• শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ , ৯ আশ্বিন ১৪২৮
  • আর্কাইভ

শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ , ৯ আশ্বিন ১৪২৮

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: নাজুক বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কিত উপকূলবাসী

খুলনা প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত :সোমবার, মে ২৪, ২০২১, ০২:১৮

সংগৃহীত ছবি

গত দেড় দশকে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একটির ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের নতুন নামে আঘাত হানছে অন্য একটি ঘূর্ণিঝড়।সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর এক বছর পার হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই বেড়িবাঁধ না হওয়ায় শঙ্কিত উপকূলের মানুষ।


 

জেলা প্রশাসন সূত্রমতে, খুলনার কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোংলায় নদীর তীর ও বেড়িবাঁধের পাশে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

 

দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলা অন্যতম। গত বছরের ২০ মে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে কয়রা উপজেলার বেড়িবাঁধের মারাত্মক ক্ষতি হয়। জেলার ৯টি উপজেলায় সাড়ে ৮৩ হাজারের মতো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে শুধু কয়রা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা ছিল ৫১ হাজার। সুন্দরবন সংলগ্ন এ উপজেলার ১৫৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ। 

 

আরো পড়ুন -

১.শুরু হয়েছে লঞ্চ-ট্রেন-দূরপাল্লার বাস চলাচল

২.ভারতে আবারও বেড়েছে করোনায় মৃতের সংখ্যা, একদিনে মৃত্যু ৪৪৪৫ জন

৩.চাঁদপুরে প্লাস্টিক ডিম বিক্রি নিয়ে তোলপার

৪.ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে রূপ নিল নিম্নচাপ

৫- ২৯ মে থেকে বিমানের সৌদিগামী ফ্লাইট চালু

 

এ উপজেলার বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগকবলিত এ জনপদের মানুষ একটির ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের নতুন নামে আঘাত হানছে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়। এসব ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ। সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলো জমি ও সম্পদ হারিয়ে এখন উদ্বাস্তু। গত বছরের ২০ মে আম্পানের তাণ্ডবে ৬০-এর দশকে উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত অনেক বেড়িবাঁধ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। 

 

এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ চুইয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে রাখে। সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া থেকে হোগলা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 

 

এছাড়া পূর্ব মঠবাড়ি লঞ্চঘাট থেকে পবনার ক্লোজার পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা্য খুবই নাজুক। নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেলে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। রিং বাঁধ দেয়া হলেও আজও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

 

এর ফলে সিডর, আইলা, বুলবুল, আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকার মানুষ এখন নতুন ঘূর্ণিঝড় ইয়াস নিয়ে চিন্তিত। 

তবে কয়রা উপজেলা প্রশাসন বলছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় তারা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কয়রার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে মাইকিং।

 

কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুর রহমান বলেন, আইলায় বাঁধ ভেঙে চার বছরের বেশি সময় পানিবন্দি থাকতে হয়েছে স্থানীয়দের। মাত্র ১০ শতাংশের মতো ঘরবাড়ি টিকে ছিল। আইলার পর আড়াই হাজারের মতো পরিবারকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে আবারো লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।

 

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, এ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে।এখানকার বড় সমস্যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্বল বেড়িবাঁধ। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।


 

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হোসেন জানান, নানা কারণে বাঁধগুলোর সক্ষমতা কমেছে। এ অবস্থায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে ৪৮০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য সাতটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। 


 

/এস এ. আকাশ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
মোবাইল নাম্বার: 01711121726
Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com