• শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১ , ১০ আষাঢ় ১৪২৮
  • আর্কাইভ

শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১ , ১০ আষাঢ় ১৪২৮

অলিভ অয়েলের ব্যবহার ও উপকারিতা 

সানজিদা জাহিন প্রিমা
প্রকাশিত :বৃহস্পতিবার, মে ৬, ২০২১, ০৯:১০

  • অলিভ অয়েলের ব্যবহার

    বিশ্বব্যাপী যুগ যুগ ধরে অনন্য সব গুণের অধিকারী অলিভ ওয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায়, রান্নায়, ওষুধ শিল্পে, ত্বক ও চুলের যত্নে এ তেলের জুড়ি নেই।


     

    জলপাই ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকার একটি ঐতিহ্যবাহী গাছের ফসল। অলিভ ওয়েল বা জলপাই তেল হল জলপাই থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক তেল। প্রায় ১৪% তেল স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত হয়, যেখানে ১১% পলি আনস্যাচুরেটেড, যেমন ওমেগা -6 এবং ওমেগা -3 ফ্যাটি অ্যাসিড।

     

    তবে অলিভ অয়েলের প্রধান ফ্যাটি অ্যাসিড হল অ্যালিক অ্যাসিড নামক এক মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা মোট তেলের পরিমাণের ৭৩%।

    গবেষণায় বলা হয় যে অলিক অ্যাসিড প্রদাহ হ্রাস করে এবং ক্যান্সারের সাথে সংযুক্ত জিনগুলিতেও উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে।

    মনস্যাচুরেটেড ফ্যাটগুলি উচ্চ তাপের জন্যও বেশ প্রতিরোধী, তাই এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল রান্নার জন্য স্বাস্থ্যকর। এই তেলের উপকারিতা বিশদ।

     

    অলিভ ওয়েলের ব্যবহার

     

    রান্না থেকে শুরু করে রুপচর্চা সর্বত্র অলিভ ওয়েলের ব্যবহার রয়েছে। জলপাই তেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য।

    এটি সাধারণত রান্না, খাবার ভাজার জন্য বা সালাদ ড্রেসিংয়ে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রসাধনী, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং সাবানগুলিতে এবং এই তেল প্রদীপের জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। জলপাই তেল বাণিজ্যিক প্লাস্টার এবং পট্টবস্ত্র তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া দাঁতের সিমেন্ট স্থাপনেও ব্যবহার করা হয়।ধর্মীয় কারণেও অনেকের কাছে এই তেল বেশ সমাদৃত।

     

    Read Also: ব্রণের সমস্যা

     

    পৃথিবীব্যাপী জলপাই তেলের বিভিন্ন বহুমূখী ব্যবহারের পেছনে রয়েছে এই তেলের বিভিন্ন গ্রেডের ভিন্নতা। প্রতিটি প্রকারেই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। চলুন জেনে নেয়া যাক অলিভ ওয়েলের বিভিন্ন প্রকারের ব্যবহারের ভিন্নতা-

     

    এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েলঃ

     

    জলপাই তেলের সর্বোচ্চ গ্রেড হ'ল এক্সট্রা ভার্জিন, তার পরে ভার্জিন এবং রিফাইন অলিভ ওয়েল। এই গ্রেডগুলি তাদের নিষ্কাশন করার পদ্ধতিগুলির দ্বারা সংজ্ঞায়িত। "কোল্ড প্রেসিং" পদ্ধতিতে উৎপাদন করা  এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল এই মূলত রান্নার কাজে ও সালাদের ড্রেসিংয়ে ব্যবহৃত হয়। তবে উচ্চ তাপমাত্রায় এই তেল নিজস্ব গুণ হারায়।

    ত্বক ও চুলের যত্নেও এই তেলের ব্যবহার লক্ষ্যণীয়।

     

    স্ট্যান্ডার্ড ভার্জিন অলিভ ওয়েলঃ

     

    এই প্রকার তেলে এসিডের পরিমাণ কম এবং কোনো পরিশোধিত তেল নেই। প্রাকৃতিক স্বাদযুক্ত এবং দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণযোগ্য হওয়ায় এই গ্রেডের তেল রান্নার কাজে বেশ উপযোগী।

     

    রিফাইন অলিভ ওয়েলঃ

     

    এই জাতীয় তেল কালো এবং পাকা জলপাই ফল থেকে আহরণ করা হয়। এটি কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী। তবে এটি এখনো নিম্নমানের হিসাবে বিবেচিত হয় এবং তাই রান্নার উদ্দেশ্যে কেবল এটিই ভাল।তাছাড়া রিফাইন অলিভ ওয়েলে অন্যান্য ধরণের মতোই একই ফ্যাট এবং ক্যালোরি রয়েছে।

