• মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১ , ১১ শ্রাবণ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১ , ১১ শ্রাবণ ১৪২৮

ঘুরে আসুন সাদাপাথরের দেশে


প্রকাশিত :বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১, ১০:০৭

ঘুরে আসুন সাদাপাথরের দেশে

অনাবিল সৌন্দর্য্যের আধার সিলেট যেন শিল্পের হাতে আঁকা নিখুঁত কোনো চিত্র।পাহাড়, নদী,ঝরণা,হাওড়, চা-বাগান আর  সবুজের সাম্রাজ্যের সিলেটে সারাবছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা থাকে।অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্রের মাঝে ইদানিংকালে "টক অফ দ্যা কান্ট্রি" হয়ে উঠেছে পাথরের স্বর্গরাজ্য খ্যাত ভোলাগঞ্জ জিরোপয়েন্টের সাদাপাথর এলাকা।


 

সাদাপাথরের টুকিটাকি

 

 সিলেট শহর থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদের উৎসমুখে সাদাপাথরের অবস্থান।ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা ঝরণার পাদদেশে প্রায়  ৫ একর জায়গা জুড়ে সাদা পাথরের অবস্থান।পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা ঝরণার পানির তীব্র স্রোতের কলকল ধ্বনিতে মন জুড়ায়। শীতল জলের এই অশান্ত ছুটেচলা,গন্তব্য ধলাই নদের বুক।স্রোতস্বিনী নদের নীল জলরাশির মায়ায় আটকে যাবে ক্লান্ত প্রাণও।

 

ওপারে মেঘালয় রাজ্যের সবুজ পাহাড়  আর নীল আকাশের হাতছানি, এপারে স্বচ্ছ জল আর সাদাপাথরের মেলা যেন নিয়ে যায় অন্য এক ভুবনে। পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ হওয়ায় এখনো পুরোটাই প্রাকৃতিক এই স্থানটি। সিলেট থেকে সাদা পাথর পর্যন্ত পুরোটা রাস্তাই প্রকৃতি তার সৌন্দর্যে বিমোহিত করবে যে কাউকে। সিলেট নগরীর সীমানা ছাড়ালেই লাক্কাতুরা চা বাগান। সারি সারি চায়ের গাছ দেখতে দেখতেই যাবেন অনেকটা পথ। বাংলাদেশের প্রথম চা বাগান এটি। চা বাগানের সীমানা পেরিয়ে আরো খানিকটা এগুলে সালুটিকর বাজার, কোম্পানীগঞ্জের সীমানা শুরু। বাজার পেরুলেই একদিকে সবুজ ধানক্ষেত আর অন্যদিকে বিশাল জলাভূমি। নীল আকাশের সাথে জলাভূমির সন্ধিস্থলে মনে হয় সবটুকুও অপার আকাশ। যেন জলের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে  সাদা মেঘ। দিগন্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে দেখতেই কোম্পানীগঞ্জের টুকের বাজার। সেখান থেকে ট্রলারে আধাঘণ্টার ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন সাদা পাথর পর্যটন স্পট।পথিমধ্যে চোখে পড়বে  ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে প্রকল্প যেটি  ১৯৬৪-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় বৃটিশ রোপওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এর আওতায় ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত সোয়া ১১ মাইল দীর্ঘ রোপওয়ের জন্য নির্মাণ করা হয় ১২০টি টাওয়ার এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্ট। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সংস্কারের অভাবে গত প্রায় ১৫ বছর ধরে রোপওয়েটি বন্ধ রয়েছে।

 

উপযুক্ত সময় 

 

ভোলাগঞ্জ যাবার সবচেয়ে উপযুক্ত  সময় হচ্ছে বর্ষাকাল ও তার পরবর্তী কিছু মাস অর্থাৎ জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই সময় যাওয়ার জন্যে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। অন্যসময় গেলে সেখানে পাথরের ছড়াছড়ি দেখতে পেলেও নদীতে  পানির পরিমাণ কম থাকে। আর শীতকালে সাদা পাথর এলাকায় নৌকা চলাচল করার মত পানি থাকেনা ফলে  তখন পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখতে হবে।

 

কীভাবে যাবেন 

 

যেহেতু ভোলাগঞ্জ সিলেটের খুবই কাছে তাই সহজেই যাতায়াত করা যায়।আগে এই রাস্তার বেহাল দশা থাকলেও এখন এই রাস্তা বেশ ভালো।

ভোলাগঞ্জ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে তবে যাত্রা শুরুর স্থান একই অর্থাৎ নগরীর আম্বরখানা থেকেই যেতে হবে।

 

সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জগামী লোকাল বাসের পাশাপাশি বিআরটিসির বাস ও সাদা পাথর পরিবহন নামক বাস আছে।

 

বাস ভাড়া পড়বে ৬০-৭০ টাকা,চাইলে রিজার্ভও করে নিতে পারেন।আম্বরখানা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলে সিলেট কোম্পানীগঞ্জ রুটে। ১২০ টাকা জনপ্রতি ভাড়ায় কোম্পানীগঞ্জের টুকের বাজারে নামাবে। টুকের বাজার থেকেই ট্রলারে চলে যেতে পারেন সাদা পাথর। কোম্পানীগঞ্জ পৌঁছে টুকের বাজার ঘাট থেকে ট্রলারে সাদা পাথর পৌঁছাতে ২৫ মিনিটের মতো সময় লাগবে। যাওয়া-আসায় নৌকা ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০  টাকা। এখানে নৌকা রিজার্ভ করে নিতে হয় এতে সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে জনপ্রতি ১০০ টাকা করেও নৌকা দিয়ে যেতে পারেন। প্রতি নৌকার সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০ জন হলেও ৮ জনের বেশি এক নৌকায় তোলা হয় না।

 

ভোলাগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণ এই নৌকাভ্রমণ,ধলাই নদের বুক চিরে যেতে যেতে প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় চোখ জুড়িয়ে যাবে।

 

তবে এখানকার মূল সৌন্দর্য্য কেবল বর্ষাকালে মিলবে। শীতকালে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায় বলে নৌকায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন যেতে হবে পায়ে হেঁটে।

 

কোথায় খাবেন

 

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর কিংবা ১০ নং ঘাটে খাবারের জন্য ভালোমানের হোটেল নেই।সিলেট শহরে সকালের নাস্তা করে দুপুরের খাবার সাথে নিয়ে যেতে পারলে ভালো কিংবা ফিরতি এসে খাবার খাওয়া যাবে।

 

তবে সময়মতো খেতে হলে স্থানীয় সাধারণ মানের হোটেলই ভরসা।


বাজারে বেশকয়েকটি দোকান রয়েছে যেখান থেকে  স্ন্যাকস জাতীয় খাবার, কোমল পানীয়, চিপস প্রভৃতি কিনে খেতে পারেন।

 

যেহেতু পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য্য পরিচ্ছন্নতার উপর অনেকাংশেই নির্ভর করে তাই যেকোনো প্রকারের খাবারের প্যাকেট বা অন্য কোনো ময়লা সাদাপাথর এলাকায় ফেলবেন না।জিরোপয়েন্ট এলাকায় প্রশাসন প্রদত্ত নীতিমালা মেনে চলবেন এবং ঢেউয়ের সাথে অতিরিক্ত মজা করতে যাবেন না।

/

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
মোবাইল নাম্বার: 01711121726
Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com