়ে জানতে ইউপি অফিসে গেলে উল্টো আমাকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন মহলে জানালেও কেউ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।"

    এ বিষয়ে ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন বলেন, "আমার ওয়ার্ডে আবু তাহের অত্যন্ত গরিব ও খেটে খাওয়া দিন মজুর। তার নামে সরকারি বরাদ্দ হওয়া ঘরটি দেয়ার পরিবর্তে চেয়ারম্যান সাহেব একজন সচ্ছল ও বৃত্তবান লোককে কিভাবে দিলো তা আমার জানা নাই। আমি বিষয়টি জানার পর চেয়ারম্যান সাহেবকে জিজ্ঞেসা করলে উত্তরে চেয়ারম্যান সাহেব জানায় ওনার নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে। তবে যাকে ঘর দেওয়া হয়েছে সে ঘর পাওয়ার জন্য আমার কাছে কোন আবেদনও করে নাই এবং প্রকৃত পক্ষে সে একজন সচ্ছল ব্যাক্তিও বটে।"

    এ বিষয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানান তিনি। 

     

     

    গোমতি ০১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে স্বপ্ন নিয়ে অসহায় মানুষদের ঘর দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা গোমতী ইউনিয়নে ঘর নির্মাণকাজে চেয়ারম্যান নিজেই ঠিকাদার। লাখ টাকার ঘরে মালপত্র দিয়েছেন অর্ধেক ও নিম্নমানের। ঘরপ্রতি ২০,০০০( বিশ হাজার) টাকা কেরিং খরচ বাবদ দিতে হবে বলে চেয়ারম্যান স্থানীয় এক মিটিং- এ জানিয়েছেন।

     

    মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকল্প বায়স্তবায়ন কর্মকর্তা রাজ কুমার শীল জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, এবং আবু তাহের পরবর্তীধাপে ঘর পাবে।যাদেরকে ঘর দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে সামান্য কিছু অর্থ নেয়া হয়ে থাকে যা ব্যবহৃত হয় আসবাবপত্র কেরিং এর কাজে, এছাড়া আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমি জানিনা।

     

    এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোমতী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন লিটন বলেন, আমি আনাড়স মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছি।এইজন্য আমার উপর নানান অভিযোগ রটানো হচ্ছে।তবে এটা সত্য যাদেরকে ঘর দিয়েছি তাদের থেকে কিছু অর্থ নিয়েছি তাদের আসবাবপত্র কেরিং এর জন্য। আবু তাহেরকে বলা হয়েছিল তার নামে ঘর বরাদ্দ এসেছে কিছু অর্থ দেওয়ার জন্য, কিন্তু সে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে সেই ঘরটি ইসমাইল হোসেনকে দেওয়া হয়।


    ইসমাইল হোসেনের বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, ইসমাইল হোসেন অনেক আগেই একটি ঘরের জন্য আবেদন করে রেখেছিল। সে খরচের টাকা দিয়েছে, যার জন্য ইসমাইল হোসেনের ছেলে ঘর পেয়েছে। তার সম্পত্তির বিষয়ে আমি জানিনা।

     

    এই প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, গৃহহীনদের ঘরের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। কারণ এই দায়িত্বে আমি নেই। তারপরেও লিটন চেয়ারম্যান এবং মেম্বার লোকমানকে বলেছি তদন্ত করে প্রকৃত ব্যক্তীকে ঘর দেওয়ার জন্য।

    /আবুল বাশার

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com