     

    পিউর অলিভ ওয়েলঃ

     

    এক্সট্রা ভার্জিন এবং পরিশোধিত জলপাই তেলের মিশ্রণ হলো পিউর অলিভ ওয়েল। ভার্জিন অলিভ ওয়েলের তেলের তুলনায় এটি পুষ্টির মানও কম তাই রান্নার উদ্দেশ্যে পরিবর্তে চুল এবং ত্বকের তেল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। রান্নার জন্য এই তেল ব্যবহার উচিত নয় কারণ এটি উত্তপ্ত হয়ে গেলে এর স্বাদে আলাদা গন্ধ থাকে যা ক্ষুধামন্দা ঘটায়। তবে খুশকি, চুলকানি এবং শুষ্ক ত্বক থেকে মুক্তি পেতে পিউর অলিভ ওয়েল ব্যবহার করা হয়।

     

    লাইট অ্যান্ড এক্সট্রা লাইটঃ

     

    হালকা রঙ ও নিরপেক্ষ স্বাদযুক্ত এই তেলে তেমন কোনো পুষ্টিগুণ নেই। তাই লাইট এন্ড এক্সট্রা লাইট অলিভ অয়েল সাধারণত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, রান্নায় এই তেলের ব্যবহারের প্রচলন নেই ৷

     

    ত্বকের যত্নে অলিভ ওয়েল

     

     

    অলিভ ওয়েল কয়েক শতাব্দী ধরে স্কিনকেয়ারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, কারণ এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

     

    এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল ত্বকে পুষ্টি যোগায় এবং ময়শ্চেরাইজার হিসেবে কাজ করে। এতে ভিটামিন-ই ও এ এর উচ্চমাত্রা এবং ভিটামিন ডি ও কে এর উপস্থিতির জন্য এটি অতিমাত্রায় সেনসিটিভ ত্বককেও সুরক্ষা দিতে সক্ষম। ত্বকের ডেমেজ বা ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যু মেরামত ত্বকের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করে এই তেল ত্বককে আরো কোমল ও উজ্জ্বল করে তোলে। বয়সের ছাপ প্রতিরোধেও অলিভ ওয়েলের নির্দিষ্ট নিয়মের ব্যবহার কার্যকর ভূমিকা রাখে।

     

    ত্বকে অলিভ ওয়েল সচেতন ভাবে, নির্দিষ্ট নিয়মে ব্যবহার করা উচিত নতুবা এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সুবিধার চেয়ে বেশি হতে পারে।

     

    স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অলিভ ওয়েল:

     

    হাজারো  স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য হেঁসেলে ইতিমধ্যেই স্থান পেয়েছে অলিভ ওয়েল। রান্নায় স্বাদ আনার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল অলিভ বা জলপাই- যে সব গুণগত উপাদান রয়েছে তা ছোটো হোক বা বড় প্রত্যেকের জন্যই আবশ্যক।

     

     হার্ট অ্যাটাক, আর্থ্রাইটিস, স্তন ক্যান্সার, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার থেকে শুরু করে কোষ্ঠকাঠিন্য, গলব্লাডার সমস্যা, মাইগ্রেনের সমস্যা প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের রোগ ও অসুবিধার সঙ্গে মোকাবিলায় বা তাদের প্রতিহত করতে অলিভ অয়েল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

     

    ওজন হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্যসচেতনদের খাদ্য তালিকায় সয়াবিন তেলকে হটিয়ে জায়গা করে নিয়েছে অলিভ ওয়েল।

    বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থকর জীবন যাপনের জন্য অলিভ ওয়েলকে অত্যাবশকীয় হিসেবে অভিহিত করেছে।

     

    অলিভ ওয়েল ও রসুন

     

    এই দুই উপাদানের ভিন্ন ভিন্ন স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। তবে অলিভ ওয়েল ও রসুনের মিশ্রণের উপকারিতা অবর্ণীয়।এতে বিদ্যমান ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন-সি ক্যালসিয়াম, সেলেনিয়া, ফসফরাস শরীরের বিপাক, হরমোন নিয়ন্ত্রণ, হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালি করে, কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমকে সুস্থ রাখাসহ নানাবিধ উপকার করে।


     

    Read Also: ত্বকের যত্নে শসার ব্যবহার

     

    তাছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ক্যান্সার প্রতিরোধ, হার্ট সুস্থ রাখা, ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণ, অস্টিওপরোসিস থেকে মুক্তির জন্য অলিভ ওয়েল ও রসুনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।  
     

    /

    ×
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com