• বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

ব্রণের সমস্যা

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত :সোমবার, এপ্রিল ২৬, ২০২১, ১১:৪০

  • ব্রণের সমস্যা

    মুখে ব্রণের দেখা পাওয়া যে এখন সাধারণ একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ জনের মধ্যে ৫ জনের এই সমস্যা দেখা যায়।অনেকেই ভুলবশত অনেক কিছু ব্যবহারের ফলে এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে ফেলেন।আমরা অনেকেই জানি না, এই ব্রণের ব্যাপারে। আসুন জেনে নেই, ব্রণ কেন হয়, কোন বয়সে বেশি হয়, আর এই ব্রণ থেকে বাঁচতে কি কি ঘরোয়া পধতি অবলম্বন করা যায়।


     

    ব্রণ আসলে কি?

     

    সাধারণত মুখেই বেশি দেখা যায় দানার মত। আর এটি এমন এক  বিড়ম্বনা বা মানসিক যন্ত্রণা, যাতে সবাই কম বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।  সুনির্দিষ্ট কারণ না জানা গেলেও হজমের সমস্যা, বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের প্রভাব,অ্যালকোহল ইত্যাদি নানা কারণে ব্রণ হয়।আবার অনেক সময় বংশগত কারণও এমনটা হয়।

     

    কোন বয়সে ব্রণ বেশি হয়?

     

    বেশিরভাগ মানুষের ধারণা ব্রণ শুধু মেয়েদের রোগ।বাস্তবে ভিন্ন কিছু দেখা যায়, কেননা ব্রণ ছেলেমেয়ে সবারই হতে পারে। সাধাণত ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা যায়।এই নির্দিষ্ট সময়ে ৯০ ভাগ ছেলে অথবা মেয়ে ব্রণের সমস্যাতে পরে।

     

    কী কী কারণে ব্রণ হয়?

     

    খুব সাধারণ একটা প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘোরাফেরা করে, কেন এত ব্রণ (Pimple) হয়? অনেকের কম হলেও আবার অনেকেরই সারা মুখে ব্যথা এবং দাগ হয়ে যায়। ময়লা, ঘামসহ আর কি কি কারণে  ব্রণ হয় , আসুন জেনে নিন, ব্রণ কেন হয়-

     

    জীবাণু সংক্রমণ

     

    অনেকেই মনে করেন, ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলেই ত্বক পরিষ্কার হয়ে যায়। ত্বকে জীবাণুর সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সাথে সাথে স্ক্রাবার দিয়ে ত্বক এক্সফোলিয়েট করতে হয়। এতে জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

     

    হরমোনের পরিবর্তন

     

    হরমোণের পরিবর্তন ঘটলেও ত্বকে ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এই সময় জরুরি। হরমোনের বেশি পরিবর্তনের ফলে ছাপ পরে যায়

     

    অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড

     

    বাইরে কম বেশি খাওয়া সবার হয়। আর এই খাবারের তালিকাতে কম বেশি পিজ্জা, মা বার্গার, পকোড়া, সিঙাড়া, ভাজাভুজি, কোল্ড ড্রিংকস এসব থাকেই। তবে আপনি যদি বেশি এসব খাবার খান, তাহলে ব্রণ হবেই। হজমের সমস্যার কারণে ব্রণের উৎপাতও  শুরু হয়।  

     

    অতিরিক্ত ঘাম

     

    যারা বেশি পরিমাণে ঘামে তাদের অনেকের ব্রণ হয়। তাই যারা বাইরে রোদে বেশি থাকেন তাদের কিছুক্ষণ পর পর মুখ ধুয়ে নিতে হবে। আপনি যত বেশি ঘেমে যাবেন জীবাণু, ময়লা খুব সহজেই আপনার ত্বকে আটকে যাবে আর নানা সমস্যা শুরু হবে ত্বকের।

     

    সঠিক মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার না করা

     

    আপনার ত্বকের প্রকৃতি অনুযায়ী আপনাকে মেকআপ ব্যবহার করতে হবে। আরেকজনের ত্বকে যেই প্রডাক্ট বসবে, আপনার ত্বকে সেই প্রডাক্ট নাও বসতে পারে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আপনার ত্বকের মেকআপ অবশ্যই তুলে ফেলতে হবে।  মেকআপ লাগিয়ে ঘুমিয়ে গেলে না ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার থেকে ব্রণ হয়।

