• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১ , ২ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১ , ২ বৈশাখ ১৪২৮

পাঁচ বছরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে (ডিএইচপিএ)

আফজালুর ফেরদৌস রুমন:
প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৫ ফেরুয়ারী, ২০২১, ০৫:৪৪

  • পাঁচ বছরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে (ডিএইচপিএ)

    ব্যক্তিগত শখের বসে শুরু করা কাজটাই এখন একটি বিরাট সমষ্টিগত উদ্যোগে রূপান্তরিত হয়েছে। বলা হচ্ছে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন এসোসিয়েশনের( ডিএইচপিএ) কথা। ঢাকা সহ সারা দেশেই এখন কবুতর প্রেমীদের সবচেয়ে বড় যোগসুত্র এখন এই গ্রুপটি। ঢাকায় বসবাসকারী কয়েকজন কবুতর প্রেমী একটি পিজিয়ন এসোসিয়েশন ক্লাব হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন ২০১৬ সালে। তাদের সেই ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হবার সাথে সাথেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজ হিসেবেও যাত্রা শুরু করে। যা পরবর্তীতে আরো জনপ্রিয় হয় এবং এখন ২০২১ সালে দাঁড়িয়ে এই ক্লাবের ফেসবুক পেইজে এখন দশ হাজারের অধিক কবুতরপ্রেমীদের অভূতপূর্ব পদচারনায় মুখর।



    ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম এখন একটি বিশাল পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। বাসার ছাদে, বা বাড়ির সামনে কবুতর লালনপালনের চিত্রটা মোটেও নতুন কিছু নয়। যারা কবুতর পালেন তারা পুরোপুরি নিজের শখের বসেই মনের খোরাক যোগাতে এটি করে থাকেন।

    সময়ের সাথে সাথে সংখ্যায় যেমন কবুতর বাড়তে থাকে তেমনি বিভিন্ন জাতের কবুতর সংগ্রহ করাটাও নেশার মতোন হয়ে যায়। তবে একটা সময় পর্যন্ত এমন শখের কবুতর প্রেমীদের সংখ্যা বা আনাগোনা নির্দিষ্ট একটা জায়গার মধ্যে বিস্তৃত হলেও এখন এটির পরিমাপ বা আওতা বেশ বিশাল। নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে একই চিন্তা-ভাবনা এবং মানসিকতার মানুষদের যুক্ত হবার মধ্য দিয়ে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন এখন কবুতর প্রেমীদের ভরসা এবং আস্থার এক অন্য নাম।

    সেই সময় প্রধান উপদেষ্টা এডিশনাল ডি আই জি শফিকুল ইসলাম যিনি তার পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা থেকেও সময় বের করে কবুতরের প্রতি নিজের ভালোবাসার কারনে শুধুমাত্র মনের খোরাক যোগানোর জন্য বাংলাদেশের বেশিরভাগ পিজিয়ন ক্লাবের সাথে জড়িত আছেন, এবং তিনি আমাদের দেশের হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন সেক্টরের অভিভাবকতুল্য একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত। তিনিই প্রথমবারের মতো সরাসরি পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানি হাইফ্লাইয়ার কবুতর আমাদের দেশে নিয়ে এসেছিলেন। এই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদান অসামান্য। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোঃ ইমরান খান যিনি বর্তমানে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তার সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং উদ্যোগে ক্লাবটির ভিত্তি রচিত হয়েছিলো, এই ক্লাব শুরু করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য এবং তৎকালীন সেক্রেটারি জনাব জুবায়েদ রশীদ যিনি বর্তমানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে আছেন তার ভূমিকাও অপরিহার্য। একটি নতুন ক্লাব প্রতিষ্ঠা এবং সেটি সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য কমিটির নেয়া প্রতিটা সিদ্ধান্ত এবং সেটা সফলভাবে কার্যকর করার পেছনে তৎকালানীন সেক্রেটারি এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জুবায়েদ রশীদের যথেষ্ট শ্রম এবং প্রচেষ্টাও প্রশংসাযোগ্য। এছাড়াও এই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে সেই সময়ে মীর শান, শাফিন সরদার, আসিফ করিম, মোঃ মনির, সৈয়দ আল মামুন এবং নূর আলমের ত্যাগ এবং অবদান অনস্বীকার্য।

    তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন।

    এরপরে এই ক্লাবের সাথে যুক্ত হন ওস্তাদ মোঃ ইমরান খান। দুবাই প্রবাসী ওস্তাদ মোঃ ইমরান খানের অর্ন্তভুক্তি এই ক্লাবটিকে আরো গতিশীলতা এনে দিয়েছে। উল্লেখ্য ওস্তাদ মোঃ ইমরান খানও দেশে-বিদেশে বেশ কয়েকটি পিজিয়ন ক্লাবের সাথে জড়িত এবং দেশ-বিদেশে তার বেশকিছু সাগরেদ রয়েছে। যারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ভালো স্কোর লাভ করে নিজেদের দক্ষতা এবং সাফল্যের প্রমাণ রেখেছে। কাছাকাছি সময়ে এই এসোসিয়েশনে যুক্ত হন বর্তমানে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে এডিশনাল এসপি জনাব, আসাদুজ্জামান রুবেল। যিনি বেশকিছু এই রকমের ক্লাবের সাথে জড়িত আছেন এবং দেশের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে গৌরবের সাথে সবগুলোতেই সফলতার ছাপ রেখেছেন এবং তার ছত্রছায়ায় কবুতর প্রেমী বেশকিছু তরুণ সাফল্যের দেখা পেয়েছেন। তার অংশগ্রহণ ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। এই দুজনের অন্তর্ভূক্তি ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন কে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ক্ষেত্রে সফল এবং তাৎপর্যময় সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।


    একই সময়ে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহীন খান, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সানী এবং তৎকালীন প্রচার সম্পাদক মোঃ ফজলুল করীম যিনি বর্তমানে সহ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের কর্ম দক্ষতা, এই এসোসিয়েশনের প্রতি ভালোবাসা এবং সর্বোপরি এই ক্লাবের যাত্রাপথ আরো সুন্দর এবং তাৎপর্যপূর্ণ করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা খুব অল্প সময়েই দেশের অন্যতম সফল একটি পিজিয়নস ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন এসোসিয়েশনে ইসি মেম্বার হিসেবে বর্তমানে ২০ জন সদস্য আছেন। ২০২০-২০২২ পর্যন্ত কার্যনির্বাহী টিমে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে আছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জনাব শফিকুল ইসলাম। এডিশনাল এসপি আসাদুজ্জামান রুবেল, ওস্তাদ মোঃ ইমরান খাঁন। সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জুবায়েদ রশীদ, সহ- সভাপতি হিসেবে আছেন মোঃ ইমরান খান এবং শফিকুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন শাহীন খাঁন এবং সহ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ ফজলুল করীম এবং মোঃ জনি আহম্মেদ তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও আজিজুল সানি আছেন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছেন হাবিবুর রহমান। প্রিন্স সোহেল রানা হীরা আছেন অর্থ সম্পাদক হিসেবে, সহ অর্থ সম্পাদক হিসেবে আছেন ওমর ফারুক শোভন।

    ইসরাফিল আহম্মেদ ইচ্ছু দপ্তর সম্পাদক, নাজমুল হাসান সহ দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন৷ মামুনুর রশীদ ক্রিড়া সম্পাদক এবং মোঃ সোহেল রানা সহ ক্রিড়া সম্পাদক হিসেবে আছেন। প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন তন্ময় শান, সহ প্রচার সম্পাদক হিসেবে আছেন তুষার হোসেন। এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে আছেন মোঃ রনী। এদের সবার চেষ্টা, ভালোবাসা এবং পরিশ্রমের ফল হিসেবে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের কার্যক্রম আরো গতিশীলতা লাভ করেছে দিনকে দিন।

    ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন প্রতি বছর গ্রীস্মকালীন এবং শীতকালীন দুটি টূর্নামেন্টের আয়োজন করে আসছে। ২০১৯ সালে এটি ঢাকার গন্ডি পেরিয়ে তিনটি বিভাগের মধ্যে একটি থ্রিডি টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন করে। ঢাকা, সিলেট এবং চট্রগ্রাম বিভাগের মধ্যকার এই আয়োজন ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের সাফল্যের মুকুটে একটি পালক যুক্ত করে। ২০১৯ সালের এই টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়ার উদ্দেশ্য একটি বড় আকারে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। প্রায় দেড় শতাধিক অতিথিদের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো।

    ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার কাচ্চি বিরিয়ানি, বিভিন্ন রকল মজাদার পিঠা, টাঙ্গাইলের প্রসিদ্ধ চমচম ছিলো অনুষ্ঠানের খাদ্য তালিকায়। এছাড়া আমন্ত্রিত প্রত্যেক অতিথিকে ফুল এবং শীতকালে অনুষ্ঠিত হবার কারণে সুদৃশ্য মাফলার উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। প্রথম পুরস্কার একটি মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় পুরস্কার একটি ফ্রিজ এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি স্মার্টটিভি প্রদান করা হয়েছিলো। তিন বিভাগের এই টুর্নামেন্টে প্রথম পুরস্কার লাভ করেছিলেন ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহীন খান। এটি অবশ্যই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের জন্য একটি আনন্দ এবং গৌরবের মূহুর্ত নিয়ে এসেছিলো। এরপরেও তিনি বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, পুরস্কার হিসেবে যে ট্রফিটি প্রদান করা হয়েছিলো সেটি চায়না থেকে বিশেষ ভাবে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে আনা হয়েছিলো। এবং এটি দেশের হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন এসোসিয়েশন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্রফি হিসেবে গণ্য করা হয়।

    ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির কারণে টুর্নামেন্ট সীমিত আকারে আয়োজন করা হলেও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে।

    ঢাকার অভিজাত এলাকা ধানমন্ডিতে স্বনামধন্য রেস্টুরেন্ট বাফেট লাউঞ্জে সদস্য এবং অতিথি সব মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের আগমন ঘটেছিলো। আগের চেয়েও বড় এবং জমকালো এই আয়োজন অনুষ্ঠানে আসা প্রত্যকের কাছেই প্রশংসা পেয়েছে। দেশের হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন এসোসিয়েশনের ইতিহাসে এবারই প্রথমবার এতো বিশাল আয়োজনে পুরস্কার বিতরণ এবং ৭০টির বেশি আইটেম নিয়ে বাফেট ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিলো। এবারেও প্রতিটি অতিথিকে ফুলের মালা, দৃষ্টিনন্দন মাফলার এবং লোগো সম্বলিত ব্যাজ উপহার দেয়া হয়েছে।

    দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে এই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের সুনাম এবং কার্যক্রম এখন ভারত, নেপাল এবং দুবাইতেও ছড়িয়েছে। কলকাতায় ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাবের আয়োজনে ওয়ার্ল্ড পিজিয়ন ডে এবং তাদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো আমাদের দেশের ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনকে। ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাবের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উল্লাস মন্ডল এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বাপ্পীর আমন্ত্রণে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের তরফ থেকে প্রেসিডেন্ট জুবায়েদ রশীদ এবং সহ সাধারণ সম্পাদক জনাব ফজলুল করিম এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ওস্তাদদের উপস্থিতিতে ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাব তাদের আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনকে ক্রেস্ট এবং সম্মাননা জানিয়েছিলো সেদিন। ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন ও পিছিয়ে ছিলোনা, এই এসোসিয়েশনের তরফ থেকে জুবায়েদ রশীদ এবং ফজলুল করিম ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাব সহ প্রখ্যাত ওস্তাদ সারওয়ান. সিং ক্লার, ওস্তাদ জেমস লুইস, ওস্তাদ লনী আকরাম এবং ওস্তাদ নবাব কাদেরকে ক্রেস্ট, লোগো সম্বলিত টি-শার্ট উপহার এবং সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিলো।


    এবং কলকাতার সেই অনুষ্ঠানে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের তরফ থেকে জুবায়েদ রশীদ একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে দেশের জন্য সুনাম নিয়ে এসেছিলো। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার একটি ফ্রেন্ডশিপ টুর্নামেন্ট আয়োজন করার কথা রয়েছে। ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন এবং ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাবের তত্ত্বাবধানে দুইদেশের মধ্যকার কবুতর প্রেমীদের সাথে নিয়ে মাইলফলক গড়তে যাচ্ছে তারা তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

    ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের বিশেষ উপদেষ্টা ওস্তাদ মোঃ ইমরান খান দুবাইয়ের কিছু স্বনামধন্য হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাবের সাথে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাবের মধ্যকার ফ্রেন্ডশীপ টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটি সংঘটিত হলে দেশের হাইফ্লাইয়ার জগতে একটি বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশের হাইফ্লায়ার ক্লাবের জন্য সম্মানের সুবাতাস নিয়ে আসবে।

