আজ সোমবার, ২৮, নভেম্বর ২০২২

| কাল
০৬ঃ ৪০ঃ ৫৫ |

Logo
সর্বাধিক পঠিত | সর্বশেষ | গ্যালারী |

দিনাজপুরে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর হাল

এনামুল মবিন(সবুজ), জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর:

প্রকাশ: রবিবার ২০ নভেম্বর, ২০২২ - ০২:৩৫ পিএম

দিনাজপুরে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘গরুর হাল'। "সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, দেশ মাতারই মুক্তিকামী দেশের সে যে আশা” এমনটাই লিখেছিলেন কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরানী তার ‘চাষী’ কবিতায়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিনাজপুর জেলা উপজেলা গুলোতে এই কবিতার সাথে বাস্তবতার কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। জমি চাষের কাজে কৃষকেরা এক সময় কাঠের তৈরী লাঙ্গল, জোঙ্গাল, মই ও গরুর হাল ব্যবহার করতো। ফসলি জমিতে চাষাবাদের জন্য এসব কৃষি উপকরণ হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার করে এসেছে কৃষকরা। এক সময় গরুর হাল নিয়ে ছুটে চলতেন গ্রাম বাংলার কৃষকেরা। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে যুবোগ ও মধ্যবয়সীসহ সবাই গরুর হাল নিয়ে বের হতেন জমি চাষের জন্য। গরুর হাল নিজের জমি চাষের পাশাপাশি ব্যবহার হতো বিভিন্ন লোকের জমি চাষের কাজে কিন্তু আধুনিকায়নে বিভিন্ন হাল চাষের গাড়ী এলাকা জুরে ভরপুর। কালের বিবর্তনে প্রায় বিলুপ্তির পথে একমাত্র উৎসরত ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল।

চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, সেই সময়ে গরুর হালের লাঙ্গল জোঙ্গাল বেচাকেনার ও মেরামতের জন্য হাট বাজারে দোকান বসত। আবার অনেকে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে গরুর হালের লাঙ্গল জোঙ্গাল মেরামত করতেন। এখন আর গরুর হাল ব্যবহার না করার কারণে গরুর হালের মিস্ত্রীদের তেমন দেখা যায় না।

উপজেলার ৩নং ফতেজংপুর এলাকার টেপু বলেন, আগের দিনে গরুর হাল ছাড়া জমি চাষ করার কোন উপায় ছিলনা। এখন অনেক কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের কৃষি কাজের গাড়ি বের হওয়ায় আর গরুর হাল প্রয়োজন হয় না কৃষকদের।

সাংবাদিক এনামুল মবিন (সবুজ) বলেন, আগে প্রতিদিন সকাল হলে দেখা যেতো গরুর হাল। অনান্য কোন জমি চাষের যান্ত্রিক মেশিন পাওয়া যেত না। এখন ঘরে থেকে বেরহলে পাওয়ার টিলার, ট্রাকটর ইত্যাদি পাওয়া যাওয়ার কারণে গরুর হাল কৃষকের তেমন প্রয়োজন হয় না। আগের দিনে কৃষকেরা সকালে গরুর হাল নিয়ে বের হতো আর ফিরতো সন্ধ্যায়। সময়ের পরিবর্তনে এক সময় গরুর হাল দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না গরুর হালের ইতিহাস।

উপজেলার হাশিমপুর গ্রামের গরুর হালের লাঙ্গল জোঙ্গাল মেকার জানায়, আগের দিনে নিজের হাতে অনেক গরুর হালের লাঙ্গল জোঙ্গাল মেরামত করেছি। এখন কার সময়ে বাড়ি বাড়ি লাঙ্গল জোঙ্গাল থাকলেও তা কেউ ব্যবহার করে না। কেউ এসব মেরামতের কাজ‌ও করায় না যার কারণে এই পেশা ছাড়তে হয়েছে। এখন দিন বদলাইছে কালের পরিবর্তনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল হারিয়ে গেছে বলেই মনে করি।

যান্ত্রিকতার দাপটে ঐতিহ্যের বাহক এসকল কৃষি উপকরণ কতদিন কৃষকের ঘরে টিকে থাকবে তা কেবল ভবিষ্যতই বলতে পারে।

সর্বমোট শেয়ারঃ ১০০
Facebook Twitter WhatsApp Messanger
আমাদের অ্যাপ

স্বত্ব © ২০২২ বার্তাজগৎ২৪ Design & Developed By softicode