• শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ , ৩ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ , ৩ বৈশাখ ১৪২৮

অমর একুশে বইমেলা

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ০২ ফেরুয়ারী, ২০২১, ০৯:২৭

  • অমর একুশে বইমেলা

    মানুষ মাত্রই প্রকাশক! জন্ম-মৃত্যুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত হৃদয় গহীনে জমা থাকা আবেক, অনুভূতি, মনস্তাত্ত্বিক ধারনা প্রকাশ করার প্রয়াসে বইয়ের উদ্ভব হয়।

    যুগ-যুগ ধরে সহস্র কবি-সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী তাঁদের নিরলস পরিশ্রমে রচিত গ্রন্থমালা জনমানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে বইমেলার প্রচলন শুরু করে। যদিও স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশে বইমেলা শুরু হয়। তারও বহু বছর আগেই বহির্বিশ্বে বইমেলার প্রচলন ঘটেছিল। ১৮০২ সালে নিউইয়র্ক শহরে ম্যাথু কেরীর উদ্যোগে সর্বপ্রথম বইমেলার আসর বসানো হয়।১৮৭৫ সালে নিউইয়র্কের ক্লিনটন শহরে ১০০ জন প্রকাশক মিলে আয়োজিত বইমেলায় প্রায় ত্রিশ হাজার বই প্রদর্শিত হয়েছিল। তারপর, ১৯৪৯ সাল থেকে শুরু হয় আধুনিক বইমেলার স্মরণীয় শুভযাত্রা।

    বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি মাসে যে বইমেলার আয়োজন করা হয় তা নানা রদবদলের মাধ্যমে বর্তমান রুপ ধারণ করেছে। যার সূচনালগ্নের কথা আমরা সবাই কমবেশ জানি।


    বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জগতে নতুন ধারার জন্ম নিয়েছিল ১৯৭৫ সালের মুক্তধারা নিজেদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রথম বইমেলার মাধ্যমে। ১৯৮৫ সালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে আয়োজিত বইমেলার নাম পরিবর্তন করে "একুশে বইমেলা" নামকরণ করা হয়। তারপর ১৯৯৫ সাল থেকে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত একুশে বইমেলা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে।

    প্রতিটি সাহিত্য প্রতিভাবান জনমানুষ নতুন বছরের শুরুতে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে কখন ফেব্রুয়ারি মাস আসবে। কখন একুশে বইমেলার উৎসুক জনতার ভিড়ে নিজকে বইয়ের হাওয়ায় দুলা লাগাবে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই সবাই যেন বইয়ের জগতে পা রাখে। সারি-সারি বইয়ের স্টল সাজানো থাকে বই সমারোহে! বিভিন্ন প্রকাশকের জন্য থাকে আলাদা স্টল। সাজ-সজ্জার দিক দিয়েও স্টগুলো ভিন্নতর। নতুন-পুরাতন বই প্রদর্শন ও বেচা-কেনায় ব্যস্ত থাকে প্রকাশকরা।

    বিশেষ করে বইমেলাতে আকর্ষণী মূল্যছাড়ে বই বিক্রি করা হয়। যার কারণে বইমেলাতে লোকজনের সমাগম বেশি ঘটে। বইমেলাতে সবাই যেন ব্যস্ত থাকেন সবার আপন গতিতে! কেউ কেউ নতুন বইয়ের পাতা উলটিয়ে চোখ বুলাতে ব্যস্ত থাকেন প্রিয় লেখকের অনন্য শব্দের বুননে রচিত পুস্তকে। কেউ বা স্টল ঘুরে-ফিরে দেখেন আর খুঁজে নেন প্রিয় বইগুলো। বইয়ের স্টলগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, একেকটা স্টল যেন একেকটা গ্রন্থাগার! এটি যেন শত বছরের ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য কথার অমর ধ্বনির কলকাকলিতে উজ্জীবিত হয়ে আছে! তাই কাব্যের ভাষায় বলতে হয়-

