• মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১ , ১১ শ্রাবণ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১ , ১১ শ্রাবণ ১৪২৮

জেনে নিন বজ্রপাত বাড়ছে কেন এবং বজ্রপাত থেকে বাঁচতে কী করবেন?

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্কঃ
প্রকাশিত :মঙ্গলবার, জুন ৮, ২০২১, ১১:৩৪

সংগৃহীত ছবি

সারাদেশে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু দিনে দিনে বাড়ছেই। সরকারি এক হিসাব অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা গেছেন ১০৭ জন। গত কয়েক বছর ধরেই মানুষের জানমালের হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বজ্রপাত। গত এক দশকে বজ্রপাতে নিহত হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষ। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।


 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল এই এগারো বছরে দেশে বজ্রপাতে মোট মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৯ জন। ২০২০ সালে মারা বজ্রপাতে মারা গেছেন ২৯৮ জন। তবে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতে প্রাণহানি ঘটেছে ২০১৮ সালে, ৩৫৯ জন। ২০১৭ সালে মারা গেছেন ৩০১ জন। ২০১৬ সালে ২০৫ জন, ২০১৫ সালে ১৬০ জন, ২০১৪ সালে ১৭০ জন, ২০১৩ সালে ১৮৫ জন, ২০১২ সালে ২০১ জন, ২০১১ সালে ১৭৯ জন এবং ২০১০ সালে ১২৩ জন বজ্রপাতে মারা যান।

 

আরও পড়ুন- 

১-পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত ৩০

২- বৈধ কাগজ না থাকায় মালয়েশিয়ায় ৬২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, পাসপোর্ট জটিলতায় প্রবাসীরা

৩- কানাডায় ধর্মীয় বিদ্বেষ: মুসলিম পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা

৪- জাতিসংঘের সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ

৫-বিশ্বে আবারও বেড়েছে করোনায় মৃতের সংখ্যা

 

বজ্রপাত বাড়ার কারণ-

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাপমাত্রা ও বাতাসে সিসার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, জনজীবনে ধাতব পদার্থের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া, প্রচুর মোবাইল ফোন ব্যবহার ও এর রেডিয়েশন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, বনভূমি বা গ্রামাঞ্চলে উঁচু গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, জলাভূমি ভরাট ও নদী দখলসহ নানা কারণে বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছে। 

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, বজ্র ঝড় শুরুর তিনটি ধাপ আছে। শুরুতেই বজ্রপাত হয় না। প্রথমে মেঘ তৈরি হতে থাকে এবং ওই সময় আকাশের অবস্থা খুব ঘন কালো হয় না। একটু কালো মেঘের মতো তৈরি হয়। সামান্য বৃষ্টি ও হালকা বিদ্যুৎ চমকের সময় যদি মানুষ সচেতন হয়; তবে মৃত্যুঝুঁকি কমতে পারে। তা ছাড়া পানি বিদ্যুৎপরিবাহী বলে বজ্রপাতের সময় পানির সংস্পর্শে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্ট্যাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন বলেন, ‘প্রধানত দু'টি কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে৷ এর ফলে বৃষ্টিপাতের ধরন ও সময় পরিবর্তন হয়েছে৷ কালবৈশাখি বেশি হচ্ছে৷ আর বজ্রপাতের সংখ্যা বা পরিমাণ বেড়ে গেছে৷ অন্যদিকে আগে গ্রামাঞ্চলে প্রচুর উঁচু গাছ ছিল৷ তাল গাছ, বটগাছ প্রভৃতি৷ সাভাবিক নিয়মে বজ্রপাত হলে এসব উঁচু গাছ তা অ্যাসজর্ব করে নিতো৷ কিন্তু এখন তা না থাকায় যখন খোলা মাঠে বজ্রপাত হয় তা মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ শহরে গাছ না থাকলেও উঁচু উঁচু ভবন আছে৷ ফলে শহরের মানুষ এই মত্যু থেকে রেহাই পাচ্ছে।’

 

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে আমাদের করণীয়:

* বজ্রঝড় সাধারণত ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময়টুকু ঘরে অবস্থান করুন। অতি জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে রাবারের জুতা পরে বাইরে যাবেন, এটি বজ্রঝড় বা বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা দেবে।

 

* বজ্রপাতের আশংকা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ভবনের ছাদে বা উঁচু ভূমিতে যাওয়া উচিত হবে না।

* বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা খোলামাঠে যদি থাকেন তাহলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে।

 

* বজ্রপাতের সময় যে কোন ধরণের খেলাধুলা থেকে শিশুকে বিরত রাখতে হবে, ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে হবে।

* খালি জায়গায় যদি উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ধাতব পদার্থ বা মোবাইল টাওয়ার থাকে, তার কাছাকাছি থাকবেন না। বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে থাকা বিপজ্জনক ।

 

* বজ্রপাতের সময় ছাউনিবিহীন নৌকায় মাছ ধরতে না যাওয়াই উচিৎ হবে। সমুদ্রে বা নদীতে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে।

* যদি কেউ গাড়ির ভেতর অবস্থান করেন, তাহলে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ রাখা যাবে না।


 

উল্লেখ্য যে, বজ্রপাত নিয়ে আইডিইবির সদস্য প্রকৌশলীরা কাজ করছেন এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ইতোমধ্যে সরকার ১০ হাজার তালগাছ লাগিয়েছে


 

/এস এ. আকাশ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
মোবাইল নাম্বার: 01711121726
Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com