• বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

বাংলায় এবারও জিতে ডবল সেঞ্চুরির সরকার গড়বো: মমতা

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত :সোমবার, এপ্রিল ১৯, ২০২১, ০৪:৪৬

  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    'বিজেপি মিথ্যা প্রচার করছে, ওরা বাংলায় জিতবে না। মানুষের আশীর্বাদে বাংলায় আমরাই জিতবো। এবারের নির্বাচন বাংলা বাঁচানোর নির্বাচন। এই বাংলা-ই আগামী দিনে ভারতকে বাঁচাবে।’ ষষ্ঠ দফা নির্বাচনি প্রচারে রবিবার খড়দহে এসে এমনই আশাবাদী মন্তব্য করেছেন তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


    তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, বাংলায় উন্নয়ন হয়েছে। আরও উন্নয়ন করতে হবে। আর এই উন্নয়নে তৃণমূলের কোন বিকল্প নেই। সন্ধ্যায় একটি ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও জোর গলায় জানিয়েছেন, এবার ‘ডবল সেঞ্চুরি’র সরকার গড়বে তাঁর দল তৃণমূল।

    এর আগে কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে ক্ষমতায় এলে প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা। জনগণকে আশ্বাস দিয়েছেন দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানেরও। রাজ্যজুড়ে করোনার দ্রুত সংক্রমণের মধ্যে তৃণমূলনেত্রী এদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। তা হল, কলকাতায় সেভাবে আর কোনও বড় জনসভা করবেন না না দল।

    শুধু মাত্র অষ্টম দফার নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিন, অর্থাৎ আগামী ২৬ এপ্রিল বিডন স্ট্রিটে একটি সভা করতে পারেন তিনি।

    দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে তৃণমূলনেত্রী এদিন উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ, গোবরডাঙা, নদীয়ার তেহট্ট এবং ধুবুলিয়ায় একটি করে জনসভা করেন। প্রতিটি জনসভায় উপচে পড়া ভিড় ছিল।


    খড়দহে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন তও্বকে তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেন, আমরা তো ডজন ডজন ইঞ্জিনের সরকার গড়ে দিয়েছি। কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পগুলিই এক-একটি ইঞ্জিন। আমাদের একটি ভোট দিন, সব প্যাকেজ একসঙ্গে নিন।’

    করোনার সময় কেন্দ্র একদিনের বেতন কমিয়ে দিয়েছে বলেও এদিন বলেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের কাছে তাই তাঁর আর্জি, বিজেপিকে একটি ভোটও দেবেন না। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও সতর্ক করে মমতা বলেছেন, ‘বিজেপির ইশারায় চলবেন না। বিজেপির কথাও শুনবেন না। বাংলায় এবারও বিজেপি জিতছে না।’

    তারপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘মোদি-অমিত শাহ বাংলাকে দেশপ্রেম শেখাবেন না। এই বাংলা-ই স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। তোমাদের থেকে বাংলার দেশপ্রেম অনেক বেশি আছে। এই বাংলা সংস্কৃতি, সম্প্রীতির জন্ম দিয়েছে। আমরা সবাই এখানে একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করি।’

    বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে দাঁড়িয়ে নাম না করেই অর্জুন সিংকে তিরস্কার করে মমতা বলেছেন, লোকসভায় জিতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। গদ্দার এমপির বাড়ির নাম মজদুর ভবন। ওখান থেকে শুধু বোমা মারে। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে তেলবাজ বলেন। এ কতবড় তেলবাজ জানেন?


    গোবরডাঙায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়াদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যখন ঠাকুরবাড়ি কেউ চিনত না, তখন আমি বড় মার কাছে যেতাম। তিনি অসুস্থ হলে আমিই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতাম। মতুয়া বিকাশ পর্ষদ, নমঃশূদ্র পর্ষদ, হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিনে ছুটি, কলেজ, হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদের নামে বিশ্ববিদ্যালয় সহ যতটা সম্ভব কাজ করেছি। আমি বিজেপির মতো মিথ্যে বলে ভোট চাইব না।’

    এসময় সরাসরি বিজেপির নাগরিকত্ব দেওয়ার রাজনীতিকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, ‘বিজেপি ভোটের সময় নাগরিকত্ব দেবে বলছে। কীসের নাগরিকত্ব? আপনারা সবাই তো নাগরিক। যদি নাগরিক না হন, তাহলে আপনাদের জমিবাড়ি, পড়াশুনা, স্কুলকলেজে যাওয়া, চাকরি-ব্যবসা, দোকানদারি এখানে হল কী করে! ওরা (বিজেপি) কী নাগরিকত্ব দেবে! সারা বছর মতুয়াদের খোঁজ করে? একটা গোঁসাই, দলপতি কিংবা মতুয়া সম্প্রদায়ের কাউকে তো নির্বাচনি টিকিট দাওনি?’

    তিনি আরও বলেন, ‘নরোত্তম বিশ্বাস মতুয়া সমাজের আদি লোক। তাই তাকে দলীয় টিকিট দিয়েছি। বড়মা আমাকে বলেছিলেন, আমার অবর্তমানে তুমি মতুয়াদের দেখো। আমি মতুয়াদের উন্নয়নে সবকিছু করব।’


    এসময় মমতার কন্ঠে জয় হরিচাঁদ ঠাকুরের জয়, গুরুচাঁদ ঠাকুরের জয়ধ্বনি শোনামাত্র জনতা উচ্ছ্বাসে আপ্লূত হয়।

    ধুবুলিয়ায় মমতার লক্ষ্য ছিল এনআরসি। এখানে তিনি বলেন, ‘অসামে ভোট নেওয়ার পরই তাঁদের ‘ডি’ ভোটারের নোটিস দিচ্ছে। বিজেপি ভোট নেবার পর সবাইকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবে। আমি চাই, আপনারা সকলেই নাগরিক, আপনার এখানেই থাকুন।’


    /

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com