আজ শনিবার, ১০, ডিসেম্বর ২০২২

| কাল
১২ঃ ৪২ঃ ০৫ |

Logo
সর্বাধিক পঠিত | সর্বশেষ | গ্যালারী |

অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র 'জয়ল্যান্ড' যে কারণে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক :

প্রকাশ: সোমবার ১৪ নভেম্বর, ২০২২ - ০৬:৩৫ পিএম

পাকিস্তানি পরিচালক সাইম সাদিকের পাকিস্তানি চলচ্চিত্র ‘জয়ল্যান্ড' অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। ‘জয়ল্যান্ড’ অস্কারজয়ের দৌড়ে থাকলেও তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে পাকিস্তানেই। নিজের দেশে এই ছবি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাকিস্তানে ১৮ নভেম্বর ‘জয়ল্যান্ড’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মুক্তির কয়েক দিন আগেই দেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয় পাকিস্তানের ১১ টি রাজ্যে ছবিটি নিষিদ্ধ করে। গেল ৬ অক্টোবর পাকিস্তানে এই ছবির বিশেষ প্রদর্শনী হয়। তার আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছিল। বস্তুত, এই ছবির হাত ধরেই কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাকিস্তানের অভিষেক হয়।
২০২৩ সালের অস্কারের মঞ্চেও আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তান পা রাখছে ‘জয়ল্যান্ড’-এর হাত ধরে। ২০২৩ একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্যের এই ছবি। আন্তর্জাতিক স্তরে সাইম সাদিকের ‘জয়ল্যান্ড’ যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন বিতর্কের কেন্দ্রে এই ছবি? কি কারণে পাকিস্তানের ১১টি রাজ্যে ‘জয়ল্যান্ড’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে?

জানা যায়, পাকিস্তান সরকার গত ১৭ আগস্ট ‘জয়ল্যান্ড’ ছবিটিকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কালে ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক ওঠে। নতুন করে কোনও অশান্তি যাতে তৈরি না হয়, তার জন্যই মূলত ছবিটি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে সরকার।

পাকিস্তান সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, ছবিটির বিষয়বস্তু ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’। মূলত এই ছবিতে পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে আক্রমণ করা হয়েছে। বেআব্রু করে দেওয়া হয়েছে সমাজে পিতৃতন্ত্রের জুলুম। সেটা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

‘জয়ল্যান্ড’ ছবিতে রয়েছে একটি সাধারণ পরিবারের কাহিনি, পিতৃতন্ত্রই যেখানে শেষ কথা। সে পরিবারের কর্তা এবং বাকি সদস্যরা পুত্রসন্তানের জন্মের জন্য হা করে বসে থাকেন। কিন্তু তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়ার আগেই পরিবারে নেমে আসে অন্য ‘বিপর্যয়’।

লাহোরে বসবাসরত পরিবারটির বাবা হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন। নিজের দুই ছেলে এবং পুত্রবধূদের কড়া শাসনে রাখেন তিনি। পুত্রসন্তান চেয়ে ছেলেদের চাপও দেন নিয়মিত। গোটা পরিবারে তিনিই শেষ কথা। তার শাসনে পরিবারের বাকি সদস্যরা ভয়ে ভয়ে থাকেন সারাক্ষণ। এই পরিবারের ছোট ছেলে হায়দার। তাকে নিয়েই ঝামেলার সূত্রপাত। তিনিই এই ছবির নায়ক। তিনি হঠাৎ এক রূপান্তরকামীর প্রেমে পড়েন। হায়দার এবং সেই রূপান্তরকামী বিবার সম্পর্কের সূত্র ধরেই সামনে এগিয়ে যায় কাহিনি।

রূপান্তরকামী বিবা নৃত্যশিল্পী। তার সঙ্গে নেপথ্যশিল্পী হিসাবে নাচতেন হায়দার। সেই সূত্রেই দু’জনের পরিচয়। বিবার সঙ্গে থাকতে থাকতে তার প্রেমে পড়ে যান হায়দার। হায়দারের এই প্রেমের খবরে তার কট্টরপন্থী পরিবারে যেন বাজ পড়ে। বাবার চোখরাঙানি, পরিবারের বাকি সদস্যদের কটাক্ষ পাশ কাটিয়ে হায়দার আর বিবার প্রেম কি পূর্ণতা পাবে? সেই গল্পই বলে ‘জয়ল্যান্ড’।

এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে হায়দারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আলি জুনেজো। তার বিপরীতে বিবার ভূমিকায় রয়েছেন আলিনা খান। দু’জনেই পাকিস্তানের চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় তারকা। এ ছাড়া এই ছবিতে রয়েছেন রাস্তি ফারুক, সরওয়াত গিলানি, সালমন পীরজ়াদা, সোহেল সমীর এবং সনিয়া সাইদের মতো পাকিস্তানি তারকা। ছবির এই চরিত্রায়ন ‘জয়ল্যান্ড’-কে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

প্রত্যেক শিল্পীই ছবিতে নজরকাড়া অভিনয় করেছেন বলে দাবি। তাদের অভিনয় দক্ষতায় আরও জীবন্ত হয়েছে ছবির বিষয়বস্তু।

পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবিতে এটাই পরিচালক হিসাবে সাইম সাদিকের অভিষেক। এর আগে ২০১৯ সালে তিনি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি তৈরি করেছিলেন। সেই ছবি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিল। এ বার তার প্রথম ছবি জায়গা করে নিয়েছে অস্কারের মঞ্চে। কিন্তু ছবিটি ঘিরে বিতর্ক থামছে না। ১১ নভেম্বর পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘‘এই ছবির বিষয়বস্তু অত্যন্ত আপত্তিকর। তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। ১৯৭৯ সালের মোশন পিকচার অর্ডিন্যান্সের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী শালীনতা এবং নৈতিকতার স্বাভাবিক নিয়মেরও পরিপন্থী এই ছবি।’’

সাদিকের ছবির বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন পাকিস্তানের ধর্মীয় কট্টরপন্থী, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ জনগণের একাংশ। তাদের দাবি, ছবিটি ইসলাম-বিরোধী। পাকিস্তান একটি ইসলাম ধর্মাবলম্বী দেশ, তাই এখানে ইসলামের বিরুদ্ধে কোনও কিছুকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। তবে ছবিটিকে নিষিদ্ধ করার পর সরকারের সমালোচনা করছেন পাকিস্তানের বহু অভিনেতা, চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ। ফেসবুক-টুইটারেও পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা চলছে।


সর্বমোট শেয়ারঃ ১০০
Facebook Twitter WhatsApp Messanger
আমাদের অ্যাপ

স্বত্ব © ২০২২ বার্তাজগৎ২৪ Design & Developed By softicode