• শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১ , ৪ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১ , ৪ বৈশাখ ১৪২৮

অপরাজনীতি অসৌজন্যমূলক আচরণকে বুঝবার শিষ্টতা

ফেসবুকের পাতা থেকে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০২১, ০৮:১৪

  • অপরাজনীতি অসৌজন্যমূলক আচরণকে বুঝবার শিষ্টতা

    লেখাটি শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে বা বিপক্ষে যাবে সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে- অপরাজনীতি অসৌজন্যমূলক আচরণকে বুঝবার শিষ্টতা।

    বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- 'দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন'। এই উক্তির প্রেক্ষাপট অরাজনৈতিক ছিল না। বরং অপরাজনীতি বিরুদ্ধে একটা রাজনৈতিক হুংকার ছিল।


    এবার আসি মূল কথায়-
    গত কয়েকদিন আগে আমরা কয়েকজন মিলে উদ্যানের কোনে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের তাপ নিচ্ছিলাম। উল্লেখ্য যে, উপস্থিত আমাদের সবাই আওয়ামী ঘরানার পরিক্ষিত নির্মোহ একেকজন কর্মী মাত্র; যদিও এখন কেউ সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে জড়িত নয়।

    আগুন নিয়ে গোল হয়ে সবাই দাঁড়িয়ে বসে আগুন পোহাচ্ছিলাম আর নানান খোস গল্প হচ্ছিল। অদূরে আরেক দল যুবক একই কাজে লিপ্ত ছিলো। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম- হঠাৎ আমার পেছনে একটা হাতের টোকা পেলাম, ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখি এক অপরিচিত যুবক দাঁড়িয়ে, সে হাতের ইশারায় পার্শ্ববর্তী দলটিকে দেখিয়ে আমাকে বললো- ওখানে আপনাকে ডাকছে।

    আমি মনে মনে খানিকটা বিব্রত ও রাগান্বিত হয়েছিলাম, কারণ এক অপরিচিত যুবক পেছন থেকে ঘাড়ে টোকা দিয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করায়। এটা কি ধরণের শিষ্টাচার!

    লক্ষ্য করলাম উপস্থিত আমাদের সবার চোখে কিঞ্চিৎ উদবিঘ্নতা। সবাই চুপ। আমি যুবকটির মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞেস করলাম- তুমি কি আমাকে চেনো? ওখানে কে বা কারা আমাকে ডাকছে, ভুল হচ্ছে না তো তোমার? যুবকটি পুনরায় বললো- না আপনাকে চিনি না, তবে আপনাকেই ডাকছে।

    ঠিক এমন সময় পার্শ্ববর্তী আগুন তাপানো দল থেকে এক ক্ষীণ দেহী যুবক হাত তুলে বললো- আসেন আসেন আপনাকে ডাকছি, একটা গান শুনতে চাই আপনার কন্ঠে, আপনি খুব ভালো গান করেন, কথাগুলো বলতে বলতে সে এগিয়ে এলো আমাদের কাছে, এবং এসে সে আমাদের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছোট ভাইয়ের হাত ধরে আবারও বললো- চলেন আপনার একটা গান শুনবো। বিষয়টা এতক্ষণে কিছুটা পরিস্কার হলো যে, আমাকে তারা ডাকেনি। কিন্তু যাকে ডাকেছে সে-ও চল্লিশ ঊর্ধ বয়সের। আমি লক্ষ্য করলাম, গাতক ভাইটিও বেশ বিব্রত হয়েছে এমন আহবানে, এবং শরীর খারাপের অযুহাত দিয়ে সে গান গাইতে অপারগতা প্রকাশ করে। যদিও তাকে কেউ গান গাইতে অনুরোধ করলে, কখনো সে উপেক্ষা করে না।

    যে বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক মনে হয়েছে সেটি হচ্ছে- পার্শ্ববর্তী দলের যুবকদের আহবানের এ্যাটিচুড। অন্তত কোনো সিনিয়র বা সিনিয়র সিটিজেন এরকম এগ্রেসিভ এ্যাটিচুড আশা করে না জুনিয়র কারোর থেকে।

    কথাবার্তার এক পর্যায়ে যুবকটি আমাদের উদ্দেশ্য বললো- আপনারা তো ক্যাম্পাসের এক্স ভাই-ব্রাদার। এবং পরে জেনেছি আমাদের পার্শ্ববর্তী আগুন তাপানো দলটি ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগ কর্মী। খানিক বাদে বিষণ্ণ চিত্তে উদ্যান ত্যাগ করি আমরা।


    আরও অবাক হয়েছি যে, উপস্থিত আমাদের দলের সবাই ছিলো চুপচাপ! এ যেন অসৌজন্যমূলক দাম্ভিকতাকে মেনে নেওয়ার অপপ্রয়াস।

    বিগত দশক ধ'রে দলের ঊর্ধ্বতন দূরদর্শিতাকে দোষারোপ করে অসামাজিকতা, অসৌজন্যমূলক, শিষ্টাচার বহির্ভূত অরাজনৈতিকতাকে নিরবে মেনে নেওয়া যেন সিনিয়রদের এক অক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ! অথচ ৮০/৯০ দশ পর্যন্ত এসব অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ দেখতে হয়নি।

    আমার বন্ধু তালিকায় অনেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মী আছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন- আপনারা যখন সিনিয়র হয়ে যাবেন, তখন কি জুনিয়র নেতাকর্মীদের নিকটে এমন আচরণ আশা করবেন?

    বাংলাদেশের যেকোনো রাজনৈতিক দলের কাছে সাধারণ মানুষজন এমনকি দলীয় সিনিয়রেরা অন্তত সামান্য শিষ্টাচার অবশ্যই আশা করেন।

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com