• মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১ , ১১ শ্রাবণ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১ , ১১ শ্রাবণ ১৪২৮

আড়ালেই যাদের গল্পগাথা...

এম.বি রিয়াদ, ইবি প্রতিনিধি:
প্রকাশিত :মঙ্গলবার, জুলাই ২০, ২০২১, ০২:১৪

ফাইল ফটো

প্রতিটি গল্পের পিছনে রয়েছে ভিন্ন এক গল্প। কত রাত নির্ঘুম থেকে শত বাঁধা পেরিয়ে যারা গল্পটিকে প্রাণবন্ত করতে শ্রম দিয়ে যান। একসময় তারাই গল্পের আড়ালে পড়ে যায়। তাদের পরিচয়গুলো আড়ালে হারিয়ে যায় না বলা গল্পের মতো। এমনই কিছু আড়ালে হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা জানবো আজ।


আব্দুল করিম, আব্দুর রাজ্জাক (হাসমত), জাহিদ, গিয়াসউদ্দীন, নজরুল ইসলাম এবং রিন্টু মোল্ল্যা। তারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালক। করোনা মহামারির মধ্যেও তারা নানা বাঁধা উপেক্ষা করে হাসি ফুটিয়েছেন শিক্ষার্থীদের মুখে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে তারা দিনরাত ছুটে গেছেন এক শহর থেকে অন্য শহরে।

সম্প্রতি দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে আটকে পড়ে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহে অবস্থানরত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭'শ শিক্ষার্থী। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে শঙ্কায় পড়ে তারা। তবে শাখা ছাত্র মৈত্রীর দাবির প্রেক্ষিতে নিজস্ব বাসে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেয় প্রশাসন। গত ১৬ ও ১৮ জুলাই মোট ১১টি বাসে শিক্ষার্থীদের ঢাকা, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়।


প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে পেরে আনন্দিত চালকরাও। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালান আব্দুর রাজ্জাক। সদা মিষ্টভাষী গোলগাল চেহারার এই লোকটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই হাসমত ভাই বলেই সম্বোধন করে থাকেন।

তিনি বলেন, ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাস দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই ভালো কাজ। ঝুঁকি সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। সকলেই পরিবারের সাথে থেকে সুস্থ সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করুক এমনটা আমরা চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ঈদ যাত্রায় নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে 'ফুলের মাঝে মাটির মমতা রসের' মতই ভূমিকা পালন করেছেন ক্যাম্পাসের প্রিয় ড্রাইভার মামারা। নিজেদের ঝুঁকিতে ফেলে, বিরক্তিকর যানজট ঠেলে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছিয়ে হাসি ফুটিয়েছেন আমাদের মুখে। এসব আয়োজনে আয়োজকদের প্রচেষ্টার গল্প আর নীতিনির্ধারকদের নির্দেশের আড়ালেই থেকে যায় এই মানুষ গুলোর নিঃস্বার্থ শ্রমের গল্প। শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা মানুষগুলোর প্রতি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, যাত্রা পথে গাড়ি চালকরাও কষ্ট করেছে। বিশেষ করে ফেরার পথে ৭ থেকে ১০ ঘন্টা পর্যন্ত অনেক গাড়ি জ্যামে আটকা ছিল। যারা (চালক) গাড়ির ভিতরে থাকে তারা কষ্টটা বোঝে। এটা ভেবে ভালো লাগছে যে পরিবহন প্রশাসক হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করতে পেরেছি। এর পিছনে যারা সহযোগিতা করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।


প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে  আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পরিবহনে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানায় শাখা ছাত্র মৈত্রী। এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ও পরিবহন প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করে তারা।

দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম। পরে গুগল ফর্ম পূরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তালিকা সংগ্রহ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। গত ১২ জুলাই সংগ্রহ শেষ হয়। এতে বিভিন্ন জেলার ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করে। পরে তা বিশ্লেষণ করে ৫টি রুটে বাস দেয়ার সিন্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এসময় গাবতলী (ঢাকা), খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও ফরিদপুর শহর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিতে বাসের অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ।


/

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র

সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
মোবাইল নাম্বার: 01711121726
Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com