আজ শনিবার, ১০, ডিসেম্বর ২০২২

| কাল
১২ঃ ২৪ঃ ২৩ |

Logo
সর্বাধিক পঠিত | সর্বশেষ | গ্যালারী |

গণপূর্তের প্রকৌশলী বিএনপি নেতার ছেলে চুন্নুর ক্ষমতার উৎস কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার ১৭ নভেম্বর, ২০২২ - ০৩:০৫ এএম

বাবা বিএনপির পদধারী নেতা হলেও নিজে আওয়ামী লীগের লেবাস লাগিয়ে গণপূর্ত অধিদফতর চষে বেড়াচ্ছেন মিরপুর বিভাগের প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নু। বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে গিয়েছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইফুজ্জামান চুন্নুর বাবা আব্দুস সালাম মৃধা পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য। সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ৫ নং কমলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সাইফুজ্জামান চুন্নুর বাবা আব্দুস সালাম মৃধা ৫ নং কমলাপুর ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন৷ বাবার নির্বাচনে ছেলে সাইফুজ্জামান চুন্নু কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছেন বলে এলাকা সূত্রে জানা যায়। এলাকার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকলেও ঢাকাতে চুন্নু বড় আওয়ামী লীগার।

গণপূর্ত অধিদফতরের পিয়ন থেকে প্রকৌশলী যেকোন বদলির পেছনে চুন্নুর সংশ্লিষ্টতা এখন প্রকাশ্যে। যদিও চাকরি জীবনের শুরুতে তিনি এতটা দাপুটে ছিলেন না। জানা যায়, সাইফুজ্জামান চুন্নুর ক্ষমতার প্রদীপ জ্বলতে শুরু করে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে চাকরি কালীন সময় থেকে। গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি ময়মনসিংহে। এই সুযোগ কাজে লাগায় সাইফুজ্জামান চুন্নু। ময়মনসিংহে চাকরি কালীন সময়ে মন্ত্রীর আশেপাশের লোকজনের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে চুন্নু। এরপর কৌশলে নাম লেখান মন্ত্রীর আপনজনের খাতায়। এ সময় চুন্নু পেয়ে যান সৌরভ নামের মন্ত্রীর এক ভাগনেকে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন সাইফুজ্জামান চুন্নু। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেও জানা গেছে। চুন্নুর দাপটে তার এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোনঠাসা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৫ নং কমলাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে চুন্নু তার বাবাকে জেতাতে লোকজন দিয়ে নৌকার প্রার্থীর ক্যাম্প ভাঙচুর এবং ভোট কেন্দ্র থেকে নৌকার এজেন্টকে মারধর করে বের করে দেয়৷

একজন উপ সহকারী প্রকৌশলী জানান, শুধু আমরা কেন, প্রকৌশলীরাও বর্তমানে চুন্নু আতঙ্কে রয়েছেন৷ বদলি আতঙ্কের অপর নাম চুন্নু। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চুন্নু এই বদলি বাণিজ্যে করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। চুন্নুর সাথে কোন প্রকৌশলীর মতের অমিল হলেই তার বদলি নিশ্চিত। যে কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না৷

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, সদ্য অবসরে যাওয়া গণপূর্তের সচিব শহিদুল্লাহ খন্দকারের কারণে চুন্নু ঠিকমত তার বদলি বাণিজ্য করতে পারছিলেন না৷ কিন্তু শহিদুল্লাহ খন্দকার অবসরে যাওয়ার পর ধরাকে সরা জ্ঞান করছে না চুন্নু। সারাদিনে মাত্র দু-এক ঘন্টা অফিস করেন তিনি। বাকি সময় তাকে দেখা যায় প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় অথবা সচিবালয়ে। সচিবালয় হয়ে উঠেছে চুন্নুর দ্বিতীয় অফিস।

শুধু বদলি বাণিজ্য নয়, নিজের পছন্দমতো ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতেও চুন্নু সিদ্ধহস্ত। নির্ধারিত কমিশনের বিনিময়ে চুন্নু নিদিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন। এভাবেই চুন্নু গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় নামে বেনামে কিনেছেন কয়েকটি ফ্লাট। বনানীর ২৫ নম্বর রোডস্থ ৩১/এ বাড়ির ৫-বি ফ্লাট, গুলশানে ২ টি ও ধানমন্ডিতে একাধিক ফ্লাটের মালিক তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরপুরের এক ঠিকাদার বলেন, চুন্নু বিএনপির বড় বড় নেতার সাথে কৌশলে যোগাযোগ রাখে। এমনকি বিএনপির অনেক নেতাকে সে নগদ টাকা পয়সা এবং কাজ দিয়ে সহযোগিতা করে। অথচ আমরা রাজনীতি করি৷ দল ক্ষমতায়, তার কাছে গিয়ে কথাও বলতে পারি না।

এ বিষয়ে কথা বলতে সাইফুজ্জামান চুন্নুকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সর্বমোট শেয়ারঃ ১০০
Facebook Twitter WhatsApp Messanger
আমাদের অ্যাপ

স্বত্ব © ২০২২ বার্তাজগৎ২৪ Design & Developed By softicode