• বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ , ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ , ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

সোনালি বেন্দ্রের ক্যান্সার জয়ের গল্প

আফজালুর ফেরদৌস রুমন:
প্রকাশিত :সোমবার, জুন ৭, ২০২১, ০২:৫৭

বলিউড অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে । সংগৃহীত ছবি

গতকাল নিজের দুটি ছবি কোলাজ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন বলিউড অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে। ছবিটি শেয়ার করার সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের কাছে একটি অন্যরকম অনুভূতি নিয়ে হাজির হয়েছে। কমবেশি আমরা সবাই জানি যে, ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন এই বলিউড ডিভা। ছবিটি শেয়ার করার সময় তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন - ‘সময় কীভাবে চলে যায়। আজ যখন পেছন ফিরে তাকাই, আমি শক্তি দেখি, আমি দুর্বলতা দেখি।’ 


 

ছবি দুটির একটিতে হাসপাতালের বিছানায় সোনালি বেন্দ্রে। কেমো থেরাপির প্রভাবে মাথা চুলহীন। পাশের ছবিটি ফিরে আসার, শক্তির, প্রেরণার এবং যুদ্ধ জয়ের। মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে বিজয়ী এক সংগ্রামীর ছবি। একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার সেই কঠিন সময়ের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

 

আরও পড়ুন- 

১-পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত ৩০

২- বৈধ কাগজ না থাকায় মালয়েশিয়ায় ৬২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, পাসপোর্ট জটিলতায় প্রবাসীরা

৩- মহাখালীর সাততলা বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, শত শত ঘর পুড়ে ছাই!

৪- কে এই ভাইরাল হওয়া মেয়েটি?

৫-করোনা আক্রান্ত শ্বশুরকে পিঠে করে হাসপাতালে নিলেন পুত্রবধূ

 

তারই অংশবিশেষ এখানে তুলে ধরা হলো- 

‘আমার কাছে মানুষ ক্যানসার জয়ের গল্প শুনতে চায়। কিন্তু আমি একটা সময় এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইতাম না। অস্বস্তি লাগতো খুব। আমার সেই চুল আর নেই, ভ্রু আর নেই, কেমোর প্রভাবে চোখের পাপড়িও সব পড়ে গিয়েছিল। এখন অবশ্য ভ্রু আর চোখের পাপড়ি ফিরে এসেছে। সুস্থ হয়ে অনেক অনেক মাস পর প্রথমবার চোখে মাশকারা দিয়েছি। ঠিক করেছি, আজ আমি একদম কাঁদব না। তাহলে এত শখের মাশকারা মুছে যাবে।’

 

‘চুল ছিল আমার সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক। আমি প্রায় সব ধরনের চুল পরিচর্যাকারী পণ্যের প্রচার করেছি একসময়। গোছা গোছা চুল, মসৃণ ত্বক, ক্ষীণ শারীরিক গড়ন আর সৌন্দর্য ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু যখনই ক্যানসারে আক্রান্ত হলাম, তখনই জীবনের সবকিছু উল্টেপাল্টে গেল। আমার অস্তিত্বকেই একটা শূন্যস্থানে পরিণত করল। কারণ, এটা শুধু আমার ব্যক্তিজীবন নয়, কর্মজীবনকেও বিলীন করার আতঙ্ক আমার ভেতর ঢুকিয়ে দিয়েছিল।’

 

অন্যদিকে ক্যানসার কিন্তু আমাকে একটা ভালো ব্যাপারও শিখিয়েছে। আমি এই যাত্রায় বুঝতে পেরেছি যে আমার ছেলে একটা সুন্দর পৃথিবীতে বেড়ে উঠছে। যখন নিউইয়র্কে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য যাই, সেখানে কেউ আমাকে চেনে না। কিন্তু এরপরও পদে পদে আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। সেই ভালোবাসা থেকেই আমি বুঝে গেছি, মানবতা সবচেয়ে সুন্দর। কেমোর আগে আমি যেখানে চুল কাটাতে গেছি, সেই হেয়ার স্টাইলিস্ট আমার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেয়নি। আমাকে বলেছে, “পরের বার তুমি যখন লম্বা চুল নিয়ে আমার কাছে ছাঁটতে আসবে, তখন দিয়ো।” 

 

আমি নিয়মিত যেই দোকান থেকে সদাইপাতি করতাম, সেখানকার ব্রিটিশ বিক্রয়কর্মী তাঁর মায়ের হাতে বানানো স্যুপ আমার জন্য নিয়ে আসতেন বক্সে করে। আমি কোন দেশের, কী করি, কোন ধর্মের—এসব কিছু না ভেবেই অচেনা মানুষগুলো আমার বেঁচে থাকাকে উদযাপন করত। আমাকে প্রেরণা দিত। আমি যদি ক্যানসার সার্জারি থেকে ফিরে না-ও আসতাম, তাহলে এই সুখ নিয়েই চলে যেতাম যে আমার সন্তান একটা সুন্দর পৃথিবীতে আছে। সেই পৃথিবীতে, যেখানে এখনো মানবতা আছে, ভালোবাসা আছে।’

 


‘কাজে ফিরে আসা যে কতটা আনন্দ আর তৃপ্তির, তা লিখে বোঝাতে পারব না। আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছি, আবার বিভিন্ন চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলব, এ এক পরম পাওয়া। গত কয়েক মাস আমি মনের দিক থেকে খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। তারপর আবার শুটিংয়ে ফিরে আসতে পেরেছি। সত্যি আমার লড়াই আজ সার্থক হলো।’

 

বাস্তব জীবনে মরনব্যাধি ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ জয়ী এই অভিনেত্রীর জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা

/এস এ. আকাশ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
মোবাইল নাম্বার: 01711121726
Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com