    "জন্ম থেকে কর বিতরণ তুমি জ্ঞানের আলো
    আঁধার ভুবনে আলো জ্বালিয়ে মোছ মনের কালো!
    তোমারই মাঝে ধ্বনিত হয় শত-শতকের জ্ঞান

    সেই ধ্বনিতে শিথিল হয় কোটি মানুষের প্রাণ।
    প্রজন্ম থেকে প্রজন্মতে কমেনি তোমার মান
    বই প্রেমিকদের অন্তরেতে তোমারই শীর্ষস্থান;
    শত-কোটি অর্থ-কড়িতে যায় না কেনা তোমায়
    সাহিত্য প্রতিভাবান মানবের মাঝে আছে তোমার দাম।
    জ্ঞানী-গুনীদের মনের আবেগ আছো ধারণ করে
    নব প্রজন্মের জ্ঞানের শিখা দিচ্ছো জ্বালিয়ে;

    জলনিধির জলের সমান তোমার পরিজ্ঞান
    জ্ঞান পিপাসীর তৃষ্ণা মিটিয়ে নাও না তার দাম।
    শীতল ছায়া দিচ্ছো ছড়িয়ে ভদ্র সমাজেতে,
    মনের জ্বালা কমাই মোরা তোমার ছায়ায় এসে।"

    একুশে বইমেলায় উৎসুক জনতার ভিড় জমানোর অন্যতম কারণ বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, উপন্যাসিক, দার্শনিকদের সাথে সরাসরি কথোপকথনর সু্যোগ।


    পাঠকরা তাদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা এবং কোন ধরনের বই পড়তে তারা বেশি আগ্রহী তা লেখকদের সাথে মতবিনিময় করে থাকেন। অনেকেই অটোগ্রাফ, সেলফি তুলেন প্রিয় সাহিত্যিকদের সাথে। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির উপর নবীন-প্রবীণ, তরুণ সমাজের ভালোবাসা ও আগ্রহ দেখে লেখকরাও তাদের বুকে টেনে নেন ভালোবাসার চাদরে!

    বইমেলাতে শুধু বই প্রদর্শন, বেচা-কেনা'ই হবে তা কিন্তু নয়? মেলায় সাহিত্যপ্রেমী জনতাকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে আরো প্রাণবন্ত করার জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় স্বনামধন্য কবিদের কবিতা আবৃত্তি, প্রবন্ধ রচনা পাঠ, বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এই চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা মেলার পরিবেশকে গড়ে তোলে আরো রমরমা! মেলার দর্শকবৃন্দের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে হরেক রকম হোটেল-রেস্টুরেন্টর ব্যবস্থা থাকে। এসকল রেস্টুরেন্টে প্রিয়জনদের নিয়ে আড্ডাবাজী, খাওয়া-দাওয়ার ভিড় করেন দর্শকবৃন্দরা।

    যতই দিন যাচ্ছে একুশে বইমেলা ততই জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রতি বছরই সরকারি উদ্যোগে বইমেলার আয়োজন করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকে পুরো মাস ব্যাপী চলতে থাকে অমর একুশে বইমেলা। বতর্মানে একুশে বইমেলার ব্যাপকতায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জায়গা সংকুলান হয় না।

    যার ফলে, ২০১৪ সালে সরকার সোহরা উওয়ার্দী উদ্যানে স্টল স্থাপনের জন্য আদেশ দিয়েছেন।

    এই একুশে বইমেলা শুধু বই প্রদর্শন ব্যবস্থা মাধ্যম নয়! এটি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজন করা হয়। মূলত ভাষা শহীদদের স্মরণ করার জন্যই "বইমেলা" শব্দটির আগে "একুশে" শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। তাই "অমর একুশে বইমেলা" শুধুমাত্র নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য নয়। এটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের আয়োজিত উৎসব।

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com