• বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১ , ১০ আষাঢ় ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১ , ১০ আষাঢ় ১৪২৮

ওজন কমানোর সহজ উপায়

সানজিদা জাহিন প্রিমা:
প্রকাশিত :শুক্রবার, মে ২১, ২০২১, ১০:৫০

  • ওজন কমানোর সহজ উপায়

    সকলের উচিত স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করা। সুস্বাস্থ্যের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও প্রয়োজন বটে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের জন্য ওজন বেড়ে যায়, দেখা দেয় নানা রকমের অসুখ।ওজন কমাতে গিয়ে অনেকে ভুলপন্থা অবলম্বন করে স্বাস্থ্যহানি ঘটান। হরমোনাল সমস্যা, জিনগত সমস্যা প্রভৃতির জন্য অতিরিক্ত ওজন বাড়তে পারে, তাই ওজন কমানো শুরুর আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেয়া উচিত।


     

    অতিরিক্ত ওজন কমানোর উপায়

     

    দেহের অতিরিক্ত ওজন হ্রাস করে সুস্থ ও ফিট থাকতে হলে মানতে হবে বেশকিছু নিয়ম। চলুন জেনে নেয়া যাক স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর সহজ উপায়-

     

    বাদ যাবে না সকালের নাস্তা

     

    ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই সকালের নাস্তা বাদ দিয়েভ প্রথম ভুল করেন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায়, ক্ষুধামন্দা ঘটে। সকালে সুষম খাদ্য গ্রহণের ফলে আপনার শরীর থাকবে চাঙ্গা। নাস্তায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন ডিম, পনির প্রভৃতি রাখুন।

     

    সঠিক সময়ে খেতে হবে

     

    স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের মূল নিয়ামক হলো সঠিক সময়ে পরিমিত খাদ্যগ্রহণ। কেননা একেকদিন একেক সময়ে খাওয়ার ফলে আপনার শরীরের মেটাবলিজম রেট কমে যায়, গ্যাস্ট্রির সমস্যা, কোষ্টকাঠিন্যসহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। ওজন কমানোর জন্য আপনাকে খাবারের সময়ের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

     

    ডায়েটে রাখুন ফল

     

    মুখরোচক ও আকর্ষণীয় খাবার খেয়ে যখন শরীরে মেদ জমেছে তখন ফলমূল আপনার মেদ ঝরাতে যেমনি সাহায্য করবে তেমনি শরীরের ভিটামিন-মিনারেলের চাহিদা মেটাবে। তবে মিষ্টিজাতীয় ফল কম খেতে হবে। টকজাতীয় ফল ওজন কমাতে বেশ সহায়ক।

     

    কমাতে হবে শর্করাজাতীয় খাদ্যগ্রহণ

     

    ওজন কমানোর জন্য কমাতে হবে শর্করাজাতীয় খাদ্য গ্রহণ।বিশেষত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট বাদ দিতে হবে একেবারেই।ভাত কমিয়ে আপনার প্লেট সাজান বিভিন্নরকমের শাকসবজি দিয়ে। ভাতের বদলে চাইলে লাল আটার রুটি খেতে পারেন। খেয়াল রাখবেন ডায়েটে যেন উচ্চআঁশযুক্ত খাদ্য প্রাধান্য পায় ।

     

    প্রোটিন নিন বেশি বেশি

     

    প্রোটিন ক্ষুধা হরমোন ঘেরলিনের মাত্রা হ্রাস করে, যখন এটি ক্ষুধা হ্রাসকারী হরমোনগুলি GLP-1, পেপটাইড ওয়াইওয়াই এবং কোলেসিস্টোকিনিনকে বাড়ায়। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে ওজন হ্রাস পায় ও এবং শরীরের এনার্জি লেভেল উচ্চ থাকে। প্রোটিন জাতীয় খাদ্য মাংসপেশির বৃদ্ধি ঘটায় এবং দৈহিক সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে।

     

    চিনিকে না বলুন

     

