• বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

ঘুরে আসুন অনাবিল সৌন্দর্য্যের আধার মহামায়া লেক

সানজিদা জাহিন প্রিমা:
প্রকাশিত :সোমবার, এপ্রিল ২৬, ২০২১, ০৯:১৬

  • লোকারণ্য থেকে দূরে হারিয়ে যেতে চাইলে সবুজের রাজ্য "মহামায়া ইকোপার্ক" যেন দু'বাহু বাড়িয়ে ডাকে

    লোকারণ্য থেকে দূরে হারিয়ে যেতে চাইলে সবুজের রাজ্য "মহামায়া ইকোপার্ক" যেন দু'বাহু বাড়িয়ে ডাকে।চট্রগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে মায়াবী উপজেলা মিরসরাইয়ের অবস্থিত এই অনিন্দ্য সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ি সৌন্দর্য্যকে পরিপাটি করে সাজিয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার আয়তনের পুরোই যেন সবুজের সাম্রাজ্য। 


    বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ "মহামায়া লেক" এর স্বচ্ছ জলরাশির সৌন্দর্য্য অবলোকন করে ক্লান্ত পথিকের মন প্রশান্ত হয়ে যায়। লেকের চতুর্দিকের পাহাড়ের বুক চিরে ছুটে আসা ক্ষুদ্র-বৃহৎ ছড়ার জলধ্বনি মুখর করে রাখে চারপাশ। মহামায়া লেকের ঝর্ণার পানিতে গোসল করার অনুভূতি অসাধারণ। এই প্রকল্প বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে, এটি লেকের পানি থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার সেঁচের পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে জল বিদ্যুৎ প্রকল্প করার জন্য এই প্রোজেক্ট হাত নিয়েছে।

    সবুজ বনের পাশপাশি বাহারী ফুলের বাগান, রুপসী ঝাউ বন, জুম চাষ আর গুল্মলতা যেন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে।

    পাহাড়ি পিচঢালা রাস্তা বেয়ে উপরে উঠে গেলে এক পলকেই সবুজের মায়ায় হারিয়ে যাওয়া যায়, ব্যাঙের ছাতাকৃতির ছাউনিতে বসে শোনা যায় হরেক ধরণের পাখির কলকাকলি। 

    মহামায়ায় ঢুকতে ১০ টাকা এন্ট্রি ফি দিতে হয়। আর নৌকা ভাড়া করে লেকের মোহনীয় রুপে মাতোয়ারা হতে চাইলে গুণতে হবে ৬০০-১০০০ টাকা। বন্ধু-পরিজন নিয়ে স্নিগ্ধ পরিবেশে নৌভ্রমণ আপনাকে দিবে স্বর্গীয় অনূভুতি। হাতে সময় থাকলে মহামায়া লেকের পানিপথে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ফটিকছড়ি, রামগড়, হোয়াকোসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা; এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে।

    এই লেকে রয়েছে কায়াকিং সুব্যবস্থাও। একা কিংবা ২ জন একসাথে লেকের নীলাভ জলে কায়াকিং করতে পারেন। ১ ঘন্টা কায়াকিং এর জন্য ভাড়া পড়বে ৩০০ টাকা। শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড় রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে ৫ বিকাল টা অব্দি কায়াকিং করা যায়, তবে বিকেল বেলা কায়াকিং এর জন্য সেরা সময়।

    মহামায়া ইকোপার্ক এর অন্যতম বিশেষত্ব হলো এখানে চাইলে পিকনিক করা যায়। রান্নাবান্না করে চড়ুইভাতির আয়োজনও করা যায়। বড়সড় অনুষ্ঠানের জন্যেও এটি বেশ দারুণ জায়গা। ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতেও নেই কোনো বাঁধা।

    সকালের মহামায়া মনোমুগ্ধকর তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে রুপ পাল্টাতে থাকে, গোধুলীলগ্নে যখন সূর্য ডুবন্ত, আকাশে লালিমা তখন লেকের পারে যেন থাকে স্বর্গীয় সৌন্দর্য। আর রাতের মহামায়া সব রুপকে হার মানায়, হয়ে উঠে শান্ত নিরিবিলি ছবির মতো এক গ্রাম।

    রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পেতে রাতে থাকা যায় এখানে।রাত্রিযাপনের জন্য সুলভ মুল্যে তাঁবু ভাড়া করা যায়।

    ক্যাম্পিং ফায়ারিং ও বারবিকিউ পার্টিরও সুব্যবস্থা রয়েছে। এখানে রয়েছে উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তাই অতিথিরা নিশ্চিন্তে অরণ্যের শীতল ছায়ায় নিস্তব্ধতার মায়ায় হারিয়ে যেতে পারেন। তবে অতিথিদের ভ্রমণকে আরো আরামপ্রদ করতে পাহাড়ের ভাজে ভাজে সুসজ্জিতভাবে কটেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    মহামায়া লেকে যাওয়ার সময় সাথে করে খাবার নিলে ভালো। কেননা আশেপাশে ভালোমানের রেস্তেরা নেই, আর পার্কের ভেতরও খাবারের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে কিছু খেয়ে নিতে পারেন, তবে সবচেয়ে ভালো হবে যদি মিরসরাই বাজারে আহার পর্ব সারেন কিংবা খাবার কিনে নেন।


     

    কিভাবে যাবেন:

    ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম শহরে বাসে বা ট্রেনে করে গিয়ে মিরসরাইগামী বাসে চলে যেতে পারেন ঠাকুরদীঘি বাজারে। সেখান থেকে সিএনজিতে করে সোজা চলে যেতে পারবেন মহামায়া লেকে।

    /আবুল বাশার

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com