     

    ব্রণের সমস্যা সমাধানের ঘরোয়া উপায়

     

    অনেকেই ব্রণের সমস্যা শুরু হলে বিভিন্ন ধরনের ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার শুরু করে দেন।অনেক চেস্টা করেও এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।অনেকেই হাতের কাছের ঘরোয়া উপায়  এর কথা জানেন না, যার মাধ্যমে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ব্রণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।আসুন জেনে নেই, ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়-

    ব্রণ তেহকে দূরে থাকতে ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখার বিকল্প নেই। তারপর  যদি ব্রণের সমস্যা দেখা যায়, তাহলে প্রাকৃতিক উপাদানকেই করে নিন সঙ্গী।

     

    Relaed Post: মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়

     

    মধু:  সারাদিন মুখে প্যাক লাগিয়ে বসে থাকতে হবে, এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসুন।এক চাচামচ খাঁটি মধুতে তুলো ডুবিয়ে ব্রণর উপরে লাগিয়ে রেখে ৩০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। যেহেতু নানারকম ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করতে পারে এই মধু তাই ব্রণর দাপট কমতে বাধ্য!

    লেবু ও পানি: লেবুতে বিদ্যমান ভিটামিন সি ব্রণের সমস্যাতে দারুণ  কাজ করে। লেবু চিপে রস বের করে দু’চামচ পানি মেশান। তুলো ভিজিয়ে ব্রণর উপরে লাগালে দ্রুত ব্রণ শুকিয়ে যাবে। তবে সবার  ক্ষেত্রে এমনটা প্রয়োগ করলেই ফল পাওয়া যাবে না।সেনসিটিভ ত্বক হলে লেবুর রস ব্যবহারে হিতে বিপরীত হতে পারে। মুখে ব্যবহার করলে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন আগে লাগিয়ে নিতে হবে।

    নিমপাতা ও গোলাপজল: যেহেতু অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে নিমপাতা  আর গোলাপজল ত্বক স্নিগ্ধ আর সতেজ রাখে, তাই ত্বকের ব্রণের সমস্যাতে এগুলো ব্যবহারের বিকল্প নেই। পাতাসহ নিমের  ডাল ভেঙে নিয়ে পানিতে মিনিট দুয়েক ফুটিয়ে নিতে হবে। পানি থেকে পাতা তুলে মিক্সিতে বা শিলে বেটে নিয়ে দুই চামচ গোলাপজল মেশান।মিশ্রণটা ব্রণের উপরে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অবশ্যই ফল পাবেন।

    তুলসি ও হলুদ: এই দুই উপাদানেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানিয়ে ফেলতে পারেন ব্রণের ওষুধ। কাঁচা হলুদ দু’চামচ নিয়ে বেটে নিন।আর সাথে  তুলসি পাতা ভালো করে ধুয়ে বাটুন। একসঙ্গে মিশিয়ে ব্রণের উপরে লাগিয়ে রাখুন, শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলবেন। প্রতিদিন অন্তত তিনবার ব্রণের জায়গাতে লাগালে কয়েকদিনের মধ্যেই এই সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে।

    চন্দন: চন্দনগুঁড়ার ব্যভার অতীতকাল থেকেই হয়ে আসছে, যদিও সেটি হতে হবে খাঁটি চন্দনগুঁড়ার।পানিতে চন্দনগুঁড়ো গুলে ঘন পেস্টের মতো তৈরি করে তা ত্বকের যেই অংশে ব্রণ দেখা যায়, তার উপরে লাগিয়ে রাখুন।ব্রণের স্থানে ঠাণ্ডা অনুভূত হলে শুকাতে দিন। টান ধরলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

     

    মন রাখা ভালো

     

    কখনোই মুখ অপরিষ্কার রাখা যাবে না যাতে ধুলোবালি না জমে।

    রাতে সম্ভব হলে অবশ্যই ১ গ্লাস গরম দুধ খেতে হবে।

    ত্বকের যেই স্থানে ব্রণ উঠে, সেই স্থানে হাত দেওয়া যাবে না।


    ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিতে হবে।

    যাদের ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের ত্বক বুঝে মেকআপ ব্যবহার করতে হবে।  

    সব বয়সেই কম বেশি ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিচলিত না হয়ে, ঘরোয়া পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান মিলবে।

    /

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com