• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ , ১ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ , ১ বৈশাখ ১৪২৮

কোনপথে কেআইবি! গঠনতন্ত্র উপেক্ষা

মোল্লা আনিসুর রহমান (আনিস)
প্রকাশিত :রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২১, ১২:৩১

  • কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ

    দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের ফাঁদে ফেলে আটকে রাখা হয়েছে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) নির্বাচন। গঠনতন্ত্রে প্রতি দুইবছর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমান নির্বাচন কমিশন এই নিয়ম মানছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত কোন প্যানেল নির্বাচনে অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছালেহ আহমদ-মোয়াজ্জেম হোসেন প্যানেল ও অধ্যাপক নিতীশ চন্দ্র দেবনাথ-খাইরুল আলম প্রিন্স প্যানেল অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নানা অনিয়ম- ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি, পোলিং অফিসারদের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন সহ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশগত কারণে মহানগর কমিটির সভাপতি প্রার্থী কৃষিবিদ ড. আজিজুল ইসলাম উপযুক্ত বিষয়গুলো উল্লেখপূর্বক অভিযোগ তুলে আদালতে রিট আবেদন করলে আদালত নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাচন স্থগিত করার আদেশ দেন।


    ২২ নভেম্বর ২০১৮ (বৃহস্পতিবার) রাতের আঁধারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট অবসরপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা ও কেআইবি নির্বাচন কমিশনের সদস্য কৃষিবিদ মজিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সম্পাদক সারোয়ার মোর্শেদ জাস্টিস, বাকৃবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি এম আনোয়ারুল হকসহ অনেকের ওপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের অনুসারীরা। এমনকি ওই সময় সারোয়ার মোর্শেদ জাস্টিসের ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ওই বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছিল যা এখনও বিচারাধীন। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের অনিয়মের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেয়া হয়েছে অনেক আগেই।

    এ বিষয়ে মহানগর কমিটির তৎকালীন সভাপতির প্রার্থী কৃষিবিদ ড. আজিজুল ইসলাম বলেন, তখন নির্বাচন কমিশনের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি আদালতে মামলা করেছিলাম৷ আদালত তখন নির্বাচন স্থগিত করার আদেশ দিয়েছিল। পরবর্তীতে আমি মামলা তুলে নিয়েছি৷ অথচ নির্বাচন কমিশন গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে এখনও নির্বাচন দিচ্ছে না।


    এবিষয়ে গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, যদি অনিবার্য কারণবশত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, কাউন্সিলর ও শাখাসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে না পারে, তাহলে ইসি নির্বাচনের একটি নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে, তবে কোন অবস্থাতেই তা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, কাউন্সিলর ও শাখাসমূহের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে ৯০(নব্বই) দিন অতিক্রম করবে না। এক্ষেত্রে বিদ্যমান কমিটি নির্বাচনের ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সাংগঠনিক কর্মকা- চালিয়ে যাবে। এমনকি জাতীয় দুর্যোগ ও দুর্বিপাকের কারণে ৯০ (নব্বই) দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে না পারে তাহলে জরুরি সাধারণ সভায় গঠিত ৫(পাঁচ) সদস্যের একটি আন্তর্বর্তীকালীন কমিটি পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সাপেক্ষে নৈমিত্তিক কর্মকা- পরিচালনা করবে এবং নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।

    এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. হামিদুর রহমান বলেন, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কৃষিবিদদের অত্যান্ত মর্যাদাপূর্ণ পেশাজীবি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি তার গঠনতান্ত্রিক অঙ্গিকার ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক এবং প্রতিষ্ঠানটি তার জন্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করুক।



    তিনি আরো বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ২ একর সরকারি জমি বরাদ্দ দিয়ে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি একটি ইনস্টিটিউশন ভবন নির্মাণ করেছেন কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্য ও সম্প্রচার ইত্যাদি চর্চার একটা প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার জন্য। সেই ইনস্টিটিউশনটি একটি কমিউনিটি সেন্টারে পরিণত হবে- যা কোন কৃষিবিদেরই কাম্য নয়। ইনস্টিটিউশন ভবনটি যেন অপেশাদার বা অপেশাজীবি কতিপয় লোকের কুক্ষিগত হয়ে সেখানে শুধু কমিউনিটি সেন্টারের চর্চা হবে এটা কোন কৃষিবিদই চায় না। যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই হবে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনকে বাঁচানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ।

    দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়া এবং গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার কৃষিবিদ নজরুল ইসলামকে তার মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি এবিষয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি হননি এবং পরবর্তীদিন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে যেতে বলেন। অবশ্য নির্ধারিত দিনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলতে তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এর সহ সভাপতি চৈতন্য কুমার দাশ, সদস্য নজরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন নিদিষ্ট সময়ের পর এই কমিটির অগঠনতান্ত্রিক কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে না বলেও জানা গেছে। 


    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com