• শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১ , ১০ আষাঢ় ১৪২৮
  • আর্কাইভ

শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১ , ১০ আষাঢ় ১৪২৮

কালোজিরা তেলের উপকারিতা


প্রকাশিত :শুক্রবার, মে ২৮, ২০২১, ১০:১৭

  • কালোজিরা তেলের উপকারিতা

    অগণিত গুণের জন্য সবার কাছে সমান ভাবে সমাদৃত কালোজিরা তেল।কালোজিরা বীজ থেকে এই তেল আহরণ করে ব্যবহার করা হয় বিভিন্নভাবে। এই তেলের উপকারিতা এতো বেশি যে যুগে যুগে বিভিন্ন কেমিক্যালের আবির্ভাব হলেও এর বিকল্প কিছুই নেই। চলুন জেনে আসা যাক কালোজিরা তেলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপকারিতাঃ


     

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

     

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে কালোজিরার জুড়ি নেই। প্রতিদিন কালোজিরা খেলে দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। দেহকে রোগমুক্ত রেখে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই তেল সহায়তা করে।

     

    স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি

     

    মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে কালোজিরা স্মৃতি শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। কালোজিরা মেধার বিকাশেও কাজ করে। এক চা-চামচ পুদিনা পাতার রস বা কমলার রস বা এক কাপ রঙ চায়ের সাথে এক চামচ কালোজিরা মিশিয়ে খেলে দুশ্চিন্তা দূর করে।

     

    হাঁপানি রোগ সারাতে

     

    হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট রোগীদের জন্য কালোজিরা বেশ উপকারি। প্রতিদিন কালোজিরা ভর্তা খেলে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা উপশম হয়।

     

    গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণে

     

    অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের জন্য গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগেন অনেকেই। ফলে প্রতিদিন নিতে গ্যাস্ট্রিক নিবারণের ঔষুধ যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। গ্যাস্ট্রিককে চিরতরে বিদায় জানানোর জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখে কালোজিরা তেল ও মধুর সেবন।

     

    ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে

     

    কেমিক্যালযুক্ত লোশনের পরিবর্তে কালোজিরা তেল শরীরে ব্যবহার করলে ত্বক থাকে মসৃণ ও লাবণ্যময়। সকল প্রকার চর্মরোগ দূর করার জন্য কালোজিরা তেল অনন্য। ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কালোজিরা তেল ও মধুর পেস্ট বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এই তেলে রয়েছে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামক প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড যা সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি, পরিবেশের প্রখরতা থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং সতেজ রাখে। কালোজিরা তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকে বয়সের ছাপ ও বলিরেখা দেখা যায় না ফলে আপনি থাকবেন চিরতরুণ।

     

    চুলের যত্নে

     

    চুলের যত্নে কালোজিরার ব্যবহার বেশ পুরোনো। এটি চুলের গোড়াকে শক্তিশালী করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

     

    চুলকে কালো, ঘন ও লম্বা করার জন্য এই তেলের নামডাক রয়েছে। কালোজিরা কিংবা এর তেল খেলেও চুলের বৃদ্ধি ঘটে।

     

    শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে

     

    দুই বছরের অধিক বয়সের শিশুকে নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ালে শিশুর খুব তাড়াতাড়ি দৈহিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

     

    এছাড়া ডায়বেটিস, উচ্চরক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতা নিয়ন্ত্রণে, অর্শরোগ, জন্ডিস, হার্টের রোগ, বাতের ব্যাথা সারাতে কালোজিরা চমকপ্রদ ভুমিকা রাখে।

     

    কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

     

    বিভিন্নরকম উপকারিতা পাওয়ার জন্য কালোজিরার সেবন বিধিও অনেক বৈচিত্রময়। কিছু ক্ষেত্রে শুধু কালোজিরায় কার্যকর আবার অনেক ক্ষেত্রে কালোজিরার সাথে মধু,অলিভ ওয়েল সহ বেশ কিছু অরগানিক জিনিস যুক্ত করতে হয়।

     

    কালোজিরা ও মধুর উপকারিতা

     

    মধু ও কালোজিরা উভয়টিতেই প্রাকৃতিকভাবেই ব্যাকটেরিয়াবিরোধী, মধুতে আছে এন্টিসেপ্টিক, এন্টিব্যাক্টেরিয়াল ও এন্টিইনফেমেটরি উপাদান রয়েছে।রয়েছে নানাবিধ পুষ্টিগুণ। কালোজিরার সাথে মধুর ব্যবহার বিভিন্নক্ষেত্রে অব্যর্থ ঔষুধ হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে কালোজিরা ও মধু খেলে শরীর সম্পূর্ণভাবে রোগমুক্ত থাকে। ওজন কমাতেও এই দুইয়ের মিশ্রন বেশ কার্যকর।

     

    কালোজিরা ও মধু খাওয়ার নিয়ম

     

    ১. এক চা-চামচ কালোজিরার সাথে সমপরিমাণ মধু দৈনিক তিনবার খেলে সর্দি সেরে যায় নিমিষেই।

     ২.মধু ও কালোজিরা একসাথে কয়েক সপ্তাহ খেলে মাথাব্যাথা, ঘাড়ের ব্যাথা, পিঠের ব্যাথা দূর হয়ে যায়।

     ৩.শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা ও মধু একসাথে খাওয়ানো বেশ উপকারী।মধুর স্বাদ শিশুর রুচি বাড়াতেও সহায়তা করে।

     ৪.আমাশয় রোগ সারানোর জন্য এক চা-চামচ কালোজিরার

    তেল সমপরিমাণের মধুর সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার, ২/৩ সপ্তাহ খেতে হবে।

     ৫. মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা মিহি করে খেলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়।

     ৬. এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা এক গ্লাস পানির সাথে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

     ৭. এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে তাতে  এক চামচ কালোজিরা মিশাতে হবে। রাতে ঘুমাবার আগে এই মিশ্রনটি সেবন করলে নিদ্রাহীনতা দূর হবে এবং প্রশান্তি পাওয়া যাবে।

     ৮. এক চামচ মধু নিয়ে এতে সামান্য  কয়েকটি কালোজিরা দিয়ে চিবিয়ে কয়েকদিন খেলে অ্যাজমার সমস্যা দূর হয়।

     ৯. মধু ও কালোজিরার পেস্ট বানিয়ে  ত্বকে লাগালে ত্বক অনেক উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়। নিয়মিয় এই পেস্ট ব্যবহার করলে ত্বকে ব্রণ দূর হয়।

    ১০.এক চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরা তেল ও মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগালে চর্মরোগ কমে যায়।

     


    মধুসহ কালোজিরা প্রতিদিন সকালে খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং বহু রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

     

    May You Also Like

    ওজন কমানোর সহজ উপায়
    অস্ত্রোপচারের আগে করোনা টেস্ট, লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সিরিয়াল
    ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দেশে আসছে সেরামের ভ্যাকসিন
    সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন
    যতগুলা ভ্যাকসিন আছে তাদের ভেতর এটা সবচেয়ে নিরাপদ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    /

    ×
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com