    ওজন কমানোর জন্য চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাদ্য এড়িয়ে যতে হবে। কেননা সামান্য পরিমাণ চিনিও ফ্যাটবার্ণ বন্ধ করে দেয়, ফলে উল্টো ওজন বেড়ে যায়। তাই চিনিকে খাদ্যতালিকা থেকে একেবারেই বাদ দিতে হবে।চা-কফির সাথে চিনি বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা যাবে না।

     

    প্রচুর পানি পান করুন

     

    আমাদের দেহের সত্তর শতাংশ পানি। একজন প্রাপ্তবয়স্কের দিনে ২/৩ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে পানি পান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া পানি পান করার ফলে আপনার ক্ষুধাও কম লাগবে। দুপুর ও রাতের খাবারের আগে পানি পান করলে অল্প খেলে ক্ষুধা মিটে যাবে এতে শর্করা সহজেই কম খেতে পারবেন।

     

    প্রয়োজন পরিমিত ঘুম

     

    গবেষণায় উঠে এসেছে, দৈনিক ৬ ঘন্টার চেয়ে কম ঘুমালে শরীরের ওজন বাড়ে। তাই চেষ্টা করুন রাতে টানা ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানোর। গভীর রাত অব্দি জাগবেন না এবং দিনে ঘুমানো পরিহার করুন।

     

    নিয়মিত ব্যায়াম করুন

     

    ব্যায়াম শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের ফলে কাজে একাগ্রতা ফিরে আসে এবং শরীর সুস্থ থাকে। ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যাবশক।

     

    চিন্তা মুক্ত থাকুন

     

    দুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে ওজন বেড়ে যায়।কেননা দুশ্চিন্তার ফলে দেহের রক্তের সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বারবার ক্ষুধা লাগে। এতে শর্করাজাতীয় খাদ্যের প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়। তাই চিন্তামুক্ত থাকুন এবং পূর্ণ মনোযোগ সহকারে অল্প খাবার গ্রহণ করুন।

     

    Read Also: শরীরের কোথাও কেটে গেলে দ্রুত যা করবেন

     

    অতিরিক্ত তেল-মসলাজাতীয় খাদ্য ও ফাস্টফুড বাদ দিন

     

    খাবারে অতিরিক্ত তেল-মসলা ব্যবহারের ফলে এতে বিদ্যমান পুষ্টিগুণ হ্রাস পায় এবং শরীরের ক্ষতিসাধন করে। তেলে ভাজা খাবার খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন অসুখের সৃষ্টি করে। ফাস্টফুড জাতীয় খাদ্যে অনেক বেশি ক্যালোরি থাকে যা দৈনন্দিন চাহিদার চেয়ে বেশি ফলে এই অতিরিক্ত ক্যালোরি ওজন বৃদ্ধি করে। তাছাড়া ফাস্টফুড জাতীয় খাদ্য অস্বাস্থ্যকরও বটে।

     

    দ্রত ওজন কমানোর সহজ উপায়ঃ

     

    উল্লেখিত বিষয়াদি অনুসরণ করার পাশাপাশি আরো দ্রুত ওজন কমানোর জন সবচেয়ে কার্যকর দুটো ডায়েট সম্পর্কে জানা যাক-

     

    ইন্টারমেটিং ফাস্টিং

     

    এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময় মেনে খেতে হবে। অর্থাৎ ১৬ বা ১৪ ঘন্টা আপনাকে না খেয়ে থাকতে হবে এবং বাকি ৮/১০ ঘন্টা শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি ব্যায়াম করে ক্যালোরি বার্ণ করতে হবে।

     


    কিটো ডায়েট

     

    এই ডায়েটের মূল কথাই হলো কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাদ্য একেবারেই কমিয়ে নেয়া। ভাত-রুটির স্থান এখানে নেই বললেই চলে।

    এখানে শাক-সবজি ও প্রোটিনের আধিক্য বেশি। এই ডায়েট অনুসরন কদে খুব কম সময়ে ওজন কমানো সম্ভব হয় ।

    /

    ×
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com