• বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

মানবসম্পদ, শ্রমবাজার এবং বাংলাদেশের তরূণ জনগোষ্ঠী

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত :মঙ্গলবার, মে ৪, ২০২১, ০১:৫৯

  • মানবসম্পদ ও তরুণ সমাজ

    পৃথিবীর সকল উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তারা তাদের তরূণদের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর উদাহরণ হিসেবে আমরা চীনকে নিতে পারি। বর্তমান পৃথিবীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক শত্রু চীন।বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে রেষারেষি। অথচ চীন পড়ালেখার জন্য লক্ষ লক্ষ তরূণেদেরকে নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে। পরবর্তীতে চীন এসব তরূণদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের লব্ধ জ্ঞানকে উন্নয়নের কাজে লাগাচ্ছে। তরূণদেরকে কিভাবে ব্যাবহার করতে হবে চীন আমাদের জন্য অনুকরণীয়। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ৪৯% জনসংখ্যার বয়স ২৪ বছর বা এর নিচে। এ তরূণেরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে। তবে এরা যেনো ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো মানবসম্পদে পরিণত হত পারে তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কতটা যোগ্য এদের মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্য?



    গ্লোবাল নলেজ ইনডেক্স (GKI) 2020 এর ranking অনুযায়ী পুরো পৃথিবীর ১৩৮ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৭ তম। এ ranking অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার ৮ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার শেষে। এছাড়া বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালগুলোকে নিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন সময়ের Ranking অনুযায়ীও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সুখোকর নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তুলনা করলেও তাদের অবস্থান আমাদের থেকে অনেক ভালো। পড়াশোনার মান বৃদ্ধির জন্য সরকারকে এখন থেকেই ভাবতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেনো পড়ালেখার আগ্রহ তৈরি হয় এজন্য তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মক্ষেত্রের ব্যাবস্থা করতে হবে।



    জাতীয় কর্মসংস্থান নীতি ২০২০ (খসড়া) অনুসারে বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৬ লক্ষ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজের অভাবে সিংহভাগ অংশই বেকার জীবনযাপন করছে। ইউরোপীয় ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) ২০১৬ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন স্মাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৪৭ জনই বেকার। এ পরিসংখ্যান গুলো বাংলাদেশের বেকারত্বের চিত্র তুলে ধরে।

    বাংলাদেশে বেকারত্ব সমস্যার কারণ হিসেবে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। পর্যাপ্ত কাজ না থাকা সবচেয়ে বড় কারণ। কিন্তু তার সাথে কাজ থাকলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা সে সকল কাজ করার জন্য উপযুক্ত না। এই কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের এক বিশাল অংশ ভারতীয় এবং শ্রীলঙ্কান নাগরিকরা দখল করে আছে।এ সংখ্যা লাখেরও উপরে। বাংলাদেশের পড়ালেখার মান ভালো থাকলে আজকে এসকল শ্রমবাজার বিদেশিরা দখল করতে পারতো না।

    এছাড়া উচ্চশিক্ষার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন সরকারি চাকরির মোহ ঢুকে গিয়েছে। এই মোহোর কারণে তারা অন্য কোন চাকরি করতে চায় না। ফলে সকলে ভেড়ার পালের মতো একযোগে সরকারি চাকরির পিছনে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো মাত্র ১০% শিক্ষার্থীকেই সরকারি চাকরি দেওয়া সম্ভব। বাকিদের অন্য চাকরিতে যেতেই হবে। এই সরকারি চাকরির পিছনে পড়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আত্ন উন্নয়নের উপরে গুরুত্ব দেয় না। বাজারের গাইড বই নির্ভর হয়ে উঠে তাদের জীবন। ফলে এসকল শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদের পরিবর্তে এক একজন দেশের বোঝা হয় শেষ পর্যন্ত। একুল ওকুল দুকুলই হারায় এরা। বেসরকারি চাকরিতে জব সিকিউরিটি আর শ্রম আইন নিশ্চিত করা গেলে হয়তো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি চাকরির মোহ কমানো যেতে পারে। সরকারি বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। উদ্যোক্তা ছাড়া বাংলাদেশকে বেকারত্বের এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করা অসম্ভব।



    বর্তমানে বাংলাদেশের মাথার উপর রয়েছে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চাপ। এসব রোহিঙ্গাদের দ্রুত মায়ানমারে ফেরাতে না পারলে ভবিষ্যতে এরা বাংলাদেশের জন্য আরও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। এছাড়া সম্প্রতি গ্লোবাল ক্লাইমেট ইনডেস্ক ২০২০ প্রকাশিত হয়েছে। এ তালিকায় দেখা যায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে এসকল বাধা মোকাবেলা করার জন্য তরূণদেরকে এখন থেকেই প্রস্তত হতে হবে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ। এদের উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ দিয়ে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। এই তরূণ ভবিষ্যতের কান্ডারীদেরকে জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে অন্যথায় এই জনশক্তিই একসময় পরিণত হবে জনবোঝাতে।


    লেখক- মোঃ ইসতিয়াক হোসেন
    শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
    Ishtiakhossain875@gmail.com


    /

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com