• বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রথম ১০০ দিন : কি বার্তা পেল বিশ্ব?

অনিক আহমেদ:
প্রকাশিত :সোমবার, মে ৩, ২০২১, ০৩:৩৭

  • জো বাইডেন

    সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বহুদিন থেকে প্রচলিত একটি প্রথা হলো–তাদের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মাথায় কি অর্জন করেছেন তার একটি বর্ণনা প্রকাশ করা। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টও তার প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করেন। কারণ এটির মূল্যায়নের উপরই মূলত তার ভবিষ্যত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণ ধারণা করতে পারে।


    যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হয়ে গেছে। তার প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন প্রকাশ করার আগে শুরু থেকে কিছু ঘটনা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ ইতিহাসের এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে।

    করোনা মহামারিসহ আমেরিকার সমাজ-রাজনীতির এক অস্থির সময়ে বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলেও উত্তরসূরি বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকার করেননি। ক্ষমতার পালাবদলে সহযোগিতাও করেন নি।

    পরবর্তীতে, শপথের দিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২১ মিনিটের একটি দীর্ঘ বক্তৃতা দেন। তার বক্তৃতার পুরোটা জুড়েই ছিল জাতীয় ঐক্যের কথা। এরপর থেকে জো বাইডেন তার প্রতিটি বক্তৃতাতেই 'জাতীয় ঐক্য' ও 'গণতন্ত্র' বিষয়ে মূল দৃষ্টি দিয়ে এসেছেন। জো বাইডেন গত ১০০ দিনে মোট ৬০টির বেশি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেছেন। এই ৬০ নির্বাহী আদেশের মধ্যে ২৪ টি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত সরাসরি পাল্টে দেওয়ার। তবে, বিরোধী শিবিরের কাউকেই তিনি এসব সিদ্ধান্তের কোনোটিতেই বাগে আনতে পারেন নি।

    এরমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য চুক্তি আছে, যেগুলো জো বাইডেন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে বারবার তুলে ধরেছেন। যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেক্সিকোর সাথে সীমান্তে দেওয়াল, মুসলিম অভিবাসী নীতি ইত্যাদি। নির্বাচনের আগে মেক্সিকো সীমান্তের দেওয়াল নির্মাণ বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। যা বাস্তবায়নও করেছেন। আবার মুসলিম প্রধান কয়েকটি দেশ থেকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন। সমকামীদের সশস্ত্র বাহিনীতে গ্রহণ না করার সংক্রান্ত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তও বাতিল করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে এনেছেন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে।

    করোনা মহামারি মোকাবেলা:

    প্রথম ১০০ দিনে তার সাফল্য ও ব্যর্থতার খতিয়ান দেখতে গেলে যে বিষয়টা বিচারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া দরকার–সেটি হল করোনাভাইরাস মহামারি তিনি কীভাবে মোকাবেলা করেছেন। জো বাইডেন যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন কোভিড-১৯ থেকে আমেরিকানদের মৃত্যুর হার ছিল দিনে ৩০০০ করে। এখন মৃত্যু হার দিনে ৭০৭ এবং এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমছে। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ তার প্রশাসনের নেয়া ভ্যাকসিন কর্মসূচির সফলতা।

    বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতা হাতে নেয়ার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তিনি দশ কোটি ডোজ টিকা দেবেন। প্রথম একশ দিনে আমেরিকা সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এখন বিশ কোটি ডোজের বেশি টিকা প্রদান করা হয়েছে। আমেরিকার প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৫২% ইতোমধ্যেই অন্তত এক ডোজ ভ্যাক্সিন পেয়েছেন।

    ট্রাম্প শাসনামলে টিকাদানের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর ক্ষমতা বেশি ছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে সেগুলোতে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিলনা। জো বাইডেন ক্ষমতাগ্রহণের পরে কেন্দ্রীয়ভাবে টিকাদান কর্মসূচি সমন্বয়ের ব্যবস্থা নিয়েছেন। ফলে টিকাদান কর্মসূচিতে গতি সঞ্চার হয়েছে।

    এখন বাইডেন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ - টিকা নিতে অনাগ্রহী আমেরিকানদের ভ্যাক্সিন নিতে উদ্বুদ্ধ করা। সাথে কোভিড মহামারি ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা।


    অর্থনীতি পুনরুদ্ধার:

    করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ছিল বাইডেনের প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি যখন ক্ষমতা হাতে নেন তখন ২০২০ এর লকডাউনের কারণে আমেরিকার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাই শুরু থেকেই বাইডেন প্রশাসন এবং কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করার লক্ষ্যে বিশাল অঙ্কের সরকারি তহবিল অনুমোদন করেছেন।

    ফেব্রুয়ারি মাসে কংগ্রেসে ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের সাহায্য প্যাকেজ পাশ করেছেন। এই প্যাকেজের আওতাভুক্ত ছিল যুক্তরাস্ট্রের নাগরিকদের জন্য সরাসরি অর্থ সাহায্য, বাড়তি বেকার ভাতা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাজ্য সরকারগুলোর জন্য অর্থ তহবিল। এছাড়া শিশুদের জন্য একটি সহায়তা প্যাকেজ দেয়া হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে এটি আমেরিকায় তরুণদের মধ্যে দারিদ্রের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে।

