• বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১ , ১০ আষাঢ় ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১ , ১০ আষাঢ় ১৪২৮

শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা সংক্রমণ আবারো বাড়বে, আশঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত :বৃহস্পতিবার, মে ৬, ২০২১, ০৫:২৪

  • স্বাস্থ্যবিধি যেভাবে উপেক্ষিত থাকছে, এতে করোনার সংক্রমণ আবারো বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

    শপিংমলে মানুষের ভিড় বেড়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি যেভাবে উপেক্ষিত থাকছে, এতে করোনার সংক্রমণ আবারো বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, শপিং মলে এভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়ার নামে পাগলামি বন্ধ না হলে ঈদের খুশি ট্র্যাজেডিতে পরিণত হবে।  


    বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন আয়োজিত "কোভিড-১৯ ২য় ঢেউ মোকাবেলায় করণীয় এবং অক্সিজেন সংকট ও উত্তরণের উপায়" শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। 

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার বিপণি বিতান খুলে দিয়ে কেনাকাটা অ্যালাও করেছে। মানুষ স্রোতের মতো শপিং মলে যাচ্ছে। নারীরা তো যাচ্ছেই, বাচ্চাদেরও নিয়ে যাচ্ছে, মাস্কও পরছে না ঠিকমতো। এতে স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। সরকার নানা চাপে মার্কেট শপিংমল খুলে দিয়েছে, এটা ঠিক, কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দায়িত্ব নাগরিকদের সবার। 

     

    মন্ত্রী জানান, ১৬ কোটি মানুষের দেশে করোনার বেড ১৬ হাজারও নেই। আছে মাত্র ১২ থেকে ১৩ হাজার। যদি ৫০ হাজার কিংবা এক লাখ মানুষ একসাথে সংক্রমিত হয় তাহলে আর উপায় থাকবে না। ভারতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। এখন সচেতন না হলে পরে আর হাসপাতালেও জায়গা হবে না। 

     

    মন্ত্রী বলেন, করোনা প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিলো। কিন্তু মানুষের অসচেতনতার কারণে আবার বেড়ে গেছে। পর্যটন স্পটগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়ে গিয়েছিলো, বিয়ে শাদীর ধুম পড়ে গিয়েছিলো, রাজনৈতিক কর্মসূচি বেড়ে গিয়েছিলো। যে কারণে সংক্রমণ আবার সাত হাজারে উঠে যায়, মৃত্যুও একশো পার হয়ে যায়। এই সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্যই লকডাউন দেয়া হয়েছে। 

    তিনি জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী- এই চার সিটিতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, ৮৮%। যে কারণে এসব শহরে লকডাউন কড়াকড়ি করার সুপারিশ করা হয়। শিল্প কারখানা ও কৃষি খাত এসব শহরের বাইরে থাকায় অর্থনীতিতে খুব বড় ধরনের ধাক্কা আসছে না। জীবন জীবিকা প্রায় স্বাভাবিক থাকছে। 

     

    মন্ত্রী জানান, ভারতের উদাহরণ থেকে শিক্ষা না নিলে বাংলাদেশেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। ভারতে কেন সংক্রমণ বেড়ে গেলো, দিল্লীর রাস্তায় কেন লাশের মিছিল দেখা দিলো, এসব বিষয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ না কমিয়ে নির্বাচন, খেলাধুলা, কুম্ভ মেলার মতো জনাকীর্ণ অনুষ্ঠান করায় ভারতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু দেশেও করোনার সংক্রমণ বেড়েছে ভয়াবহ ভাবে। এসব দেশ স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে উদাসীন ছিলো। 

    তিনি বলেন, লকডাউনের ফলে চীনে এখন সংক্রমণ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও নিউজিল্যান্ডে সংক্রমণ শুন্যের কাছাকাছি। এসব দেশ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করেছে। 

     

    এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, ভারতের বাইরে অ্যাস্ট্রজেনকার টিকা যেসব দেশে উৎপাদন হয়, সেখান থেকে সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এছাড়া রাশিয়ার সাথে চুক্তির পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১২ তারিখ চীন থেকে আসবে ৫ লাখ টিকা। টিকা পাওয়ার সব ধরনের চেষ্টা করছে সরকার। 

    এসময় মন্ত্রী জানান, দেশে এপর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা দেয়া হয়েছে ৫৮ লাখ। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে ৩০ লাখ। প্রথম ডোজ বন্ধ রেখে দ্বিতীয় ডোজের টিকা অব্যাহত রাখার কথা জানান মন্ত্রী। 

     

    আরো পড়ুন -

    ১.মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় রাজনীতি: ওবায়দুল কাদের

    ২.ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ: কৃষিমন্ত্রী

     


    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই এক বছরে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ৪ হাজার ডাক্তার দিনরাত টেলিমেডিসিন সেবা দিয়েছেন। করোনার জন্য ট্রিটমেন্ট প্রটোকল ৯ বার আপডেট করা হয়েছে। ১৩০ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন বসানো হয়েছে, যেখান থেকে ১৬ হাজার বেডে অক্সিজেন দেয়া যাবে। আইসিইউ থেকে অক্সিজেন সাধারণ বেডে নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে অনেক সচেতনতামূলক কাজ করা হয়েছে। "নো মাস্ক নো সার্ভিস" প্রণয়নের কারণে এখন অনেক মানুষ মাস্ক পরে। করোনায় কাজ হারানো মানুষকে সরকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। 

     

    মন্ত্রী এসময় জানান, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন লিকুইড অক্সিজেন উৎপাদনের ক্যাপাসিটি আছে ১৭৫ টন। আর গ্যাসীয় অক্সিজেন উৎপাদন হয় ২২ হাজার সিলিন্ডার বা ৩০ টন। আগামী মাসে একটা কোম্পানি ৪০ টন উৎপাদন করবে। জুলাইয়ে ২৫ টন অক্সিজেন উৎপাদনে আসবে আরো একটা কোম্পানি। বর্তমানে মজুদ আছে ২০৫ থেকে ২১০ টন। আর প্রতিদিন প্রয়োজন হয় ৫০ থেকে ৬০ টন। করোনার কারণে এখন প্রয়োজন পড়ছে দৈনিক ৭০ টন। যখন সংক্রমণ সর্বোচ্চ ছিলো তখন দৈনিক চাহিদা ছিলো ২১০ টন। অক্সিজেনের মজুদ ভালোই আছে। কিন্তু করোনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলে বিপদ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

    /আবুল বাশার

    ×
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com