    নেপাল ন্যাশনাল ফ্লায়িং পিজিয়ন এসোসিয়েশনের আমন্ত্রণে ২০২০ সালে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে সহ সাধারণ সম্পাদক জনাব ফজলুল করীম নেপালে অনুষ্ঠিত একটি আয়োজনে উপস্থিত হয়েছিলেন। নেপালের এই বনাঢ্য সরকারী আয়োজনে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনকে সম্মাননা জানায় নেপাল ন্যাশনাল ফ্লায়িং পিজিয়ন এসোসিয়েশন। ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন ও নেপালের এই এসোসিয়েশনকে ক্রেস্ট প্রদান এবং সম্মাননা জানিয়েছিলো।

    ভিনদেশ হতে পাওয়া এই সম্মাননা স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের সদস্যদের মনোবল যেমন বাড়িয়েছে তেমনি ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করার ইচ্ছাটাকেও প্রসারিত করেছে। বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন দেশের এরকম হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ এবারই প্রথম। ভবিষ্যতে দুবাই, ভারত, এবং নেপালের সাথেও এরকম বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন করে বাংলাদেশের নাম আরো উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই ক্লাবের সদস্যগন।

    আগামী মার্চ থেকেই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে শুরু হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ কাপ-২০২১’। সেই উপলক্ষে এখন শেষ সময়ের প্রস্তুতি চলছে বেশ জোড়েসোরেই। আন্তর্জাতিক মান এবং নিয়মকানুন মেনেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে আমাদের দেশে এই প্রথমবারের মতো। এই টুর্নামেন্টে দেশের প্রায় সব পিজিয়ন ক্লাবের সংশ্লিষ্টতার লক্ষ্যে সর্বনিম্ন এন্ট্রি ফি এবং মিনিমাম পর্যবেক্ষক ফি রাখার জন্য সবার্ত্নক চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের ইসি মেম্বারগণ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সফলভাবে সম্মানজনক স্কোর লাভ করে এই এসোসিয়েশনের মুখ যেমন উজ্জ্বল করছে সামনের সময়েও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেই আশা করছেন এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে। আগামী মার্চের ১ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট চলছে সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত।


    সারাদেশ থেকেই প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করবে এই বিশাল আয়োজনে এবং টুর্নামেন্ট শেষে জমকালো আয়োজনে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করে পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

    এই উপলক্ষে ইতিমধ্যে সারাদেশের প্রায় ৪০টি পিজিয়ন ক্লাবকে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের তরফ থেকে সুদৃশ্য সম্মাননা ক্রেস্ট, লোগো সম্বলিত ব্যাগ, পর্যবেক্ষকদের জন্য একই লোগো সম্বলিত জার্সি, রেজাল্ট শীট এবং স্ট্যাম্প ও দুই রকম সিল প্রদান করা হয়েছে। আরো কিছু পিজিয়ন ক্লাবকে এই টুর্নামেন্টের আওতায় আনার প্রচেষ্টা বর্তমানে চলছে। সারাদেশের এই ক্লাবগুলোর সংশ্লিষ্টতায় ‘বাংলাদেশ কাপ-২০২১' একটি বিশাল পরিসরের টুর্নামেন্ট হিসেবে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট জনাব জুবায়েদ রশীদ। তিনি আরো বলেন- ‘সামনে নিজেদের এই ক্লাবটি নিয়ে আরো অনেক ভিন্নধর্মী এবং সুপরিকল্পিত প্ল্যান রয়েছে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের। আগামীতে দেশে বিদেশে হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব হিসেবে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস ক্লাবকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ক্লাব যেসব আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে সেই রকম ভাবেই এই ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে, যাতে শিগগিরই দেশের এই হাইফ্লাইয়ার ক্লাবটি সেই মান এবং স্ট্যান্ডার্ডে পৌছাতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের হাইফ্লাইয়ার ক্লাবের লিষ্টে শীর্ষস্থানে সুনামের সাথে এই ক্লাবকে প্রতিষ্ঠা করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।’

    দেশের সবচেয়ে বড় হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব হিসেবে অধিষ্ঠিত হবার লক্ষ্যে সামনের যাত্রা আরো সুন্দর এবং তাৎপর্যময় হবে যা দেশে বিদেশে আমাদের দেশের সুনাম এবং মর্যাদা আরো বাড়াবে এই কামনা রইলো।


    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com