• শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ , ৩ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ , ৩ বৈশাখ ১৪২৮

শারীরিক অক্ষমতা দমাতে পারেনি জাহিদুলকে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত : বুধবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২১, ১০:০৬

  • শারীরিক অক্ষমতা দমাতে পারেনি জাহিদুলকে

    শারীরিকভাবে অক্ষম জাহিদ। হুইল চেয়ারে করে চলাফেরা করেন। তবে বুকে আছে অদম্য সাহস। এই সাহস দমিয়ে রাখতে পারেনি ২২ বছরের জাহিদুল ইসলাম পলাশকে।


     এক পা নেই, অপর পাও অচল। তবুও জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে অপরাজিত সৈনিক সে। হুইলচেয়ারে করেই করছেন ডেলিভারির কাজ।বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন অনলাইন খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খাবার।

    রাজধানীর কাজলার ধরমপুর পশ্চিম পাড়ায় বাড়ি জাহিদের।

    বাবা নাজির আলি একজন রিকশাচালক। মা জানেহার বেগম গৃহিনী। তিন ভাইয়ের মাঝে পলাশ দ্বিতীয়।

    ১৯৯৮ সালে পলাশের জন্ম। জন্মের পরে অবশ্য সুস্থ-সবল ছিলো পলাশ। আর ১০ জনের মতোই বেড়ে উঠেছিলেন। ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর একটি দুর্ঘটনায় সব নষ্ট হয়ে যায় তার। নগরীর কাজলায় বৈদ্যুতিক তার খসে পড়ে তার গায়ের ওপর।

    জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করেন ঢাকার একটি হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে।

    বাম পায়ের হাড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না তখন। 

    অন্যদিকে দেখেন ডান পায়ের তিনটা আঙ্গুল আর রগ নেই। শরীরের সাথে থাকলেও ডান পা আর কাজ করছে না। ঘাড়ের ওপরে রয়েছে প্লাস্টিক সার্জারি। তারপর থেকেই শুরু হয় হুইলচেয়ারের জীবন।

    পলাশ জানান, সপ্তাহ দুয়েক হলো ফুডপান্ডার রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। ফাঁকা সময়ে তিন বেলা খাবার ডেলিভারির কাজ করেন । নির্ধারিত জোনের ২০০-৫০০ ফিটের মধ্যে প্রতি খাবার সরবারহের জন্য পান ২২ টাকা। বাইরে যেতে হলে প্রতি কিলোমিটারে যোগ হয় আরও দুই টাকা।

    এভাবে করে ডেলিভারি প্রতি ২২-৩২ টাকা পর্যন্ত পান জাহিদুল।

    পলাশ গণমাধ্যমকে জানায়, ফুডপান্ডায় ৩ ঘণ্টা ও ৬ ঘণ্টা করে কাজের শিফট থাকে তার। নিজের শারীরিক অক্ষমতার কারণে অনেক শিফট ধরতে পারে না। তখন আবার অন্য কারো শিফটে কাজ করেন। গত দুই সপ্তাহে তার আয় হয়েছে ১,৪০০ টাকা।


    ঢাকার দেওয়ানপাড়াস্থ মেট্রোপলিটন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছেন জাহিদুল। ভালো একটা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে লেখাপড়া করতে চায় সে। সেজন্য কষ্ট করে টাকা জমাচ্ছেন।

    পলাশ জানান, আমার বাবার রিকশা চালানোর আয়ে কোনোরকমে সংসার চলে।

    নিজেকে আরও আত্মনির্ভরশীল করতে আর্থিক যাতে বাধা না হয় তাই ফুডপান্ডায় কাজ শুরু করেছি।

    পলাশের অসাধারণ ক্রীড়া দক্ষতাও রয়েছে। বাংলাদেশ হুইলচেয়ার স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত খেলোয়াড় সে। ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ২০১৯ সালে জাতীয় ডার্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন এই সংগ্রামী তরুণ।

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com