    যুক্তরাষ্ট্রে তিনি ব্যাপক আকারে অবকাঠামো ও রাস্তাঘাটের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ব্যবস্থা নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদরা আভাস দিয়েছেন যে ২০২১ সালে আমেরিকার প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬% এর কাছাকাছি। ১৯৮০ দশকের পর প্রবৃদ্ধির এত নিম্ন হার কখনোই দেখা যায়নি। তাই মহামারির দীর্ঘ মেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব বাইডেনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব কমছে। করোনার থাবা কাটিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আবার খুলতে শুরু করেছে। শেয়ার বাজার চাঙ্গা হচ্ছে। এগুলো আপাতত প্রেসিডেন্টের জন্য চরম স্বস্তির খবর।

    পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষা:

    পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুকি মোকাবেলা ছিল প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি। পরিবেশ রক্ষা নিয়ে বাইডেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসাবে তার প্রচারাভিযান চালানোর সময় থেকেই সরব ছিলেন। তার প্রচারণা যতই গতি পেয়েছে ততই তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলার ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি পরিবেশ সংক্রান্ত নীতি সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছেন।

    তার ভূমিকার ফলেই দ্রুত প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে গেছে আমেরিকা। তিনি কিস্টোন এক্সএল তেলের পাইপলাইন নির্মাণের কাজ বাতিল করে দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিবেশ সংক্রান্ত কিছু কিছু আইন আবার ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। গত সপ্তাহে তিনি আমেরিকার কার্বন নির্গমনের মাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০% কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে পরিবেশ রক্ষায় বাইডেন তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করার পথেই রয়েছেন।

    পররাষ্ট্র নীতিতে স্থিতিশীলতাঃ

    নির্বাচনের পূর্বে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম ও বাইডেন প্রায় পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছিলেন। বাইডেন তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শুরুর সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমেরিকাকে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" পররাষ্ট্র নীতি থেকে সরিয়ে আনবেন। সেদিকে তিনি কিছুটা এগিয়েও গেছেন। ক্ষমতার প্রথম ১০০ দিনে বাইডেনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হল আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহারের চূড়ান্ত পর্যায় নিশ্চিত করা।

    চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আফগানিস্তানের মাটিতে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। অবশেষে পরাজয়ের ভার ঘাড়ে নিয়ে আফগান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাইডেন। ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে। তবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল মি. ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদকালেই।


    ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এরপর সেই চুক্তিতে ফেরত যাবার জন্য আলোচনার প্রক্রিয়া বাইডেন তেমন দ্রুততার সাথে শুরু করতে পারেননি। এখানেও তিনি খুব বড় কোন চমক এখনও পর্যন্ত দেখাতে পারেননি। এদিকে, বাইডেন তার পূর্বসুরীর তুলনায় রাশিয়ার প্রতি আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ব্যাংকের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এটি জোরদার করা হলে রাশিয়ার ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    কিছুদিন আগে বাইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দল চীনা প্রতিনিধিদের সাথে মানবাধিকার লংঘন নিয়ে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে। বাইডেন প্রশাসন আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর সাথে একজোট হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক সরকারগুলোকে মোকাবেলার লক্ষ্যে একটা জোটবদ্ধ উদ্যোগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে পররাষ্ট্র নীতির দিক দিয়ে বাইডেনের প্রথম ১০০ দিন মূলত কথা, পর্যালোচনা এবং মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়ে গেছে। সেখানে নতুন কোন নীতি গ্রহণের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

    বাণিজ্যিক নীতি:

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাইডেনের সামনে বেশ বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তার প্রথম ১০০ দিনে ট্রাম্পের আনা পরিবর্তনগুলো বদলানোর খুব একটা উদ্যোগ নেননি। চীনের ওপর শুল্ক তিনি বজায় রেখেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে অ্যালুমিনিয়ম বাণিজ্যে তিনি আবার শুল্ক বসিয়েছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ব্রিটেনের ক্ষেত্রে তিনি কিছু কিছু শুল্ক শিথিল করেছেন। কিন্তু বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় শুল্ক ব্যবহারের ট্রাম্প নীতি থেকে সরে আসার ব্যাপারে তার কোন আগ্রহ অন্তত প্রথম ১০০ দিনে তিনি দেখাননি।

    অভিবাসী নীতি:

    অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে বাইডেন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। মধ্য আমেরিকা থেকে আসা শরণার্থীদের পুর্নবাসন সংক্রান্ত ইস্যুগুলো নিয়ে অনেক জটিলতা এখনও রয়ে গেছে। অভিবাসী নীতি নিয়ে সামনেও বেশ বড় ধরনের সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাইডেনের।

    তবে এটিও অভিযোগ উঠেছে, আমেরিকার স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে বাইডেন গরিব দেশগুলির দিকে তাকাচ্ছেন না। তাদের ভ্যাকসিন দেয়া, সাহায্য করার ক্ষেত্রে বাইডেন এখনো দরাজ হতে পারেননি। উদাহরণ হিসেবে ভারতের কথা ধরা যায়। করোনার প্রকোপ বাড়ার পর ভারত বারবার সাহায্য চেয়েছে। কিন্তু তিনি তা দিতে দেরি করেছেন।

    সব মিলিয়ে, জো বাইডেনের ১০০ দিনের শাসন কাল মূল্যায়ন করলে যা বেরিয়ে আসে, তা হলো তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয় সর্বনিম্ন জনপ্রিয়। অবশ্য এটিতে অবাক হওয়ার কিছু নেই৷ তিনি মাত্র ৫২% জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রেসিডেন্টের আসনে বসেছিলেন তিনি।


    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০২২ নভেম্বরে। সামনের দিনগুলোতে বাইডেনের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মূল্যায়নের উপরই তখন ডেমোক্রেট পার্টির জন্য প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা নির্ভর করবে। তাই ২০২২ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিরে আসা এখনো উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা।

    অনিক আহমেদ
    কলামিস্ট


    /

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com